ব্যাট-বল হাতে জ্বলে উঠলেন দুই অভিষেককারী, ভারতের দাপুটে জয়

0

ভারত ৩১৭-৫ (শিখর ৯৮, রাহুল ৬২ অপরাজিত, স্টোক্স ৩-৩৪)

ইংল্যান্ড ২৫১ (বেয়ারস্টো ৯৪, রয় ৪৬, শার্দূল ৩-৩৭)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: মঙ্গলবার পুনেতে স্বপ্নের অভিষেক হল দুই ভারতীয় ক্রিকেটারের। একজন ব্যাট হাতে সাংঘাতিক প্রভাবশালী একটা ইনিংস খেলে গেলেন তো অন্যজন বল হাতে নিজের জাত চেনালেন। এই দু’জনের প্রভাবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় পেল ভারত।

ভাইয়ের হাত থেকে ভারতীয় দোলের টুপিটা নিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন ক্রুনাল পাণ্ড্য। সেই ক্রুনালই কিন্তু এই ম্যাচে ভারতের স্কোরের মধ্যে একটা বড়ো পার্থক্য করে দিলেন। গত সপ্তাহে একদিনের সিরিজের দল ঘোষণা হওয়ার সময়ে ক্রুনালের নাম দেখে অনেকেই নাক সিটকেছিলেন। তাঁদের সকলকেই মুখের ওপরে জবাব দিলেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই প্রায় দুশো স্ট্রাইকরেট রেখে ঝোড় ইনিংসে অর্ধশতরান, অতীতে কেউ কখনও করেছে কি না জানা নেই।

তবে শুধু ক্রুণালই নয়, এই ম্যাচে পাপস্খলন করলেন কেএল রাহুলও। টি২০ সিরিজে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয় ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া রাহুল এ দিন টি২০-এর মেজাজেই ব্যাট করে গেলেন। এঁদের দু’জনের দাপট ভারতীয় ইনিংসের শেষ ৫৭ বলে ১১২ রান করল ভারত। যে স্কোরটা মনে হচ্ছিল ২৮০-তেই আটকে যাবে, সেটাকেই ৩২০-এর কাছাকাছি পৌঁছে দিলেন রাহুল আর ক্রুনাল।

মঙ্গলবার অবশ্য ভারতের পুরো ব্যাটিংটাই ক্লিক করে গিয়েছে। তবে শুরুর দিকে রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ানকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলছিলেন ইংরেজ পেসাররা। কিন্তু সেই দাপট সামলে এগোতে থাকে ভারতের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ায় একদিনের সিরিজে তিনি যে ফর্মে ছিলেন, এ দিনও সেই ফর্মেরই ঝলক দেখালেন শিখর ধাওয়ান। তবে নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা মনে করবেন রোহিত শর্মা। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বড়ো রান পেলেন না তিনি।

এ দিকে নিজের মানদণ্ডটা এতটাই অপরের দিকে নিয়ে চলে গিয়েছেন বিরাট কোহলি যে অর্ধশতরান করে আউট হয়ে গেলেও সেটা এখন বিরাটের অফফর্ম হিসেবেই গণ্য হবে। ৫৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেও তাঁর শতরানের খরা যে চলছে, সেটাই এখন বিরাটের জন্য হেডলাইন।

খুব ভালো খেলছিলেন শিখর। বিরাটকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় দলের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুর্দান্ত ভাবে। কিন্তু পর পর বিরাট আর শ্রেয়স আইয়ারের উইকেট শিখরের মনোযোগকেও নাড়িয়ে দেয়, আর তাই মাত্র দু’রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন তিনি।

ক্রুনাল আর রাহুল যখন ক্রিজে একসঙ্গে মিলিত হন, তখন দলের স্কোর ৪০.৩ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২০৫। এখান থেকে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন ক্রুনাল, একার হাতে। প্রথমে কিছুটা ঝিমিয়ে ছিলেন রাহুল। সেই সুযোগে দুরন্ত বেগে নিজের ইনিংস এগোতে থাকেন ক্রুনাল। এর পর রাহুল আর ক্রুনাল মিলে শেষ পাঁচ ওভারে ইংল্যান্ডের ওপরে কার্যত দাপিয়ে বেড়ান, ৬৭ রান তুলে।

এ দিকে ভারতের বোলিং কিন্তু এক্কেবারেই ভালো শুরু হয়নি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কেন ইংল্যান্ডের দাপট অনেক বেশি, সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। শুরু থেকেই সাড়ে ৮, ৯-এর কাছাকাছি রানরেট রেখে ভারতীয় বোলারদের ঠেঙিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ওপেনার। সব থেকে বেশি মার খেয়েছেন শার্দূল ঠাকুর এবং অভিষেককারী প্রসীদ কৃষ্ণ। একার হাতেই কার্যত ম্যাচ বের করে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন রয় এবং বেয়ারস্টো।

১৫ ওভারের আগেই দুই ওপেনার মিলে ১৩৫ রান স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেছিলেন। তখন শুধু একটাই রাস্তা খোলা রয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল। আন্দাজও করা যায়নি যে পরিবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ঠিক কী হতে চলেছে!

প্রসীদই ইংল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কাটা দেন রয়কে ফিরিয়ে। এ দিন ভারতের হয়ে অভিষেককারীরাই দুরন্ত প্রভাব ফেলে যান। প্রথমে ব্যাট হাতে ক্রুনাল পাণ্ড্য দুরন্ত ইনিংস খেলেন, আর তার পরেই বল হাতে প্রসীদ। রয় ছাড়াও প্রসীদের শিকার হন বেন স্টোক্স এবং ওইন মর্গ্যান। এ দিকে শতরানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে দেন শার্দূল ঠাকুর।

জস বাটলার প্যাভিলিয়নে ফিরতেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ভারত। রানরেট যথেষ্ট ভালো থাকলেও ব্যাটসম্যানের অভাব ছিল ইংল্যান্ডের। তাই কোনো মতেই ভারতের রানটা তাড়া করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। তবুও যতক্ষণ মঈন আলি ছিলেন, ইংল্যান্ডের একটা আশা ছিল। কিন্তু তাঁরও সঙ্গীর অভাব হচ্ছিল। দলের ইনিংসকে কতোই বা টেনে নিয়ে যেতে পারতেন তিনি।

শেষে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ২৫১ রানে। অর্থাৎ, মাত্র ১১৫ রানে দশটা উইকেট হারাল তারা। বড়ো জয় পেয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন