ব্যাটে-বলে নায়ক নারিন, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আরসিবিকে হারিয়ে ফাইনালের আরও কাছাকাছি কেকেআর

0

আরসিবি ১৩৮-৭ (বিরাট ৩৯, দেবদত্ত ২১, সুনীল ৪-২১)

কেকেআর ১৩৯-৬ (শুভমন ২৯, নারিন ২৬, চহাল ২-১৬)

শারজা: বাংলার একটাও ক্রিকেটার না খেলা বাংলার এই দলটা সাত বছর পর আবার আইপিএলের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। সোমবার এলিমিনেটরের ম্যাচে বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। এই জয়ের নেপথ্যে পুরোপুরি ভাবে ছিলেন সুনীল নারিন। এর ফলে ফাইনাল থেকে আর মাত্র একটা ম্যাচ দূরে কেকেআর।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোই শুরু করেন বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার বিরাট কোহলি এবং দেবদত্ত পাড়িক্কাল। প্রথম দু’ওভারেই ১৭ রান তুলে ফেলে বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয় ওভারে দশ রান দেন কেকেআরের শিবম মাভি।

Shyamsundar

চলতি মরশুমে শারজার পিচে বেশি রান উঠছে না। সেই প্রেক্ষিতে এ দিন দুর্দান্ত শুরু করে বেঙ্গালুরু। প্রথম থেকেই রানরেট নয় থেকে দশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল। সেট হয়ে গিয়েছিলেন বিরাট এবং পাড়িক্কাল। তবে পাড়িক্কালকে ফিরিয়ে আরসিবিকে প্রথম ধাক্কা দেন লকি ফার্গুসন।

পাড়িক্কাল আউট হতে এবং কেকেআরের আক্রমণে স্পিনাররা চলে আসতেই রান তোলার গতি অনেকটাই কমে যায় আরসিবির। নয় ওভারের শেষে বেঙ্গালুরুর রান ছিল ১ উইকেটে ৬৬। সেট হয়ে যাওয়া বিরাটের সঙ্গী হিসেবে ক্রিজে তখন কেএস ভরত। এর পর আক্রমণে সুনীল নারিন আসতেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বেঙ্গালুরু।

প্রথমে নারিনের শিকার হন ভরত। এর পর আরসিবি অধিনায়ককে ফিরিয়ে বিপক্ষকে চরমতম ধাক্কা দেন নারিন। কিছুক্ষণ পর ডেভিলিয়ার্সকে ফিরিয়ে বেঙ্গালুরুর শিরদাঁড়াটাই কার্যত নাড়িয়ে দেন নারিন। ১৬ ওভারের শেষে চার উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানে পৌঁছোয় আরসিবি।

তবে অপ্রতিরোধ্য নারিনকে এ দিন থামানোই যায়নি। এর পর তিনি ফিরিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েলকে। বেঙ্গালুরুর বড়ো রানের দিকে যাওয়ার স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটে ওখানেই। বাংলার শাহবাজ নদিম কিছুটা চেষ্টা করছিলেন বেঙ্গালুরুকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সেটাও হয়নি। তিনি আউট হয় ফার্গুসনের পর।

সব মিলিয়ে নির্ধারিত কুড়ি ওভারের শেষে ১৩৮-এর বেশি তুলতেই পারেনি আরসিবি।

কেকেআরের জবাব

কম রানের টার্গেট ছিল। কিন্ত শারিজার পিচ যখন, তখন শুরুট ভালোই করতে হত কেকেআরকে। ঠিক সেটাই করলেন কেকেআরের দুই ওপেনার শুভমন গিল এবং বেঙ্কটেশ আইয়ার। এক্কেবারে গোড়া থেকেই সব চাপটা আরসিবির ওপরে চাপিয়ে দেন দুই ওপেনার।

অনেক বেশি আগ্রাসী ছিলেন শুভমন। তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিল আইয়ার। শারজার ছোটো মাঠে শুভমনের ব্যাট থেকে বেরোনো একের পর এক চার এবং ছয় গ্যালারিতে আছড়ে পড়ে। তবে কেকেআরের স্কোর ৪১ থাকাকালীন শুভমনকে ফিরিয়ে কেকেআর শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দেন হর্শল পটেল।

তবে শুভমনকে হারিয়েও বিশেষ চাপে পড়েনি কেকেআর। সপ্তম ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় তারা। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুলকে ফিরিয়ে দেন যজুবেন্দ্র চহাল। চার নম্বরে নামা নীতীশ রানাকে সঙ্গে নিয়ে কেকেআরের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যান বেঙ্কটেশ।

দশ ওভারের শেষে কেকেআর ২ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রানের মোটামুটি ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে এর ঠিক পরেই বেঙ্কটেশের উইকেট তুলে নেয় আরসিবি। ম্যাচে ফিরে আসার একটা আশা দেখতে পান বিরাট কোহলি। যদিও দ্বাদশ ওভারে তাঁর সেই আশা ভেঙে চুরমার করে দেন সুনীল নারিন।

নিজের প্রথম বলেই ড্যান ক্রিশ্চিয়ানকে ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেন নারিন। দ্বিতীয় বলে ফের একটা ছক্কা হাঁকান তিনি। এখানেই শেষ নয়। ওভার শেষের আগে আরও একবার ছয় মারেন নারিন। ম্যাচ পুরোপুরি কেকেআরের কব্জায় চলে আসে।

তবে এখান থেকেও ম্যাচে নতুন মোড় চলে আসে আচমকা। নীতীশ রানা, সুনীল নারিন এবং দীনেশ কার্তিককে পর পর হারিয়ে চামকা সামান্য চাপ আসে কেকেআরের ওপরে। আস্কিং রেট বাড়তে থাকে। আর পিচটাকে দেখে মনে হচ্ছিল আচমকা যেন আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। শেষ দু’ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১২ ছিল, যা শেষ ওভার শুরু হওয়ার আগে হয়ে যায় ৭।

তবে ওভারের প্রথম বলে চার মেরে দিয়ে কেকেআরের জয়ের রাস্তা সহজ করে দেন শাকিব আল হাসান। দু’বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় কেকেআর।

এই জয়ের ফলে বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে দিল্লির মুখোমুখি হবে কেকেআর। সেই ম্যাচে জিতলেই ফাইনালে মর্গ্যানবাহিনী।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন