Mitali Raj

ওয়েবডেস্ক: টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন মিতালি রাজ। একের পর এক বোমা ফাটালেন দলের কোচ রমেশ পওয়ার এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের প্রশাসক কমিটির সদস্য ডায়ানা এদুলজির বিরুদ্ধে।

ডায়ানা এদুলজির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন মিতালি। অন্য দিকে তাঁকে অপমান করার অভিযোগ রমেশ পওয়ারের বিরুদ্ধে এনেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিসিসিআইকে একটি চিঠি দিয়েছেন মিতালি। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বেশ কয়েক জন।”

এদুলজি সম্পর্কে মিতালি বলেন, “ডায়ানা এদুলজি ক্রিকেট বোর্ডে যে পদ অধিকার করে রয়েছেন, তাঁর জন্য আমি তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করি। কিন্তু কখনও ভাবতে পারিনি, তিনি তাঁর পদকে কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে এ রকম ভাবে চক্রান্ত করবেন। আমার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটা উনি জানেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও সেমিফাইনালের দলে আমাকে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনাটিকে উনি যে ভাবে সমর্থন করেছেন, সেটা খুবই খারাপ ব্যাপার।”

আরও পড়ুন বিরাটদের ড্রেসিংরুমে পাঠানোর অস্ত্র মজুত আছে অস্ট্রেলিয়ার হাতে : কিংবদন্তি ক্রিকেটার

উল্লেখ্য, সেমিফাইনালের দল থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন এদুলজি।

এই চিঠির পরে, ভারতীয় দলে তাঁর স্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে মিতালি বলেন, “আমি জানি এক জন প্রশাসকের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ করার পর, ভারতীয় দলে আমার স্থান অনেক নড়বড়ে হয়ে যাবে। কিন্তু আমার না খেলাকে যে ভাবে সমর্থন করা হয়েছে, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে আমার বিরুদ্ধে একটা পক্ষপাতিত্ব চলছে।”

বিসিসিআইয়ের সিইও রাহুল জোহরি এবং ক্রিকেট অপারেশন্সের জেনারেল ম্যানেজার সাবা কারিমকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠিতে মিতালি অভিযোগ করেন, “কুড়ি বছরে এই প্রথম বার আমি এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছি। আমার মনে হচ্ছে দেশকে এত দিন ধরে অনেক কিছু দেওয়ার পরেও প্রশাসনের অনেকেরই মন আমি গলাতে পারিনি। তাঁরা আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে ফেলতে চাইছে।”

ভারতীয় টি২০ দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের বিরুদ্ধে তাঁর খুব বেশি অভিযোগ নেই, সেটা পরিষ্কার করেই মিতালি বলেন, “হরমনপ্রীতের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযোগ আমার নেই। তবে দল থেকে আমাকে বাদ দেওয়ার জন্য কোচ পাওয়ারের সিদ্ধান্তকে ও যে সমর্থন করেছিল, তাতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।”

আরও পড়ুন বিরাট কোহলিকে টপকে গেলেন এই ক্রিকেটার

তবে রমেশ পওয়ারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ বিস্তর। মিতালি বলেন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজে পা রাখার পরেই কোচের সঙ্গে সমস্যা শুরু হয় আমার। আমার প্রতি তাঁর আচরণ যে বৈষম্যমূলক, সেটা আমি শুরু থেকেই খেয়াল করতে শুরু করি। এমন বেশ কয়েক বার হয়েছে, যখন আমি নেটে ব্যাট করার সময় কোচ চলে গেলেন, আবার অন্য কেউ ব্যাট করার সময়ে, তাঁর দিকে নজর দিলেন। আমি অনেক বার অপমানিত হয়েছি, কিন্তু মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি।”

পওয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির আরও ধারালো করে মিতালি বলেন, “দলের স্বার্থে আমি চেয়েছিলাম কোচের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা মিটিয়ে নিতে। সেটা করার জন্য যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, তখন খেয়াল করলাম, আমার প্রতি তাঁর আচরণ আরও খারাপ হয়েছে। আমি যে দলের একজন সদস্য, সেটাই আমাকে বুঝতে দেননি কোচ।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে মাঠে আসতে নিষেধ করেছিলেন পওয়ার, এমনও অভিযোগ করেন মিতালি। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগের দিন বিকেলে আমাকে ফোন করে রমেশ বলেন, আমাকে মাঠে আসতে হবে না। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমি আমার দলের সঙ্গেই থাকব না। আমি তো স্তম্ভিত হয়ে যাই।”

আরও পড়ুন প্রায় ২০ বছর পরে অনিল কুম্বলের সমকক্ষ হলেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ম্যাচে ফিট থাকা সত্ত্বেও খেলানো হয়নি মিতালি রাজকে। তখন থেকেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ধিকিধিকি একটা আগুন চলছিল। পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে টি২০ ক্রিকেটে ভারতীয় হিসেবে সর্বোচ্চ রানাধিকারীকে কী ভাবে বসানো হয়, সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। সেই বিতর্ক বাড়িয়ে দেন মিতালির ম্যানেজার তৃপ্তি ভট্টাচার্য। হরমনপ্রীতের বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলার অভিযোগ আনেন তিনি।

রমেশের বিরুদ্ধে মিতালি যে ভাবে মুখ খুললেন, তার থেকে সৌরভ-চ্যাপেলের অধ্যায়ের মিল পাওয়া যায়। এখন দেখার এই অভিযোগের পরে, মহিলা ক্রিকেটের কিংবদন্তির সঙ্গে নিজের বোর্ড কী রকম আচরণ করেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here