শেষ চারে কলকাতাই, তৈরি হয়ে গেল ম্যাচগুলির লাইন আপ

0

মুম্বই ২৩৫-৯ (ঈশান ৮৪, সূর্য ৮২, হোল্ডার ৪-৫২)

হায়দরাবাদ ১৯৩-৮ (মনীশ ৭০ অপরাজিত, জেসন ৩৪, নিশাম ২-২৮)

এবং

দিল্লি ১৬৪-৫ (পৃথ্বী ৪৮, শিখর ৪৩, সিরাজ ২-২৫)

বেঙ্গালুরু: ১৬৬-৩ (ভরত ৭৮ অপরাজিত, ম্যাক্সওয়েল ৫১ অপরাজিত, নোর্তিয়া ২-২৪)

দুবাই ও আবু ধাবি: কোনো নাটকীয় কিছু ঘটল না। চতুর্থ দল হিসেবে আইপিএলের শেষ চারে পৌঁছে গেল কলকাতা নাইটরাইডার্স। কারণ দুরন্ত পারফর্ম করলেও এ দিন হায়দরাবাদকে ১৭১ রানে হারাতে পারেনি মুম্বই। অন্যদিকে, দিল্লি, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর লাইনআপও নির্ধারিত হয়ে গেল।

শুক্রবারের দুটো ম্যাচের মধ্যে সবার নজর বেশি ছিল মুম্বই-হায়দরাবাদ ম্যাচের দিকেই। কারণ এই ম্যাচে মুম্বইয়ের জয়ের তাগিদ অনেকটাই বেশিছিল। শুধু জয়ই নয়, এক্কেবারে ১৭১ রানে জয়। না হলে কেকেআরকে টপকে শেষ চারে যাওয়া তাদের সম্ভব নয়।

ভাগ্য করে এ দিন টসটা জিতে নেন রোহিত শর্মা। আর তার পরেই ব্যাটে ঝড় তোলে মুম্বই। বলা ভালো ব্যাটে ঝড় তোলেন ঈশান কিষাণ। হায়দরাবাদের বোলারদের কার্যত মাঠের বাইরে আছড়ে ফেলছেন ঈশান। অন্যদিকে রোহিত মূলত সংগত দেওয়ার পাঠটাই করছিলেন।

শুরু থেকেই ওভারপ্রতি ১৫ রানে খেলছিল মুম্বই। এর ফলে প্রথম পাঁচ পাওয়ার প্লেতে ৮৩ রান তুলে ফেলে তারা।মাত্র ১৬ বলে দুর্ধর্ষ অর্ধশতরান পূরণ করেন কিষাণ। এর পর কিছুটা কামব্যাক করার চেষ্টা করে সানরাইজার্স। একদিকে মুম্বইয়ের উইকেট ফেলতে থাকে তারা। অন্যদিকে কিষাণ তাঁর লক্ষ্যে অবিচলই ছিলেন। তবে আমিরশাহির গরমের কাছে হার স্বীকার করে নেন তিনি। ৩২ বলে ৮৪ রান করে শেষ হয় কিষাণের ইনিংস।

এর পর কিছুটা কমতে শুরু করে মুম্বইয়ের রানরেট। ওভারপ্রতি তা ১১-এ নেমে আসে। তবে ১৩তম ওভারের পর মুম্বইয়ের হয়ে খেলা ধরে নেন আরও এক ফর্ম হারানো ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার যাদব। মরুভূমিতে তাঁর ব্যাটেও ঝড় আছড়ে পড়ে।

সানরাইজার্স বোলাররা ফের একবার নাকানিচোবানি খান। ২৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে আরও এগিয়ে যান সূর্য। নিজের আইপিএল কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সটা এ দিনই দেন তিনি। শেষমেশ ৪০ বলে ৮২ রান করে আউট হন তিনি। মুম্বই শেষ করে ২৩৫ রানে।

শেষ চারে যেতে হলে ৫৯ রানের মধ্যে হায়দরাবাদকে আটকে দিতে হত। কিন্তু সেটা করতে পারেনি মুম্বই। বরং মুম্বইয়ের দেওয়া টার্গেট দেখে মুষড়ে না পড়ে হাত খুলেই খেলতে শুরু করে হায়দরাবাদ। ওপেনার জেসন রয় এবং অভিষেক শর্মার মধ্যে ৬৪ রানের জুটি তৈরি হয়।

ওপেনিং জুটি ভাঙলেও হায়দরাবাদ পুরমুখি ভাবেই ম্যাচে ছিল আরও কয়েক ওভার। এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করতে নামা মনীশ পাণ্ডে দুরন্ত অর্ধশতরান করেন। তাঁকে যোগ্য সংগত দেন প্রিয়ম গর্গ। তবে পাহাড়প্রমাণ রানটা তাড়া করা খুব সহজ কাজ ছিল না হায়দরাবাদে।

অগত্যা তারগেতের রান দূরেই শেষ হয়ে যায় হায়দরাবাদের ইনিংস।

দিল্লিকে হারিয়ে দিল বেঙ্গালুরু

অন্য ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর দিল্লিকে হারিয়ে দেয় বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু। এর জয়ের পরেও অবশ্য লিগ টেবিলের শীর্ষে দিল্লি এবং তিন নম্বরে থাকল বেঙ্গালুরু।

এ দিন প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে দিল্লি। দলের হয়ে দুর্দান্ত স্টার্ট দেন পৃথ্বী শ এবং শিখর ধাওয়ান। প্রথম উইকেটে ৮৮ রান ওঠে। তাঁর ৪৮ রানের মধ্যে দিয়ে পৃথ্বীও ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে বেঙ্গালুরু। স্কোরবোর্ডে তখন সবে ৫০ রান উঠেছে। এর পর দুরন্ত একটা জুটি তৈরি হয় উইকেটরক্ষক কেএস ভরত এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে। সেই জুটিই এগিয়ে নিয়ে যায় দলকে। অর্ধশতরান করেন ভরত এবং ম্যাক্সওয়েল।

তবে দিল্লির বোলিং যথেষ্ট ভালো ছিল। সে কারণে শেষ বল পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হয়েছে। শেষ বলে ৬ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর জয়ের জন্য। ওই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে দেন ভরত।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন