স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন! আইপিএলের ফাইনালে কেকেআর

0

দিল্লি ১৩৫-৫ (শিখর ৩৬, শ্রেয়স ৩০, বরুণ ২-২৬)

কেকেআর ১৩৬-৭ (আইয়ার ৫৫, শুভমন ৪৬, রাবাদা ২-২৩)

শারজা: এ তো স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন। আইপিএলের প্রথম অংশে যে দলটা নিজেদের প্রথম সাতটা ম্যাচের মধ্যে পাঁচটাতেই হেরেছিল, তারা কি না সোজা গিয়ে ফাইনালে উঠে গেল। বুধবার অষ্টমীর দিন নাইটভক্তদের খুশি করে দিল্লিকে হারিয়ে দিল কেকেআর। সেই সঙ্গে উঠে গেল ফাইনালে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ধোনির চেন্নাই।

শারজার মন্থর পিচে এ দিন টসে জিতে দিল্লিকে ব্যাট করতে পাঠায় কেকেআর। ভালোই শুরু করেছিলেন দিল্লির দুই ওপেনার পৃথ্বী শ এবং শিখর ধাওয়ান। কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রথম তিন ওভারে ১৯ রান তোলেন তাঁরা।

Shyamsundar

সিভি বরুণকে আক্রমণে নিয়ে আসতেই সাফল্য পায় কেকেআর। নিজের প্রথম বলেই পৃথ্বীকে ফিরিয়ে দেন বরুণ। ১২ রানে ফির যান তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন দিল্লির মারকুটে ব্যাটসম্যান মার্কাস স্টয়নিস। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৩৮ রান তোলে দিল্লি।

পরের দু’ওভারে কিছুটা আগ্রাসী হয় দিল্লি। ৮ ওভারের শেষে তার স্কোর পৌঁছে যায় ৫২-তে। স্টয়নিস ১১ এবং ধাওয়ান ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন। চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি কিছুতেই বাড়াতে পারছিলেন না দিল্লির ব্যাটসম্যানরা। প্রচুর বল নষ্ট করেন স্টয়নিস। তিনি ১৮ রানে ফিরতেই ক্রিজে আসেন শ্রেয়স আইয়ার।

১৫তম ওভারে শেষ হয় ধাওয়ানের দৌড়। তাঁর উইকেটও তুলে নেন সিভি বরুণ। দিল্লি তখনও ৯০ রানও স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেনি।

এর পর নামেন অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। এবং নেমেই মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ফার্গুসনের বলে রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে ফিরে যান। শিমরন হেটমেয়ার কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করছিলেন। এবং তিনি একটা জীবনও পেয়ে যান এর মধ্যে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে হেটমেয়ারই দিল্লির রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে দেন।

শেষমেশ আগ্রাসী হন শ্রেয়সও। ইনিংসের একদম শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যান দিল্লির স্কোরকে। শেষ তিন ওভারে ৩৫ রান তুলে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দিল্লি।

কেকেআরের জবাব

ভালোই শুরু করেন কেকেআরের দুই ওপেনার শুভমন গিল এবং বেঙ্কটেশ আইয়ার। প্রথমে দু’ওভারে ১৫ রান তুলে ফেলেন তাঁরা। এর পর এই জুটিকে টলানো যায়নি। ক্রমে দিল্লির বোলাদের বিরুদ্ধে নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে শুরু করেন দু’জনে।

রাবাদা, নোর্তিয়া, আবেশ খানদের শাসন করে ব্যাট করতে থাকে দুই নাইট। প্রথম পাওয়ার প্লে তে ৫১ রান উঠে যায় কেকেআরের। যদিও পরের দু’ওভারে রানের গতিতে কিছুটা ব্রেক লেগে যায়। ৮ ওভার শেষে কেকেআরের রান ছিল ৬১।

প্রথম দিকে কিছুটা ধীরে ইনিংস শুরু করেছিলেন আইয়ারের। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ক্রমে গিয়ার চেঞ্জ করেন তিনি। দশ ওভারের শেষে কেকেআরের স্কোর ছিল ৭৬, যা দ্বাদশ ওভারের শেষে ৯২ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই নিজের আইপিএল কেরিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতরানটি করে ফেলেন আইয়ার।

অর্ধশতরানের পরেই উইকেট পড়ে যায় কেকেআরের। ছয় মারতে গিয়ে আউট হন আইয়ার। ৯৬ রানের মাথায় উইকেট হারাল কলকাতা। ৫৫ করে ফিরলেন আইয়ার।

এর পর কেকেআরের রান তোলার গতিতে কিছুটা ব্রেক লাগিয়ে দেয় দিল্লি। পর পর ড্রেসিং রুমে ফিরে যান নীতীশ রানা এবং শুভমন গিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা এতটাই কম ছিল, যে রান রেট কমে যাওয়া এবং পর পর উইকেট হারানোর পরেও প্রথম দিকে কোনো চাপে পড়েনি কেকেআর।

কিন্তু ১৮তম ওভার থেকে চাপ আচমকা বেড়ে যায় কেকেআরের। শেষ ১৮ বলে ১১ রান করতে হত। ওই ওভারে রাবাদার ৬টা বলে মাত্র একটা রান তোলে কেকেআর। হারায় দীনেশ কার্তিকের উইকেট। পরের ওভারে মাত্র তিন রান ওঠে। ওই ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান কেকেআর অধিনায়ক ওইন মর্গ্যান।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য কেকেআরের প্রয়োজন ছিল ৭। সেই ওভারে চরম নাটক ছিল। পর পর দু’বলে দুটো উইকেট নিয়ে ম্যাচ আরও জমিয়ে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কিন্তু শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে কেকেআরকে ফাইনালে তুলে দেন রাহুল ত্রিপাঠি।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন