ভারত ৬৪৯-৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮১ (চেজ ৫৬, পল ৫৭, অশ্বিন ৪-৩৭) এবং (ফলোঅন) ১৯৬ (পাওয়েল ৮৩, চেজ ২০, কুলদীপ ৫-৫৭)

রাজকোট: প্রথম ইনিংসটা যদি অশ্বিনের হয়, তা হলে দ্বিতীয় ইনিংসটা অবশ্যই কুলদীপ যাদবের। এই দুই স্পিনারের ঘূর্ণির পাকে বনবন করে ঘুরে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

একটি তথ্যে জানা গিয়েছে, ভারতের মাটিতে সব থেকে সফল বিদেশি দল এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মানে একটা ওয়েস্টইন্ডিজই একমাত্র দল, যারা ভারতে টেস্ট সিরিজ খেলতে এসে বেশ কয়েকবার ভারতকে হারিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে। যে ভারতকে স্টিভ ওয় পর্যন্ত বলতেন ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার,’ সেই ভারতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্য অতুলনীয়।

কিন্তু সে তো ছিল ৭০ এবং ৮০-এর দশকের কথা। তার পর বিভিন্ন নদী দিয়ে বিপুল জল বয়ে গিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এখন সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজও নেই, নেই তাদের রাজত্ব। দুর্বল হতে হতে একটি রাজ্য দলের পর্যায়ে নেমে গিয়েছে তারা। সেই দলকে যে ভারত হেলায় হারাবে, সেটা তো ভবিতব্যই ছিল। কিন্তু দেখার ছিল, ভারত ঠিক কতটা নির্মম ভাবে তাদের হারায়। ঠিক সেটাই হল। ভারতের স্পিনারদের সামনে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা।

প্রথম ইনিংসে শেষ চারটে উইকেট হাতে নিয়েও স্কোরবোর্ডে যে তারা ৮৫টা রান যোগ করল, তার জন্য রস্টন চেজ এবং কিমো পলের। সপ্তম উইকেটে এই দু’জনের জুটির জন্যই কিছুটা প্রতিরোধ তৈরি করেছিল ক্যারিবিয়ান সাগরের পাড়ের এই দলটা। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই, কিছুক্ষণের মধ্যে গোটা ইনিংস্টাই শেষ হয়ে গেল। চার উইকেট তুলে নিলেন অশ্বিন।

প্রথম ইনিংসটা যদি অশ্বিনের নামে হয়, তা হলে দ্বিতীয় ইনিংসের নায়ক কুলদীপ যাদব। ম্যাচ যে আর কোনো ভাবেই বাঁচানো সম্ভব নয়, সেটা বুঝে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক এবং আগ্রাসী ব্যাটিং করার চেষ্টা করছিল তারা। ওপেনার কিরণ পাওয়েল, চেষ্টা, পালটা লড়াই করে যাচ্ছিলেন। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে ৮৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস গড়েন তিনি। চারটে ছক্কাও মেরেছেন এগিয়ে এসে। কিন্তু তিনি ছাড়া আর কেউই সে ভাবে দাঁড়াতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ওপরে একাই বুলডোজার চালিয়ে দেন কুলদীপ।

এখন দেখার দ্বিতীয় টেস্টে আর কতটা নির্মম ভাবে বিপক্ষকে সাবাড় করে বিরাট বাহিনী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন