চার জনের অর্ধশতরান ম্লান, চেন্নাইকে আইপিএলের ফাইনালে তুলে দিলেন একা ধোনি

0

দিল্লি ১৭২-৫ (পৃথ্বী ৬০, পন্থ ৫১ অপরাজিত, হেজেলউড ২-২৯)

চেন্নাই ১৭৩-৬ (ঋতুরাজ ৭০, উথাপ্পা ৬৩, কারান ৩-২৯)

দুবাই: স্কোরবোর্ড সব সময় সঠিক কথা বলে না। উল্লিখিত স্কোরবোর্ডে কোথাওই চেন্নাই অধিনায়কের নাম নেই। অথচ চেন্নাইকে আইপিএলের ফাইনালে তোলার পেছনে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির অবদান অনস্বীকার্য। ৬ বলে ১৮ রানের সংক্ষিপ্ত ধোনি ধামাকায় ভর করেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে গেল চেন্নাই।

শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল দিল্লি। বিশেষ করে পৃথ্বী শ এ দিন চূড়ান্ত ফর্মে ছিলেন। চেন্নাইয়ের অস্ট্রেলীয় পেসার জস হেজেলউডের ওভারে ১২ রান তোলে দিল্লি। এটি ছিল ম্যাচে দ্বিতীয় ওভার। সেখানে ১টি চার ও ১টি ছক্কা মেরে নিজের ইনিংসের সূচনা করেন পৃথ্বী।

ক্রমশ আরও আগ্রাসী হন পৃথ্বী। তৃতীয় ওভারে দীপক চাহরকে ৪টি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ওভারে ১৭ রান ওঠে। ৩ ওভার শেষে দিল্লি কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩২ রান তুলে ফেলে।

তবে চতুর্থ ওভারে হেজেলউডের বলে ধোনির দস্তানায় ধরা পড়েন শিখর ধাওয়ান। ৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। পঞ্চম ওভারে শার্দুল ঠাকুরের বলে পৃথ্বীর ক্যাচ ছাড়েন ধোনি। তার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয় চেন্নাইকে। কারণ ওই ওভারে ২টি ছক্কা মারেন পৃথ্বী। পঞ্চম ওভারেই পঞ্চাশে পৌঁছে যায় দিল্লি।

ষষ্ঠ ওভারে শ্রেয়স আইয়ারকে ফিরিয়ে দেন হেজেলউড। ৮ বলে ১ রান করে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের হাতে ধরা পড়েন শ্রেয়স। কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্ধশতরানের গণ্ডি পেরিয়ে যান পৃথ্বী। ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগত পঞ্চাশ পূর্ণ করেন পৃথ্বী।

দশম ওভারে তৃতীয় উইকেট হারায় দিল্লি। মঈন আলিকে তুলে মারতে গিয়ে পরিবর্ত ফিল্ডার স্যান্টনারের হাতে ধরা পড়েন অক্ষর পটেল। ১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১১ বলে ১০ রান করে আউট হন অক্ষর। দিল্লি ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারায়।

একাদশ ওভারেই অবশ্য বড়ো সাফল্য পায় চেন্নাই। পৃথ্বীকে ফিরিয়ে দেন চেন্নাইয়ের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য জাদেজা। ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ বলে ৬০ রান করে সাজঘরে ফেরেন পৃথ্বী। এর পর শিমরন হেটমেয়ার এবং অধিনায়ক ঋষভ পন্থের মধ্যে বড়ো জুটি তৈরি হয়। চোদ্দতম ওভারে একশো রান পেরোয় দিল্লি।

ক্রমে রান তোলার গতি বাড়ায় দিল্লি। হেটমেয়ার এবং পন্থ মিলে চেন্নাইয়ের বোলারদের বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে থাকেন। ১৭ ওভারের শেষে ১৪১ রানে পৌঁছে যায় দিল্লি। এর পরের ওভারে দেড়শো পেরিয়ে যায় রাজধানীর দল। পন্থ এবং হেটমেয়ারের এই জুটি ভাঙে ১৯তম ওভারে। হেটমেয়ারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ব্রাভো।

ইনিংসের শেষ বলে দু’রান নিয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন পন্থ। সেই সঙ্গে ১৭০ রানের গণ্ডিও পেরিয়ে যায় দিল্লি।

চেন্নাইয়ের জবাব

রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় চেন্নাই। নোর্তিয়ার বলে বোল্ড আউট হয়ে যান তাঁরই সাউথ আফ্রিকান সতীর্থ ফাফ দু’প্লেসি। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে এই দু’প্লেসির ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদেই ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছেছিল চেন্নাই।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো ইনিংস শুরু করেন রবিন উথাপ্পা। যে উথাপ্পাকে দু’তিন বছর আগে আইপিএলের মঞ্চে দেখা যেত, এ দিন সেই উথাপ্পাই দাপট দেখাতে শুরু করেন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে চেন্নাইকে টানতে থাকেন ঋতুরাজ এবং উথাপ্পা।

পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে চেন্নাই ১ উইকেটে ৫৯ রান তোলে। উথাপ্পা আবেশ খানের ওভারে ২টি চার ও ২টি ছক্কা-সহ ২০ রান তোলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্ধশতরানের গণ্ডি পেরিয়ে যান উথাপ্পা। ৩৫ বলে ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

দুর্দান্ত খেলছিলেন উথাপ্পা। তাঁকে যোগ্য সংগত দিচ্ছিলেন ঋতু। এই দু’জনের জুটিতে রান এমন ভাবে উঠছিল যে ঋষভ পন্থের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল। তবে টম কারানের কারণে বিশাল স্বস্তি পায় দিল্লি। চোদ্দতম ওভারে উথাপ্পাকে ফিরিয়ে দেন কারান।

উথাপ্পা আউট হতেই পর পর উইকেট পড়তে থাকে চেন্নাইয়ের। একে একে ফেরেন শার্দূল ঠাকুর, অম্বতি রায়ুড়ু। যদিও এর মধ্যেই নিজের দুরন্ত অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন ঋতুরাজ।

ঋতু এবং মঈন মিলে চেন্নাইয়ের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আস্কিং রেট ক্রমশ ছড়ছিল। নোর্তিয়া, রাবাদা, আবেশ খানদের সামলে কিছুতেই বড়ো শট খেলতে পারছিলেন না দু’জনে। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ঋতুকে ফিরিয়ে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেন আবেশ খান। ক্রিজে আসেন ধোনি। নিজের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আরও উত্তেজক করে তোলেন চেন্নাই অধিনায়ক। শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল ১৩।

শেষ ওভারের প্রথম বলেই মঈন আলিকে ফিরিয়ে দেন টম কারান। ঠিক পরের বলেই চার মেরে দেন ধোনি। তৃতীয় বলে ফের চার মারেন চেন্নাই অধিনায়ক। ৩ বলে ৫ করলেই জয় চেন্নাইয়ের। পরের বলটি হয় ওয়াইড। ওভারের চতুর্থ বলে ফের একটা চার হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে দেন ধোনি।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন