সেই ধারাই কি বজায় রাখতে চলেছে মুম্বই?

0

চেন্নাই: ১৩১-৪ (রায়ুড়ু ৪২ অপরাজিত, ধোনি ৩৭ অপরাজিত, রাহুল ২-১৪)

মুম্বই: ১৩২-৪ (সূর্যকুমার ৭১ অপরাজিত, ঈশান ২৮, তাহির ২-৩৩)

চেন্নাই: সাম্প্রতিক অতীতে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে আধিপত্য দেখিয়ে চলেছে মুম্বই। এই আইপিএলেও লিগের দুটো ম্যাচেই জিতেছে নীল জার্সিধারীরা। সেই ট্র্যাডিশনই বজার থাকল এখানে। চেন্নাইকে সহজেই হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে উঠে গেল মুম্বই। আসলে এ দিন চেন্নাইয়ের হারারই ছিল। শুরু থেকেই যেন কোনো কিছুই ঠিকঠাক চলছিল না চেন্নাইয়ের। তাই এই ফল খুব একটা অবাক করা কিছুও নয়।

দু’বছর আগে জশপ্রীত বুমরাহ যে ভুলটা করেছিলেন, সেটারই প্রায় পুনরাবৃত্তি করে ফেলেছিলেন। কিন্তু নিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদেই তা হতে দিলেন না তিনি। চেন্নাইও শেষ ওভারে বাড়তি অক্সিজেন পেল না। ধোনির মতো ক্রিকেটারকে আউট করার পর যদি দেখা যায় বোলার নো-বল করেছেন, তা হলে ফিল্ডিং দলের কাছে সেটা বাড়তি আঘাত হওয়ার কথা। বুমরাহ এমনটাই করেছিলেন, কিন্তু পরের ছ’বলে অসাধারণ বল করে ধোনিকে হাতই খুলতে দিলেন না তিনি। ফলে চেন্নাইকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারলেন না ধোনি।

এ দিন শুরু থেকেই চেন্নাইয়ের দিন ছিল বলে মনে হয় না। গত ২৩ মার্চ, যে রকম পিচে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছিল, সে রকম পিচই রয়ে গেছে চেন্নাইয়ে। তাই ব্যাটসম্যানরা শত চেষ্টা করেই রানের গতি কিছুতেই বাড়াতে পারছেন না। আর বাড়াবেনই বা কী ভাবে। টপ ফর্মে থাকা চেন্নাইয়ের দুই ক্রিকেটার ফাফ দু’প্লেসি এবং সুরেশ রায়না যদি প্রথমেই আউট হয়ে যান, দল বিপদে পড়তে বাধ্য।

শেন ওয়াটসনের এই টুর্নামেন্টে গড় ১৮। মাঝে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ ৯৬ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেটা না এলে, তাঁর গড় হত ১২। তা মন্থর পিচে প্রথম দিকেই যখন রায়না এবং দু’প্লেসি ফিরে যাচ্ছেন, তখন ওয়াটসনের থেকেও বিশেষ কিছু আশা করা উচিত ছিল না। সে রকমই হল, প্রথমে কয়েকটি শট খেলে ফিরে গেলেন তিনি। চার নম্বরে নামা মুরলি বিজয় চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টেকেননি। একটা সময়ে চেন্নাইয়ের স্কোর গিয়ে দাঁড়াল চার উইকেটে ৬৫। বল হাতে ভেলকি দেখাতে শুরু করে দিয়েছেন লেগ স্পিনার রাহুল চাহর।

সাত ওভার বাকি, ক্রিজে ধোনি। এই সময়ে ধোনি ধামাকার কথাই ভাববেন চেন্নাই সমর্থকরা। কিন্তু এ দিন সেটা হয়নি। ধোনি ক্রিজে শেষ পর্যন্ত থাকলেন, তিনটে ছক্কাও মারলেন, কিন্তু সেই ধামাকা দেখা গেল না তাঁর ব্যাট থেকে। আসলে পিচের চরিত্রই যে অন্য রকম ছিল। তা-ও শেষ সাত ওভারে ৭০-এর কাছাকাছি রান তুলে একটা ভদ্রস্থ স্কোর চেন্নাই খাড়া করল, সেটাই অনেক।

চেন্নাই যে ম্যাচটি সহজে ছেড়ে দেবে না, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। সেই লড়াইটাই ফুটে উঠল ইনিংসের এক্কেবারে শুরুতে। প্রথমেই রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন দীপক চাহর। কিছুক্ষণের মধ্যেই হরভজনের শিকার হন কুইন্টন ডি কক। ঠিক এই সময়ে মনে হচ্ছিল, ক্রমশ চাপে পড়ছে মুম্বই।

কিন্তু চাপ কাটিয়ে চেন্নাই শিবিরেই পালটা চাপ ফিরিয়ে দিলেন কেকেআর থেকে বিতাড়িত একজন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত কেকেআরে চুটিয়ে খেলেছেন সূর্যকুমার যাদব। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচই দলকে জিতিয়েছেন। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ২০১৮ সালে তাঁকে দলে রাখার প্রয়োজন মনে করনি কেকেআর। তিনি ফিরে যান ঘরের দলে। সেই সূর্যকুমারই ঠান্ডা মাথায় অসাধারণ একটা ইনিংস উপহার দেন। ১৩২ রানের মধ্যে তাঁর ব্যাট থেকেই বেরোয় ৭১।

মাঝে অবশ্য ছোটোখাটো একটা চমক দিয়েছিলেন ইমরান তাহির। তাঁর পর পর দুই বলে শিকার হন ঈশান কিষাণ এবং ক্রুণাল পাণ্ড্য। ব্যাস চমক বলতে ওই টুকুই ছিল। সূর্যকুমারকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা শেষ করে ফেলেন হার্দিক পাণ্ড্য। চেন্নাইয়ের অবশ্য এখনও দ্বিতীয় একটা সুযোগ রয়েছে। ফাইনালে ওঠার আশায় শুক্রবার দিল্লি-হায়দরাবাদ ম্যাচে বিজয়ীদের বিরুদ্ধে নামবে তারা।

আচ্ছা মুম্বই কী ধারা বজায় রাখছে বলুন তো?

একটু ভাবুন, মুম্বই কোন সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৭। তা হলে এ বার বুঝতে পারলেন তো!

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন