johannesburg test

ভারত: ১৮৭ এবং ২৪৭ (রাহানে ৪৮, কোহলি ৪১, মর্কেল ৩-৪৭)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯৪ এবং ১৭-১ (এলগার ১১ অপরাজিত, শামি ১-৭)

জোহানেসবার্গ: যে মাঠের সঙ্গে ক্রিকেটের কত স্মরণীয় ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে – অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার সেই চারশো রানের ম্যাচ, ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ভারতের প্রথম টেস্ট জয় – সেই পিচেই কি না এই রকম প্রহসন! ম্যাচে কে কী রকম খেলল, কে কী রকম বল করল, ব্যাটে কার রান এল, এই সব ব্যাপার চলে গেল পেছনের সারিতে, সামনে চলে এল আতঙ্কের পিচ। যে পিচচর্চা কমেন্ট্রি বক্স থেকে বেরিয়ে চলে গেল রেফারির ঘরে।

টেস্টের শুরু থেকেই অদ্ভুত আচরণ করছিল এই পিচ, কিন্তু তৃতীয় দিন সারা দিন যা করে গেল তা কস্মিনকালেও দেখা যায়নি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ভয়ংকরতম পিচগুলির মধ্যে ওয়ান্ডারার্সের এই পিচ অন্যতম বলে মনে করছেন ধারাভাষ্যকাররা।  এক একটা বল পিচে পড়ে গড়িয়ে যাচ্ছে, তো এক একটা বল পিচে পড়ে সাংঘাতিক লাফাচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যে বারবার নিজের হাতে, পায়ে চোট পেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা।

তবুও এই পিচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন তাতে একটা কথা পরিষ্কার, বিদেশের মাঠে এই ভারতীয় দল ভালো কিছু করার আশা রাখে। শুক্রবার শুরু হয়েছিল মুরলি বিজয়কে দিয়ে। এক এক সময় তো বিজয়ের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, সেই স্বর্ণ যুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাবাদার একটা দুর্ধর্ষ ইয়র্কার ছাড়া বিজয়কে টলানো যায়নি। বিজয় ছাড়াও এ দিন ব্যাটসম্যানশিপের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে ফুল মার্কসে পাশ করে গিয়েছেন কোহলি এবং রাহানে।

রাহানের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। রানের মধ্যে না থাকা রাহানে এই সাংঘাতিক পিচে ব্যাট করতে নামার সময়ে অসম্ভব চাপে ছিলেন বোঝাই যাচ্ছিল। সেই চাপ কাটানোর জন্য আগ্রাসী মনোভাবের ওপরেই আস্থা নিয়েছিলেন তিনি। এবং পুরোপুরি সফল। দু’রানের জন্য অর্ধশতরান পাননি তিনি, কিন্তু তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ভারত যদি এই ম্যাচ জিতে যায় তা হলে রাহানের এই অবদান ভোলা যাবে না। শেষ দিকে পিচ কামড়ে পড়ে থেকে রান করে গিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং মহম্মদ শামি। সব মিলিয়ে একটা কথা বলতেই হয়, ব্যাটসম্যানশিপের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফল ভারত।

২৪১ রান তাড়া করতে নেমে ভারতেরই দশা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ভুবনেশ্বর, শামি, ইশান্তদের বলে বারবার চোটগ্রস্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরাও। এরই মধ্যে বুমরাহ-এর একটি বল এলগারের মাথায় লাগার পর খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। এর পরেই দুই দলের অধিনায়ককে নিজের ঘরে ডেকে নেন ম্যাচ রেফারি। ম্যাচের ভবিষ্যৎ এখনও জানা যায়নি। চতুর্থ দিন যদি এই ম্যাচ হয়, তা হলে ভারতের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

তবে প্রশ্ন উঠবে যে পিচে বারবার চোট পেয়েও খেলা চালিয়ে গেলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, সেই একই পিচে চোট পেয়েই ম্যাচ বাতিলের দাবি জানাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা? এটা কি সত্যি পিচের ভয়ে না কি হারের ভ্রূকুটি ছিল বলে?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here