বাংলাদেশ: ১০৬ ও ১৯৫ (মুশফিকুর ৭৪, মেহমুদুল্লাহ ৩৯, উমেশ ৫-৫৩)

ভারত: ৩৪৭/৯ ডিঃ

Loading videos...

কলকাতা: যে আশঙ্কাটা করা হয়েছিল সেটাই ফলে গেল। অর্থাৎ, তৃতীয় দিনের আলো জ্বলে ওঠার আগেই শেষ হয়ে গেল ইডেনের ঐতিহাসিক গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ। বাংলাদেশের ওপরে বুলডোজার চালিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলল ভারত।

সেই সঙ্গে রেকর্ড বইয়ে ঢুকে গেল বিরাটবাহিনী। এক দিকে পর পর সাতটা টেস্ট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড তো হলই, কিন্তু তার থেকেও বড়ো রেকর্ড হল যে এই প্রথম টেস্টে কোনো দল পর পর চারটে টেস্ট ইনিংসে জিতল।

অবশ্য তৃতীয় দিনে যে ম্যাচটা গড়াল, তার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয় মুশফিকুর রহিমকে। শনিবার ইডেনের সন্ধ্যায় ভারতীয় পেস-তাণ্ডবটা তিনি না সামলাতে পারলে, আরও বেশি লজ্জার মুখমুখি হত বাংলাদেশ। রবিবার খেলার শুরু থেকেও ব্যাট চলছিল মুশফিকুরের। ইডেনে তাঁর শতরানেরও ক্ষীণ আশা ছিল, যদিও সেটা হয়নি।

অবশ্য লজ্জা যে তাদের এতেও কমে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়। একটা দল ১৯ বছর ধরে টেস্ট খেলার পরেও কেন এত ভয়ে জবুথবু হয়ে রয়েছে, সেটা বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তদের ভাবাচ্ছে তো বটেই, এ পার বাংলার ক্রিকেটভক্তরাও কিন্তু চিন্তিত।

ইডেনের দ্বিতীয় দিন, প্রথম দিনের থেকে কম দর্শক খেলা দেখেছিলেন বিরাট কোহলির শতরান সত্ত্বেও। সেটার একমাত্র কারণ ম্যাচের কোনো লড়াই না হওয়া। দর্শক যেমন চান, নিজের দেশ ম্যাচ জিতুক, ঠিক তেমনই চান অন্য দেশও যথেষ্ট লড়াই দিক। ম্যাড়মেড়ে একপেশে ম্যাচ দেখতে কারই বা ভালো লাগে।

ভারতীয় পেসারদের সামনে কার্যত ভয়ে সিঁটিয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম, শাকিবের না থাকাটা বাংলাদেশকে নিঃসন্দেহে দুর্বল করে তুলেছে, কিন্তু এ ভাবে ভয়ে কুঁকড়ে থাকার কোনো মানেই হয় না, যখন একটা দল বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে।

সে তুলনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব থেকে নবীন দল আফগানিস্তান। প্রতিটা ম্যাচে যে ভাবে বিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে, সেটা দেখার মতো।

তা বাংলাদেশের এই গুটিয়ে থাকা, ইশান্ত-উমেশ-শামিদের আরও সুবিধা করে দিয়েছে এই ম্যাচে। এমনিতে এই মুহূর্তে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পেস অ্যাটাক ভারতেরই, তাতে কোনো সন্দেহই নেই। শেষ বার ভারতে কবে পেসাররা এমন একাধিপত্য দেখিয়েছে ঠিক মনে করা যায় না।

আরও পড়ুন বিফলে বাবর-রিজওয়ানের সাহসী লড়াই, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংসে হার পাকিস্তানের

এ বার এই পেস-ত্রয়ীর সঙ্গে যখন জশপ্রীত বুমরাহ শামিল হবেন, তখন ভারতের অ্যাটাকটা কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে ভাবতে পারছেন!

যা-ই হোক, ম্যাচ যতই একপেশে হোক, ইডেন যে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দিন-রাতের টেস্ট ক্রিকেটের আয়োজন করতেই হত। না, হলে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত পিছিয়েই পড়ত। আর সেই ব্যাপারটা সম্ভব হয়েছে একজনের জন্যই। তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাই তো, দিনের শেষে যতই বিরাটরা জয়ের ধারা বজায় রাখুন, যতই একটার পর একটা রেকর্ড ভাঙুন, এই ম্যাচের নায়ক কিন্তু একজনই। সেই নামটা তো আগেই বলা হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.