কেকেআর: ১৪৮-৫ (কামিন্স ৫৩ অপরাজিত, মর্গ্যান ৩৯ অপরাজিত, রাহুল ২-১৮)

মুম্বই: ১৪৯-২ (ডে কক ৭৮ অপরাজিত, রোহিত ৩৫, বরুণ ১-২৩)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: অধিনায়ক বদল হয়েও ভাগ্য ফিরল না কলকাতা নাইটরাইডার্সের। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে ফের একটা ম্যাচ হেরে গেল তারা। শুরুর দিকের ব্যাটিং ভরাডুবিই এই ম্যাচে ডুবিয়ে দিল কেকেআরকে।

তাঁকে ১৭ কোটি দিয়ে কেনা হয়েছিল বোলার হিসেবে। কিন্তু তিনি যে ব্যাটেও দুর্দান্ত পারফর্ম করবেন সেটা সম্ভবত আন্দাজই করতে পারেনি কলকাতা নাইটরাইডার্স শিবির। সত্যি কথা বলতে কী প্যাট কামিন্সের ব্যাট এ দিন না চললে কেকেআর একশো পেরোত কি না সন্দেহ।

আইপিএলে ওইন মর্গ্যানের অধিনায়কত্বের অভিষেকটা আরও বিভীষিকাময় হতে পারত যদি না ষষ্ঠ উইকেটে তিনি এবং কামিন্স ৮৭ রানের অপরাজিত একটি জুটি তৈরি করতেন। মর্গ্যান টি২০ স্পেশালিস্ট হয়েই এ দিন নিজেদের ইনিংসের শেষ ওভারের আগে সে ভাবে ব্যাটেবলে করতে পারছিলেন না।

যাঁর হাত থেকে অধিনায়কত্বের ব্যাটনটা মর্গ্যানের কাছে গিয়েছে সেই দীনেশ কার্তিকও এ দিন ব্যর্থ, যেমন ব্যর্থ তাঁর গোটা টপ অর্ডার। আইপিএলের শুরুতে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দুরন্ত ইনিংস খেলা গিলের ব্যাটে তার পর থেকে সে ভাবে বড়ো রান আসছে না। রাহুল ত্রিপাঠিও ফের একবার ব্যর্থ হলেন। ঠিক যেমন ব্যর্থ হলেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসা নীতীশ রানাও।

এ দিকে আরও একজনের চূড়ান্ত অফফর্ম চলছে তা তো দেখাই যাচ্ছে। গত বছর আইপিএলে মারাত্মক ভাবে সাড়া ফেলে দেওয়া আন্দ্রে রাসেল এখনও পর্যন্ত কেকেআরের হয়ে একটা ম্যাচেও উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান রাখতে পারলেন তিনি। এই সব ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে এক সময়ে কেকেআরের স্কোর গিয়ে দাঁড়িয়েছিল পাঁচ উইকেটে ৬১।

ঠিক এখান থেকেই ব্যাট হাতে কার্যত রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন কামিন্স। ইনিংসের পরবর্তী ৫৬টা বলে মুম্বইকে কোনো উইকেটই তুলতে দেননি তিনি এবং মর্গ্যান। ১৪৭-এর স্ট্রাইক রেট রেখে দুরন্ত একটি অর্ধশতরান করে ফেলেন তিনি। মোটের ওপর একটা যথেষ্ট ভদ্রস্থ স্কোরে গিয়ে পৌঁছে যায় কেকেআর।

তবে এই রানটা মুম্বইয়ের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে নেহাতই সামান্য। সেটাকে বাঁচাতে গেলে নাইট বোলারদের জ্বলে উঠতেই হত, আর সেই ব্যাপারটাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হত কামিন্সকেই। কিন্তু ব্যাটে ভেলকি দেখালেও বল হাতে ফের এক বার ব্যর্থ হলেন বিশ্বের এক নম্বর বোলার। এই সুযোগে কার্যত জুটিতে লুটলেন রোহিত শর্মা এবং কুইন্টন ডে কক।

সুনীল নারিনকে এ দিনও মাঠে নামায়নি কেকেআর। তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে যাওয়ায় এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছে নাইটশিবির। পরিবর্তে এ দিন দলে আসেন ক্রিস গ্রিন। স্পিনার গ্রিনকে দিয়েই বোলিং ওপেন করান নাইট অধিনায়ক মর্গ্যান। আর তখন থেকেই মারকাটারি ব্যাটিং শুরু করে দেন রোহিতরা।

ডে কক অনেকটাই বেশি আগ্রাসী ছিলেন। সেই কারণে রোহিত কিছুটা ম্লান ছিলেন এ দিন। তবে তাতে মুম্বইয়ের রানের গতি ব্যাপক ভাবে বাড়াতে কোনো রকম অসুবিধা হয়নি। দু’ জনের মধ্যে ওপেনিং জুটিতে ১০.৩ ওভারে ৯৪ রান উঠে যায়। শিবম মাবির বল যখন রোহিতের ব্যাটের কানা পেয়ে যায়, ততক্ষণে ম্যাচটা কেকেআরের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।

তবুও কেকেআরের কামব্যাক করার সুযোগ একটা থাকত যদি নারিন খেলতেন। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তী যতই বিস্ময় স্পিনার হোন না কেন, তিনি তো আর নারিন নন। তাও সূর্যকুমার যাদবের উইকেটটা তাড়াতাড়িই তুলে নেন চক্রবর্তী।

এ দিকে ডে কককে থামানো যায়নি। অন্য দিকে রানে ফেরানোর জন্য চার নম্বর পাঠানো হয়েছিল হার্দিক পাণ্ড্যকে। দু’ জনে মিলেই বাকি কাজটা করে দেন মুম্বইয়ের জন্য। মাত্র ১১টা বলে ২১ রান করেন হার্দিক।

কেকেআরের কাছে মুম্বই একটা কাঁটা। মরশুমের মাঝখানে দলে অধিনায়ক পরিবর্তন করেও কাঁটা ওপড়াতে পারল না তারা। বেশ কিছুটা চাপে পড়ে গেল নাইট শিবির। অন্য দিকে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে বসল রোহিত শর্মার মুম্বই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.