আরসিবি: ২০৫-৩ (বিরাট ৮৪, বিরাট ৬৩, নীতীশ ১-২২)

বেঙ্গালুরু: ২০৬-৫ (রাসেল ৪৮ অপরাজিত, লিন ৪৩, নেগী ২-২১)

বেঙ্গালুরু: বার বার চার বার। বাঙালিহীন বাংলার দলটাকে আবার উদ্ধার করলেন সেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দানব। তিনি না থাকলে শুক্রবার কোনো ভাবেই জিততে পারত না কেকেআর।

যখন কালবৈশাখী ঝড় আছড়ে পড়েছে, তখনই বেঙ্গালুরুকে আছড়ে পড়ল বিরাট কোহলি-এবি ডেভিলিয়ার্স ঝড়। দুই ব্যাটসম্যানের তাণ্ডবে টুর্নামেন্টে এই প্রথম বার চাপে পড়ল কেকেআর বোলিং।

টসে হেরে ব্যাটিং করতে বাধ্য হয় বেঙ্গালুরু। কিন্তু এ দিন অন্য রকম মুড নিয়ে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি এবং পার্থিব পটেল। শুরু থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাটিং। কার্যত মরণবাঁচন জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে যাওয়াতেই সম্ববত এরকম ভাবে বদলে গেল বেঙ্গালুরু। প্রথম উইকেটেই পঞ্চাশ উঠল। তখন রান রেট প্রায় দশ চলছিল। পার্থিব যখন আউট হলেন, তখন রানরেট কিছুটা কমে ৮ হয়েছে।

বিরাট এবং এবি ডেভিলিয়ার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং-এর দুই মূল স্তম্ভ। কিন্তু এ বছর তো বটেই, আগের বছরেও এক সঙ্গে বড়ো রান করেননি দু’জনে। কিন্তু শুক্রবারের বেঙ্গালুরুর ছবিটা এক্কেবারেই অন্য রকম ছিল। এ দিন একদিকে বিরাট এবং অন্য দিকে এবিডি মিলে তুমুল তাণ্ডব চালিয়ে যান। তাঁদের দু’জনের দাপটেই থরহরিকম্প ধরে যায় কেকেআর শিবিরে। যখন মনে করা হচ্ছিল শতরানের গণ্ডিও অনায়াসে পেরিয়ে যাবেন বিরাট, তখনই কুলদীপ যাদবের হাতে ধরা দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন ডেভিলিয়ার্সও। শেষ ওভারে অবশ্য অন্য তারকা। এ বার জ্বলে উঠলেন মার্কাস স্টয়নিস। তাঁর জন্যই দুশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায় বেঙ্গালুরু।

এ বার লড়াই ছিল বেঙ্গালুরুর বোলিং এবং কলকাতার ব্যাটিং-এর মধ্যে। কেকেআরের ব্যাটিং-এর গভীরতা দেখে মনে করা হচ্ছিল, এই ম্যাচে সহজে হাল ছাড়বে না কেকেআর। শুরুটা সে রকমই হল। প্রাথমিক ঝড় তুলে সুনীল নারিন ফিরে গেলেও, রানরেটকে আয়ত্তের মধ্যেই রেখেছিলেন উথাপ্পা এবং ক্রিস লিন।

উথাপ্পা এবং লিনের ব্যাটিং-এর সময়ে ম্যাচ রাশ নিজেদের হাতেই রেখেছিল কেকেআর। কিন্তু দশম ওভার থেকেই সেই রাশ ক্রমশ আলগা হতে শুরু করে। সৌজন্য পবন নেগী। বাঁ হাতি এই স্পিনার ফিরিয়ে দেন লিন এবং উথাপ্পাকে। তার পর থেকেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে কেকেআর। কিন্তু দলের তুরুপের তাস তো তখনও ছিলেন। অ্যান্ড্রে রাসেল।

যে কোনো জায়গা থেকে নিজের দলের হয়ে ম্যাচ বের করতে পারেন এই অতিমানব। অন্যথা হল না এ দিনও। একার হাতেই হারের মুখ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন রাসেল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here