মাত্র ৯৬ রান তাড়া করতে গিয়ে নাকানিচোবানি খেতে হল ভারতকে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৯৫-৯ (পোলার্ড ৪৯, পুরান ২০, সাইনি ৩-১৭)

ভারত: ৯৮-৬ (রোহিত ২৪, পাণ্ডে ১৯, নারিন ২-১৪)

ফ্লোরিডা: তিন বছর আগে এই মাঠেই একই দলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে প্রায় আড়াইশো রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে দুর্দান্ত লড়াই করা সত্ত্বেও মাত্র কয়েকটি রানের জন্য ভারত হেরে যায়। সেই হারের যন্ত্রণা এ বার মিটিয়ে নিল বিরাটবাহিনী। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেও ভারত যে এ ভাবে নাকানিচোবানি খাবে সেটা কার্যত ধারণার বাইরে ছিল। গোটা ম্যাচে দুশো রানও উঠল না, কিন্তু পড়ল ১৫ উইকেট।

অথচ তিন বছর আগের পরিস্থিতিই এই ম্যাচেও ছিল। টস হেরে প্রথম ব্যাট করছে ক্যারিবিয়ানরা। ক্রিজে ইভিন লুইসের মতো ব্যাটসম্যান যিনি সেই ম্যাচে শতরান করেছিলেন। অপর দিকে রয়েছেন জন ক্যাম্পবেল, যাঁর মধ্যে ক্রিস গেল হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু শুরুতেই চাপে পড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়াশিংটন সুন্দরকে হঠাৎ করে বাউন্ডারির বাইরে ফেলতে চাইলেন ক্যাম্পবেল, কিন্তু ধরা পড়লেন বাউন্ডারি লাইনের ঠিক ধারে। ব্যাস সেই যে তাল কেটে গেল ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পরের ওভারেই লুইসকে ফেরান ভুবনেশ্বর। এরই মধ্যে উদয় হল নবদীপ সাইনির। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম ওভারেই দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরান তিনি। এর পরের ওভারেই যখন খলিল আহমেদকে খোঁচা মেরে ফিরলেন রভম্যান পাওয়েল, তখনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্য মোটামুটি নির্ধারিত হয়ে যায়।

আরও পড়ুন অবশেষে অ্যালেস্টার কুকের উত্তরসূরি পেল ইংল্যান্ড

এক দিকে যখন পরের পর ব্যাটসম্যান ফিরে যাচ্ছেন তখন অন্য দিকটা ধরে রেখেছিলেন কায়রন পোলার্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষের দিকে কিছু একটা স্কোর যে খাড়া করল, সেটা ওই পোলার্ডের সৌজন্যেই হল। তিনি না থাকলে ৫০-এও শেষ হয়ে যেতে পারত তারা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে শিখর ধাওয়ানকে হারায় ভারত। কিন্তু বাকিরাও যে এ ভাবে ব্যর্থ হতে পারে আন্দাজ করা যায়নি। মাত্র ৯৫ রান তাড়া করতে নেমে ভারত যে ভাবে নাকানিচোবানি খেল, তা কার্যত ভাবাই যায় না। বোঝাই যায় টি২০’র আদর্শ পিচ এটি ছিল না।

যদিও এত কম রান ছিল যে, ধাওয়ানকে হারিয়েও বিশেষ বিপদে পড়ার কথা ছিল না। কিন্তু ভারতের রান তাড়ারও তাল কেটে যায় হঠাৎ করে, যখন দ্রুত ফিরে যান রোহিত শর্মা এবং ঋষভ পন্থ। দু’জনকেই ফেরান সুনীল নারিন। মনীশ পাণ্ডে এবং বিরাট কোহলির মধ্যে একটা জুটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পাণ্ডের মধ্যে দিয়ে সেই জুটিটা ভাঙতেই আবার উইকেট। ৭০ রানের আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বেলাইন হয়ে যায় ভারত।

জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছোনোর ঠিক আগে আরও একটি উইকেট খোয়ায় ভারত। তা সত্ত্বেও ভারতকে স্বস্তি এনে দেয় ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাট। ম্যাচ জিতলেও স্কোরলাইন যে ভারতকে স্বস্তিতে রাখবে না তা বলাই বাহুল্য।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.