এ বার দিল্লি-বধ, লিগ টেবিলে আরও সুবিধাজনক জায়গায় উঠল কলকাতা

0

দিল্লি ১২৭-৯ (স্মিথ ৩৯, পন্থ ৩৯, ফারগুসন ২-১০)

কেকেআর ১৩০-৭ (নীতীশ ৩৬ অপরাজিত, শুভমন ৩০, আবেশ ৩-১৩)

শারজা: আমিরশাহিতে ভালো সময় চলছে কলকাতা নাইটরাইডার্সের। ফের একবার জিতল তারা। এ বার তাদের হাতে পরাজিত হল দিল্লি ক্যাপিটাল্‌স। ফলে লিগ টেবিলে আরও সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গেল কলকাতা।

স্টিভ স্মিথকে এই ম্যাচে দলে নিয়েছিল দিল্লি। তিনি ওপেন করেন পৃশ্বী শ’র জায়গায়। সঙ্গে ছিলেন শিখর ধাওয়ান। দিল্লির হয়ে মোটামুটি একটা স্টার্ট দেন দুই ওপেনার। তৃতীয় ওভারে প্রথম বার হাত খোলেন দু’জনে। ওই ওভারে ওঠে ১০ রান। দিল্লির রানরেট প্রথম বারের জন্য ৭ পেরোয়।

Shyamsundar

চতুর্থ ওভারে টিম সাউদির বল শিখরের পায়ে লাগলে এলবিডব্লিই-এর অ্যাপিল করেছিল কেকেআর। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার। ডিআরএস নেন মর্গ্যান। তাতেও সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। যদিও উইকেটহীন বেশিক্ষণ থাকতে হয়নি কেকেআরকে। ২০ বলে ২৪ করে আউট হয়ে যান শিখর। ৫ ওভারে ৩৫ রান করে ফেলে দিল্লি।

শিখর আউট হয়ে যাওয়ার পর বেশ বড়ো ধাক্কা খায় দিল্লি। কমে যায় রান তোলার গতি। পঞ্চম ওভারে মাত্র চার রান দেন সিভি বরুণ। পরের ওভারেই শ্রেয়স আইয়ারকে বোল্ড করে দেন সুনীল নারিন। ৫ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন তিনি। ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি। আইয়ার আউট হওয়ায় নামেন দিল্লির অধিনায়ক ঋষভ পন্থ।

দশ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি দিল্লি। এর পরেই ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন স্টিভ স্মিথ। একেবারে সঠিক সময়ে স্মিথকে আউট করে দেন লকি ফারগুসন। ৭৭ রানে তিন নম্বর উইকেট হারায় দিল্লি।

ব্যাট হাতে তো নিজেকে আগেই প্রমাণ করেছেন। এ বার বল হাতেও ভরসা জোগাচ্ছেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। সিমরান হেটমায়ারকে (৫ বলে ৪) আউট করে দিল্লিকে আরও চাপে ফেলে দেন আইয়ার। কিছুক্ষণ পর খাতা না খুলে নারিনের বলে এলবিডব্লিউ হলেন ললিত যাদব।

ম্যাচ থেকে ক্রমে বেরিয়ে যেতে থাকে দিল্লি। দ্বিতীয় উইকেট নিয়ে নেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ৯২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে মারাত্মক চাপে পড়ে যায় দিল্লি। অশ্বিন এবং ঋষভ পন্থ কোনো রকম করে দিল্লির ইনিংসকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে বেশি এগোতে পারেনি দিল্লি। কোনো রকমে ১২৭ পর্যন্তই পৌঁছোতে পারে তারা।

কেকেআরের জবাব

শারজার মন্থর পিচে ১২৮ রান তাড়া করে জেতাটা খুব সহজ কাজ ছিল না। প্রথম ওভারে ১ রান তোলার পর দ্বিতীয় ওভারেি ১৫ রান তোলে কেকেআর। দুরন্ত শুরু করেন শুভমন গিল এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তবে দিল্লির বোলাররাও সহজে হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না।

পঞ্চম ওভারে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে বোল্ড করে দেন ললিত যাদব। বড়ো ধাক্কা খায় নাইট রাইডার্স। ১৫ বলে ১৪ করেছিলেন আইয়ার। তাঁর বদলে নেমেছিলেন রাহুল ত্রিপাঠি। যদিও তিনিও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। রানের গতি কিছুতেই বাড়াতে পারছিল না কেকেআর। তবে লক্ষ্যমাত্রা বেশি না থাকায় কোনো রকম চাপেও পড়তে হয়নি তাদের।

একাদশতম ওভারে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান শুভমন গিল। তৃতীয় উইকেট হারায় কলকাতা। এর পর অধিনায়ক ওইন মর্গ্যান ক্রিজে নামলেও বিশেষ কিছুই করতে পারেননি। তাঁকে ফিরিয়ে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। একটু যেন চাপে পড়তে শুরু করে কলকাতা।

তবে নীতীশ রানা এবং দীনেশ কার্তিক মিলে কেকেআরের ইনিংসকে কিছুটা স্থিরতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে কলকাতা। তবে নাটক আরও অপেক্ষা করছিল। দলের স্কোর একশো পেরোনোর আগেই কার্তিকের উইকেট তুলে নেন আবেশ খান।

তবে সাত নম্বরে নেমে মারকাটারি ব্যাটিং শুরু করে দেন সুনীল নারিন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ভর জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় কলকাতা। শেষের দিকে নারিন আউট হয়ে গেলেও জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছোতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি কেকেআরকে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন