কেকেআর: ১৬৩-৫ (শুভমন ৩৬, মর্গ্যান ৩৪ অপরাজিত, নটরাজন ২-৪০) এবং (সুপার ওভারে) ৩-০

হায়দরাবাদ: ১৬৩-৬ (ওয়ার্নার ৪৭ অপরাজিত, বেয়ারস্টো ৩৬, ফার্গুসন ২-১৫) এবং (সুপার ওভারে) ২

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দুরন্ত লকি ফার্গুসন। গোটা ম্যাচে নিলেন পাঁচটা উইকেট। তাঁর তুখোড় বোলিংয়ে সুপার ওভারে হায়দরাবাদকে হারিয়ে দিল কলকাতা নাইটরাইডার্স। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে আপাতত স্বস্তিদায়ক জায়গাতেই থাকল কেকেআর।

চলতি আইপিএলে একটা ব্যাপার যেন বেশি করে দেখা যাচ্ছে। প্রথমে ব্যাট করা দলগুলি শুরুতে বেশ মন্থর থাকছে। কিন্তু শেষ দিকে গিয়েই ঝড় তুলছে। ফলে প্রথম দিকে যতটা রান তারা করবে বলে মনে করা হচ্ছে, আদতে করছে তার থেকে অনেকটাই বেশি।

রবিবার কলকাতা নাইটরাইডার্সের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হল। এ দিন তাদের ব্যাটিংয়ের প্রথম অংশটা দেখে মনে হয়নি যে বড়ো স্কোরকে শেষ করতে পারবে তারা।

টসে জিতে এ দিন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ৪৮ রানে প্রথম উইকেট পড়েছিল কলকাতার। নটরাজনের বলে বোল্ড হন রাহুল ত্রিপাঠী। এর পর দ্বিতীয় উইকেট যখন দ্বাদশ ওভারে পড়ল, ততক্ষণ রানের গতি অনেকটাই স্লো হয়ে গিয়েছে কেকেআরের। এর ঠিক এক রান পরেই আরও একটি উইকেট পড়ে নাইটদের।

আন্দে রাসেলের ফর্মে ফেরার জন্য আদর্শ মঞ্চ ছিল এ দিন। কিন্তু তিনি ফের ব্যর্থ। বার বার যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে গত বছরের আইপিএলে তাঁর দানবীয় ইনিংসগুলি ফ্লুক ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রাসেল যদি এ বার দল থেকে বাদও পড়ে যান, অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

তবে যে স্কোরটা ১৪০-এর কাছাকাছি থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, সেটা যে ১৬৩ পর্যন্ত গেল, তার জন্য কৃতিত্ব প্রায় দীনেশ কার্তিক এবং ওইন মর্গ্যানের। ৩০ বলে ৫৮ রানের জুটি তৈরি হয় দু’ জনের মধ্যে। এর মধ্যে বেশি আগ্রাসী ছিলেন কার্তিক। দু’শোর ওপরে অবিশ্বাস্য স্ট্রাইকরেট রেখে ইনিংস শেষ করেন তিনি।

১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেছিল হায়দরাবাদ। এ দিন তাদের ব্যাটিং অর্ডারে ব্যাপক রদবদল করা হয়। জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে ওপেন করতে আসেন কেন উইলিয়ামসন। দু’ জনে মিলে প্রথম ছয় ওভারে ৫৮ রান তুলে ফেলেন। ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যেতে শুরু করে হায়দরাবাদ।

কিন্তু এর পরেই ঘুরে দাঁড়ায় কেকেআরের বোলিং। ইচ্ছাকৃত ভুল শট খেলে প্যাভিলিয়িনে ফেরেন উইলিয়ামসন। এর পর একে একে প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন প্রিয়ম গর্গ, বেয়ারস্টো এবং মনীশ পাণ্ডে। চার নম্বরে নামিয়ে আনা ডেভিড ওয়ার্নারকে কিছুটা সঙ্গ দিলেও ৭-এর বেশি করতে পারেননি ‘থ্রি-ডি’ ক্রিকেটার বিজয় শঙ্কর।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দল নির্বাচনের সময়ে অম্বতি রায়ুড়ুর বদলে বিজয় শঙ্করকে বাছাই করায় নির্বাচক কমিটির প্রধান এমএসকে প্রসাদের সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। তখন প্রসাদ যুক্তি দিয়েছিলেন বিজয় শঙ্কর আদতে ‘থ্রি-ডি’ ক্রিকেটার। যদিও ভারতের জার্সিতে হোক, বা হায়দরাবাদের জার্সিতে, আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংসই খেলতে পারেননি তিনি।

হায়দরাবাদের ব্যাটিং কিন্তু এই মরশুমে একদমই ক্লিক করছে না। মনীশ পাণ্ডে ছাড়া কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানই রানের মধ্যে নেই। এই পরিস্থিতিতে ঋদ্ধিমান সাহাকে বসিয়ে রাখার কোনো যুক্তি আদৌ আছে কি না, সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।

অসম্ভব কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করার দায়িত্ব নিয়ে ওয়ার্নারের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন কাশ্মীরের তরুণ মারকুটে ব্যাটসম্যান আব্দুল সামাদ। তিনি আসার পর কিছুটা গতিপ্রাপ্ত হয় হায়দরাবাদের ইনিংস। প্যাট কামিন্সকে পুল মেরে দুঃসাহসিক ছয় মেরে নিজের ইনিংস শুরু করেন সামাদ।

শেষ ওভারে এক্কেবারে চরম নাটক। ততক্ষণে ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফিরে গিয়েছেন সামাদ। শেষ চারটে বলে করতে হত ১২ রান। পর পর তিনটে চার মেরে বসলেন ওয়ার্নার। এর পরের দু’টো বলে তিন রান নিয়ে ম্যাচকে টাই করিয়ে দেন তিনি। খেলা গড়িয়ে যায় সুপার ওভারে।

গোটা ম্যাচে সব থেকে ভালো করেছেন কেকেআরের লকি ফার্গুসন। চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁকে দিয়েই সুপার ওভার করায় কেকেআর। আর তাতেই কেল্লাফতে। দুই রানের বেশি তুলতেই পারেনি কমলাবাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.