alastair cook india vs england
৭১ রানে বোল্ড কুক। ছবি: টুইটার (আইসিসি)

ইংল্যান্ড: ১৯৮-৭ (কুক ৭১, মঈন ৫০, ইশান্ত ৩-২৮)

লন্ডন: শেষ সেশনে ছয় উইকেট। তাতেই ম্যাচের রাশ পুরোপুরি এসে গেল ভারতের হাতে। চা-বিরতির আগে যে বোলারদের যথেষ্ট ম্যাড়ম্যাড়ে লেগেছে, বিরতির পরেই বেরিয়ে এল ব্যাঘ্রগর্জন।

২৯টা রানের জন্য গ্রেগ চ্যাপেলকে ছুঁতে পারলেন না অ্যালেস্টার কুক। তবে এখনও একটা শেষ সুযোগ রয়েছে তাঁর কাছে। দ্বিতীয় ইনিংসে শতরান করতে পারলে ঢুকে যাবেন সেই অনন্য ক্রিকেটারদের ক্লাবে যাঁদের অভিষেক এবং শেষ টেস্টে শতরান রয়েছে। বারো বছর আগে নাগপুরে ভারতের বিরুদ্ধে শতরান করেই টেস্ট কেরিয়ার শুরু করেছিলেন কুক।

শুক্রবার সত্যিই একটা শতরান প্রাপ্য ছিল কুকের। গত বারো বছর ধরে ইংল্যান্ড দলের আশা-ভরসা ছিলেন তিনি। বারো হাজারের ওপরের টেস্ট রান ক’জনই বা করেছেন। সুতরাং শেষ টেস্টে শতরান অর্থাৎ মধুরেন সমাপয়েৎ। শুরুটাও করেছিলেন ভালোই। সিরিজে এই প্রথম বার সেই পুরোনো কুককে দেখা গিয়েছিল, যিনি নিজের ক্রিজ এক্কেবারে আঁকড়ে পড়ে থাকবেন।

সিরিজে এই নিয়ে পঞ্চম বার টসে হেরে গেলেন বিরাট। প্রথমে ব্যাটিং নেওয়ার ব্যাপারে রুটেরও কোনো দ্বিধা ছিল না। ম্যাচ শুরুর আগে একপ্রস্থ বিতর্ক হয়ে যায় যখন হার্দিক পাণ্ড্যর বদলে করুন নায়ার নন, সুযোগ পান হনুমা বিহারী। কোন যুক্তিতে করুনকে টিম ম্যানেজমেন্ট অগ্রাহ্য করেছে সেই নিয়ে সরব হন সুনীল গাওস্কর।

আরও পড়ুন এই ভারতীয় বোলারকে আউট করে কেন অনুতপ্ত অ্যালেস্টার কুক

সিরিজে এই প্রথম ইংল্যান্ডের দুই ওপেনারকেই দেখে মনে হয়েছে ভারতীয় বোলারদের সহজে উইকেট দেবেন না তাঁরা। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়ার পরে কিটন জেনিংসকে ফেরান অশ্বিনের বদলে এই দিন দলে সুযোগ পাওয়া জাদেজা। তবে জেনিংস আউট হয়ে গেলেও প্রভাব পড়েনি ইংল্যান্ডের ব্যাটিং-এ। বলা যায়, এ দিন পুরোনো ঘরানার টেস্ট ক্রিকেট ফিরে এসেছিল। তিন নম্বরে নামা মঈন আলি, কোনো রকম ঝুঁকি নিতেই রাজি ছিলেন না।

কিন্তু কেউই উইকেট দেয়নি ভারতীয় বোলারদের। মধ্যাহ্নভোজন এবং চা-বিরতির মাঝে একটা উইকেটও তুলতে পারেনি ভারত। কিন্তু চা-বিরতির পরেই ছবিটা পুরোপুরি পালটে যায়। ইংল্যান্ডের প্রধান দুই স্তম্ভকে একই ওভারে ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। শতরান থেকে ২৯ রান দূরে বোল্ড হন কুক। এর দু’ বল বাদে এলবিডব্লিউ হন রুট। পরের  ওভারেই বেয়ারস্টোকে তুলে নেয় ইশান্ত শর্মা। ঠিক এই সময়েই ম্যাচে ফিরে এল ভারত। মঈন আলি ৫০ করলেও ইংল্যান্ড আর ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।

বোলারদের কাজটা এখন খুব সহজ। যত দ্রুত সম্ভব ইংল্যান্ডের বাকি উইকেটগুলো ফেলে দেওয়া। তার পরেই পরীক্ষায় নামতে হবে ব্যাটসম্যানদের। দেখা যাক, সিরিজের শেষ টেস্টে ধাওয়ান-রাহুলরা জ্বলে উঠতে পারেন কি না।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন