সাম্প্রতিককালের জঘন্যতম হার! ওয়ার্নার-ফিঞ্চ ঝড়ে উড়ে গেল টিম ইন্ডিয়া

0

ভারত ২৫৫ (ধাওয়ান ৭৪, রাহুল ৪৭, স্টার্ক ৩-৫৬)

অস্ট্রেলিয়া ২৫৮-০ (ওয়ার্নার ১২৮ অপরাজিত, ফিঞ্চ ১১০ অপরাজিত)

মুম্বই: সাম্প্রতিক ইতিহাসে কোনো একদিনের ম্যাচে ভারত এ ভাবে গোহারা হেরেছে কি না মনে করাই যাচ্ছে না। এমনিতেই গত দু’তিন বছরে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের হারের সংখ্যা কম, তার পর যেগুলো হেরেছে, সেখানেও যথেষ্ট লড়াই করেই হেরেছে তারা। ফলে মঙ্গলবারের আগে শেষ বার ভারত কবে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছিল সেটা বার করার জন্য ইতিহাস ঘাঁটতে হবে।

এবং সেই ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সম্ভবত শেষ বার লজ্জার হার হেরেছিল ভারত। কিন্তু সেখানে তাও যুক্তি ছিল। ফাইনালের চাপ ছিল, সেই সঙ্গে পরে ব্যাট করে পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করারও চাপ ছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার কেন এই অবস্থা হল ভারতের। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পেস বোলিং লাইনআপ যে দেশের রয়েছে, তারা কেন বিপক্ষের একটাও উইকেট ফেলতে পারল না?

হতে পারে আত্মতুষ্টি কিংবা হতে পারে প্রস্তুতির অভাব। কিন্তু ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যেটা এ দিন হল তাতে বিরাটের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হবে। নেহাত বিশ্বকাপ এখন সাড়ে তিন বছর দূরে, তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ভারতের চলতি ঘরোয়া ক্রিকেট মরশুম। অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম দল যারা এ বার ভারত সফরে এল। এ বার বোঝা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাকি চারটে দলের কোনো তুলনাই চলে না। সাউথ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলঙ্কাকে হেলায় হারানোর পর, অস্ট্রেলিয়াই ভারতকে বাস্তবটা চিনিয়ে দিয়ে গেল।

বেশি দিন পিছোতে হবে না। গত বছর মার্চ। সে বারও ভারত সফরে এসেছিল অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া। তার আগের এক বছর তাদের কাছে বিভীষিকাময় গিয়েছে। হারতে হারতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাদের। সেই ভারত সফর থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করল তারা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ অস্ট্রেলিয়া জিতে নিল ৩-২-এ।

সেই যে অস্ট্রেলিয়ার ঘোড়া ফের দৌড়তে শুরু করল, সেটা এখনও চলছে। বরং বলা যেতে পারে এই অস্ট্রেলিয়ার দাপট দেখে রিকি পন্টিংয়ের সেই স্বর্ণযুগের কথা মনে পড়ছে।

এ দিন ডেভিড ওয়ার্নার আর অ্যারন ফিঞ্চের সামনে কোনো ভাবেই দাঁড়াতে পারলেন না ভারতীয় বোলাররা। শামি-বুমরাহ-শার্দূল সংবলিত পেস আক্রমণ হোক বা কুলদীপ যাদব আর রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন আক্রমণ, সবার ওপরেই বুলডোজার চালিয়ে দিয়ে গেলেন দুই অজি ওপেনার।

শতরান করলেন দু’জনেই। কিছুটা বেশি দাপট ওয়ার্নারের। তাঁর সঙ্গে সমানে টক্কর দিলেন ফিঞ্চ। নিটফল আড়াইশোর ওপর রান তাড়া করে দশ উইকেটে জয়।

এ দিন খেলার শুরুটা দেখে কিন্তু মনে হয়নি এতটা একপেশে ম্যাচ হতে চলেছে। প্রত্যাবর্তনেই এ দিন রান পেলেন ধাওয়ান, রান পেলেন তৃতীয় ওপেনার কেএল রাহুলও। কিন্তু কোথাও যেন মনে হল রাহুলকে জায়গা করে দিতে বিরাটের নীচে নেমে আসাটাই কাল হল ভারতের।

তিন নম্বরে ব্যাট করে পুরোপুরি সেট হয়ে গিয়ে নিজের উইকেটটি ছুড়ে দিয়ে এলেন রাহুল। অর্ধশতরান থেকে মাত্র তিন রান দূরে থেমে গেল তাঁর ইনিংস। ঠিক এই জায়গায় বিরাট থাকলে কিন্তু নিজের উইকেট ছুড়তেন তো না-ই, বরং স্কোরটাকে শতরান পার করে দিয়েও আসতে পারতেন।

আরও পড়ুন পন্থের বদলে উইকেটের পেছনে রাহুল দাঁড়ালেন কেন?

চার নম্বরে নামার ফলে হাতে সময় কিছুটা কমে যাওয়ায়, বিরাট শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন। আর সেই মেজাজে থাকতে গিয়ে অ্যাডাম জাম্পার মতো কম প্রভাবশালী এক স্পিনারকে নিজের উইকেটটা দিয়ে এলেন তিনি।

ধাওয়ান আর রাহুলের দুর্দান্ত জুটির মধ্যে দিয়ে ভারত যে শক্ত ভীত খাড়া করেছিলেন, বিরাট আউট হয়ে যেতেই তা নড়বড়ে হয়ে গেল। ঋষভ পন্থ আর রবীন্দ্র জাদেজা মিলে সেই ভীতে বড়ো ইমারত তৈরির শেষ চেষ্টা করলেও, খুব একটা সফল হলেন না।

এ দিন শুরুতে রোহিত শর্মা যে ভাবে আউট হয়েছেন, সেটা তিনি ভুলে যেতে চাইবেন। স্টার্কের করা অপেক্ষাকৃত সহজ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মিড-অফে ধরা পড়লেন তিনি। তার পর সাড়ে ২২ ওভার ক্রিজ শাসন করলেন ধাওয়ান আর রাহুল।

ধাওয়ানকে এ দিন একদম শুরুতে কিছুটা নড়বড় লাগছিল বটেই। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্রিজে জমে যান তিনি। শতরান করতে না পারলেও একদিনের দলে আপাতত নিজের জায়গাকে নিরাপদ করে দিয়েছেন তিনি।

ধাওয়ানের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ ভারতের কাছে লজ্জা ডেকে আনল। পরের ম্যাচের আগে অনেক কিছু শোধরাতে হবে বিরাটবাহিনী। তা না হলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আরও একটা সিরিজ হার পাক্কা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.