KL Rahul

পঞ্জাব ২০৬-৩ (রাহুল ১৩২ অপরাজিত, অগ্রবাল ২৬, দুবে ২-৩৩)

বেঙ্গালুরু ১০৯ (সুন্দর ৩০ ডেভিলিয়ার্স ২৮, অশ্বিন ৩-২১)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পুরনো অভ্যাস কি আবার ফিরে এলো? দ্বিতীয় ম্যাচে এই ধরনের পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো মানে হয় না ঠিকই, কিন্তু বৃহস্পতিবার যে ভাবে তারা পঞ্জাবের কাছে আত্মসমর্পণ করল, তাতে তাদের ভক্তরা যে চিন্তায় পড়বেন তা বলাই বাহুল্য।

অবশ্য পঞ্জাবের কাছে বেঙ্গালুরু আত্মসমর্পণ করল, এই কথাটা বলা ভুল। তারা আত্মসমর্পণ করেছে শুধুমাত্র কেএল রাহুলের কাছে। আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংসটি এ দিন খেলে গেলেন রাহুল।

এই মরশুমে বাড়তি দায়িত্ব রাহুলের কাঁধে। এই প্রথম, বড়ো কোনো টুর্নামেন্টে নিজের দলে অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন রাহুল। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই রাহুলের মধ্যে ভারতের ভবিষ্যৎ অধিনায়ককেও দেখতে পাচ্ছেন। তা রাহুল অধিনায়কত্বের চাপটা ‘চাপ’ হিসেবে দেখতে রাজি নন, সেটা এ দিন তাঁর ইনিংসেই প্রমাণিত হয়ে গেল।

পঞ্জাবের কাছে বেঙ্গালুরুর এই হারের পেছনে ঠিক কতটা দায়ী বিরাট কোহলি? অনেকটাই। কারণ রাহুলএর মোক্ষম ক্যাচ তিনি না পর পর দু’বার না ছাড়লে অন্তত ৫০টা রান কম করতে পারত পঞ্জাব।

দুবাই স্টেডিয়ামের আলোগুলো ফিল্ডারদের কাছে বড়ো সমস্যা তৈরি করে। আর ঠিক সেই কারণেই ৮০-এর ঘরে কেএল রাহুলের (KL Rahul) দু’বার লোপ্পা ক্যাচ ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। নিজের দলের প্লেয়াররা ক্যাচট্যাচ ছাড়লে কোহলি যে ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখেন, এ দিন সেটা দেখাতে পারেননি। কারণ এ দিন দোষী তো তিনি নিজেই।

এ দিন তাঁর ইনিংসের মধ্যে দিয়ে দুটো রেকর্ড করেছেন রাহুল। প্রথমত, ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম দু’হাজার আইপিএল রানের মালিক তিনি। দ্বিতীয়ত, এ দিন তাঁর ১৩২ অপরাজিত রানের ইনিংসটা এখনও পর্যন্ত আইপিএলে কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্কোর।

পঞ্জাবের ইনিংস এ দিন পুরোটাই রাহুলময় ছিল। টেকনিকের সঙ্গে আগ্রাসী ব্যাটিং মিশিয়ে অসাধারণ একটা ইনিংস খেলে গেলেন তিনি। বেঙ্গালুরুর বোলারদের ভোঁতা করে দিলেন।

তাঁর সামনে পঞ্জাবের বাকি ব্যাটসম্যানরাও ম্লান ছিলেন। আগের ম্যাচে পঞ্জাবের সেরা খেলোয়াড় ময়াঙ্ক অগ্রবালের সঙ্গে রাহুলের ওপেনিং জুটিতে ৫০-এর বেশি রান ওঠে। অগ্রবালকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন যজুবেন্দ্র চাহল।

চাহল ফিরে যাওয়ার পর রাহুলের সঙ্গে নিকোলাস পুরান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, করুন নায়ারদের জুটি তৈরি হলেও বাকিদের কিছুই কার্যত করতে হয়নি। পঞ্জাবের রান বাড়িয়ে দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব রাহুল নিজের কাঁধেই নিয়েছিলেন।

রাহুলের দাপটে অর্ধশতরান করে ফেলেন বেঙ্গালুরুর ডেল স্টেইন। চার ওভারে ৫৭ রান দেন তিনি। পঞ্জাব তাঁদের ইনিংস শেষ করে ২০৬ রানে।

তবে প্রথম ম্যাচ জিতে মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকা বেঙ্গালুরু এই রান ভালো ভাবেই তাড়া করবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সেটা আর হল কই। শুরুতেই আগের দিনের নায়ক দেবদত্ত পাড়িক্কালকে ফিরিয়ে দেন শেলডন কটরেল। অপর প্রান্তে তখন বল হাতে আগুন ঝরাতে শুরু করেছেন মহম্মদ শামি।

মাত্র চার রান স্কোরবোর্ডে তুলে তিন উইকেট হারাল বেঙ্গালুরু। ততক্ষণে প্যাভিলিয়নমুখী হয়েছেন বিরাটও। এর পর কি বেঙ্গালুরুর আর কোনো আশা থাকে? না, এবি ডেভিলিয়ার্স ছাড়া, কেউই আর পঞ্জাবের বোলিংয়ের মুখোমুখি হতে পারেননি।

কটরেল-শামির পেস তাণ্ডবের পর রবি বিষ্ণোই আর মুরুগাম অশ্বিন নিজেদের ঘূর্ণিতে কাত করে দিয়ে যান আরসিবির বাকি ব্যাটসম্যানদের। পরিষেবা কি হল? রাহুল রানের থেকে ২৩ রান দুরেই শেষ করল বেঙ্গালুরু।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়ে দুর্ধর্ষ ইনিংস কেএল রাহুলের

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন