rajasthan royals

চেন্নাই: ১২৫-৫ (জাদেজা ৩৫, ধোনি ২৮, গোপাল ১-১৪)

রাজস্থান: ১২৬-৩ (বাটলার ৭০ অপরাজিত, স্মিথ ২৬ অপরাজিত, চাহর ২-১৮)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: চেন্নাইয়ের এমন শনির দশা আইপিএলের ইতিহাসে আর কখনও যে হয়নি তা বলাই বাহুল্য। এখনও চারটে ম্যাচ বাকি রয়েছে তাদের। কিন্তু এখনই নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায় যে এ বার তাদের শেষ চারে যাওয়ার আশা ক্রমশ কমছে। অন্য দিকে প্লে-অফে যাওয়ার আশা এখনও জিইয়ে রাখল রাজস্থান।

আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দুশো ম্যাচ খেললেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। কিন্তু এ বারও ব্যাট হাতে বড়ো রান পেলেন না তিনি। চেন্নাই সুপার কিংসও বড়ো রানে পৌঁছোতে পারল না।

চলতি আইপিএলের ধারা মেনেই সোমবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ধোনি। কিন্তু প্রথম থেকেই চেন্নাইয়ের ওপরে চাপ বাড়াতে থাকে রাজস্থানের বোলাররা। ১০ ওভারের মধ্যে পড়ে যায় চার উইকেট। ড্রেসিং রুমে ফিরে গিয়েছেন দু’প্লেসি, ওয়াটসন, স্যাম কারান এবং অম্বতি রায়ুড়ু। ।

ধোনি আর জাদেজার মধ্যে জুটি তৈরি হলেও তাঁরা রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ক্রিজে ধোনি থাকা সত্ত্বেও ১৫ ওভারে মাত্র ৮৯ করেছিল চেন্নাই। রানরেট ছয়ও নয়।

তবে এরই মধ্যে একটা মাইলস্টোন পূর্ণ করেন ধোনি। আইপিএলে নিজের চার হাজার রান পেরিয়ে যান তিনি। তবে ফের একবার মন্থর ইনিংস খেলেন মাহি। মাত্র দু’টো চার মারেন তিনি। অন্য দিকে জাদেজা কিছুটা চেষ্টা করলেও ছয় মারতে ব্যর্থ হন তিনিও।

এ দিন সাত নম্বরে নামেন কেদার যাদব। এবং যথারীতি ব্যাটে বলে করতে কার্যত হিমশিম খেলেন তিনি। সব মিলিয়ে কোনো রকমে কিছুটা ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছোল চেন্নাই, যেখান থেকে বিপক্ষকে জেতার জন্য অন্তত প্রতি ওভারে ছয় রান করে করতে হবে।

আবু ধাবির এ দিনের পিচটা যে ব্যাটিংয়ের জন্য সত্যিই মন্থর সেটা রাজস্থানের রান তাড়া করার ঢং দেখেই বোঝা গেল। যে পিচে চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে পারেননি, সেখানে রাজস্থানের টপ অর্ডারও ভেঙে পড়ল।

এই টুর্নামেন্টের অসংখ্য ওপেনিং কম্বিনেশন ব্যবহার করে অবশেষে একটি কম্বিনেশনে থিতু হয়েছে রাজস্থান। কিন্তু শনিবার বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে বেন স্টোক্স আর রবিন উথাপ্পার ওপেনিং জুটি ক্লিক করে গেলেও এ দিন ব্যর্থ হল।

দীপক চাহর এবং জস হেজেলউডের বোলিং জুটি রাজস্থানকে শুরু থেকে চাপে রেখে দিয়েছিল। তবে ওপেনিং জুটিতে ২৬ রান উঠে গিয়েছিল মূলত স্টোক্সের কারণে। সেই জুটিটা ভেঙে দেন চাহর। এর দুই রানের মধ্যে উথাপ্পা এবং সঞ্জু স্যামসনকেও হারায় রাজস্থান।

তিরিশ রানের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। ইনিংস মেরামতি করার দায়িত্ব এসে পড়ে স্টিভ স্মিথ এবং জস বাটলারের ওপরে। এই জুটিটা ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে গিয়ে রাজস্থানকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে স্মিথ অসম্ভব ম্লান ছিলেন। প্রথম দিকে এক্কেবারেই ছন্দে ছিলেন না।

কুড়িটা বল খেলে ফেলার পর এ দিন স্মিথের স্ট্রাইক রেট ৫০-এর ওপরে ওঠে। স্মিথ যখন ছন্দ পেতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেয়েছেন, তখন দুরন্ত পারফর্ম করলেন জস বাটলার। কোনো রকম অক্রিকেটীয় শট তিনি খেলেননি, রান বাড়ানোর জন্য বাড়াবাড়িও করেননি। ঘটনাপ্রবাহকে নিজের মতোই চলতে দিয়েছেন। সেট হয়ে যাওয়ার পরে চার-ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

যে অসাধারণ দক্ষতায় ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার এই দুই ক্রিকেটার ম্যাচ বের করলেন, তা এক কথায় অনবদ্য। এক জন যখন আগ্রাসী ছিলেন, তখন অন্য জন উইকেটটাকে ধরে রেখে খেলাতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন। আর এই ভাবেই কিছুটা কঠিন হয়ে যাওয়া ম্যাচ মোটের ওপরে সহজ ভাবেই জিতে গেল রাজস্থান।

প্লে-অফে যাওয়ার ক্ষীণ আশা এখনও রয়েছে চেন্নাইয়ের। সেটা যাতে একদম চলে না যায়, সে জন্য পরের ম্যাচটা জিততেই হবে ধোনিবাহিনীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.