দিল্লি: ১৬৪-৫ (ধাওয়ান ১০৬ অপরাজিত, শ্রেয়স ১৪, শামি ২-২৮)

পঞ্জাব: ১৬৭-৫ (পুরান ৫৩, ম্যাক্সওয়েল ৩২, রাবাদা ২-২৭)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: শিখর ধাওয়ানের রেকর্ড ব্রেকিং শতরান ম্লান হয়ে গেল পঞ্জাবের দাপটের কাছে। ক্রিস গেল ফিরে আসার পর এই নিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলল তারা। সব মিলিয়ে পঞ্জাব শিবিরে এখন বেশ স্বস্তিদায়ক জায়গায় পৌঁছে গেল।

২০০৮ থেকে আইপিএল খেলছেন তিনি। ১৬৪টা ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গত শনিবারের আগে পর্যন্ত আইপিএলে কোনো শতরানই ছিল না তাঁর। এর পর শতরানের দরজা যখন খুলল, এক্কেবারে দু’টো করে ফেললেন তিনি।

মঙ্গলবার দুবাইয়ের মাঠে দিল্লির ইনিংসটা জুড়ে তাঁরই নাম শিখর ধাওয়ান। তিনি ছাড়া ওই দলের কেউই উল্লেখযোগ্য কোনো অবদানই করে যেতে পারেননি। দলের ১৬৪ স্কোরের মধ্যে ১০৬ রানই ধাওয়ানের। স্ট্রাইক রেট ১৭৩.৭৭।

ধাওয়ানের ইনিংসটা বাদ দিলে এ দিন দিল্লির সংগ্রহ ৯.৫ ওভারে ৫৮-৫। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে পঞ্জাবের বোলাররা কিন্তু কোনো ভাবেই হাল ছাড়েননি। অবশ্য এ দিনও নজর কেড়েছেন মহম্মদ শামি। তাঁকে দেখলে মনে হয়, দিন দিন যেন আরও উন্নত হচ্ছেন। স্লগ ওভারে একের পর এক ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টা এ দিনও দেখা গেল শামির মধ্যে। সামনে ধাওয়ান থাকলেও শামির সামনে খুব একটা হাত খুলতে পারেননি তিনি।

এ দিকে ধাওয়ানের ব্যাটিংও যে আচমকা বিশাল শৃঙ্গে পৌঁছে গেল। শুরুর দিকে তেমন রানই ছিল না তাঁর ব্যাটে। কিন্তু ১১ অক্টোবর মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে রানে ফেরেন তিনি। তবে সেই ইনিংস বিপুল সমালোচনা কুড়িয়েছিল। কুড়ি ওভার ব্যাট করেও ৭০ পেরোতে পারেননি তিনি। ধাওয়ানের মন্থর ব্যাটিং দিল্লির হারার পেছনে দায়ী ছিল সে দিন।

কিন্তু এর পরের ম্যাচ থেকেই পুরোপুরি বদলে গেলেন তিনি। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ঝোড়ো অর্ধশতরানের পর গত রবিবার চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে শতরান করেন তিনি। এ দিন আবার। নিজের ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলে দিয়েছেন। আগে ইনিংস ধরে খেলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তিনিই প্রধান আগ্রাসক হয়ে উঠছেন।

যা-ই হোক, দিল্লির রানটা আদৌ বড়ো কিছু ছিল না। আর ক্রিস গেলের আগমনের পর পঞ্জাব যে ভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, তাতে এই রানটা তাদের পক্ষে তাড়া করে জিতে যাওয়া খুব একটা কষ্টকর কিছুও ছিল না। এ দিন সেটাই হল।

অদ্ভুত ভাবে, এ দিন রান পাননি কেএল রাহুল এবং ময়াঙ্ক অগ্রবাল। চলতি আইপিএলে সব থেকে বেশি রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় প্রথম এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এই দু’জন। তবুও পঞ্জাব জিতল। আর জিতল দাপটের সঙ্গেই।

মঙ্গলবারের পঞ্জাবের এই জয়ের নেপথ্যে বিদেশিরা। খোলসা করে বললেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা। ক্রিস গেল এ দিন বেশিক্ষণ টেকেননি। কিন্তু যতক্ষণ ছিলেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর সেরা ফর্মে পৌঁছে যাওয়া আর শুধু সময়ের অপেক্ষা।

১৩ বলে ২৯ রানের একটি ইনিংস খেলেন গেল। সেই ইনিংসে ছিল ৩টে চার এবং দু’টি ছক্কা। তুষার দেশপান্ডের একটি ওভারে একাই ২৫ রান করেন তিনি। গেলের এই দাপট অবশ্য থেমে যায় ঠিক তার পরের ওভারেই। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের একটি নিখুঁত বল ছিটকে দেয় তাঁর স্টাম্প।

তবে গেল ফিরলেও পঞ্জাব প্রবল ভাবে ম্যাচে থাকে নিকোলাস পুরানের সৌজন্যে। পুরানের শক্তির ব্যাপারে আগেই পরিচিত হওয়া গিয়েছে। যা ছক্কা তিনি মারেন, কার্যত ভাবনারও বাইরে। এই পুরান যখন আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করলেন তখন তাঁকে অপর দিক থেকে সংগত করে যাচ্ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

টুর্নামেন্টে ম্যাক্সওয়েল এক্কেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না। তাই কিছুটা ধরে নিজের ইনিংস শুরু করেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে ইনিংসের গতি বাড়ান। পুরান আর ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে ৬৯ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই গড়ে দেয়।

পঞ্জাবের রানরেট দুর্দান্ত ছিল। তাই দলের স্কোর দেড়শো পেরোনোর আগেই পুরান এবং ম্যাক্সওয়েল আউট হয়ে গেলেও বিশেষ চাপে পড়েনি পঞ্জাব। পাঁচ উইকেট হাতে নিয়েই জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় তারা।

জয়ের এই হ্যাটট্রিকের মধ্যে দিয়ে লিগ টেবিলে আপাতত পাঁচ নম্বর উঠে এল পঞ্জাব। কে বলতে পারে, এই দলটাই হয়তো শেষ চারে চলে গেল, ওপরে থাকা কোনো দলকে ছিটকে দিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.