পোলার্ড ঝড়ে শেষ পঞ্জাব, তবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারও সমাধানসূত্র বেরোল

0
এ ভাবেই তাণ্ডব চালালেন পোলার্ড।

পঞ্জাব: ১৯৭-৪ (রাহুল ১০০ অপরাজিত, গেল ৬৩, পাণ্ড্য ২-৫৭)

মুম্বই: ১৯৮-৭ (পোলার্ড ৮৩, ডে কক ২৪, শামি ৩-২১)

Loading videos...

মুম্বই: উত্তর এবং পূর্ব ভারতেই গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় ঝড় ওঠে। মুম্বইয়ে ওঠে না। কিন্তু এ দিন মুম্বইয়ে সে রকমই একটা ঝড় উঠল। প্রাকৃতিক নয়, ঝড় তুললেন অ্যান্ড্রে রাসেলের জাতভাই। কায়রন পোলার্ডের সেই ঝড়েই জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে থেকেও হেরে গেল পঞ্জাব। ব্যর্থ হল কেএল রাহুল, মহম্মদ শামিদের লড়াই।

বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের চার নম্বর জায়গাটি তিনি দখল করতে তৈরি, বারবার সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেএল রাহুল। প্রথম দু’টো ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তার পর থেকে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী রাহুলের গ্রাফ। গত কয়েকটি ম্যাচ ধরে জারি রাখা সেই চূড়ান্ত ফর্ম দেখিয়েই বুধবার অসাধারণ একটি শতরান করে ফেললেন তিনি।

এই ম্যাচে হঠাৎ করেই যেন রাহুল টেকঅফ করলেন। দলের ১৮তম ওভার পর্যন্ত তাঁর রান এবং বলের ফারাক ছিল বেশ কম। স্ট্রাইক রেট কোনো রকমে একশোর ওপরে ছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারেই সব ওলটপালট করে দিলেন তিনি। আর তার জন্য বাছলেন হার্দিক পাণ্ড্যর ওভারকেই।

অনেকেই মনে করেন, ‘কফি উইথ করন’-এ বেকার ফেঁসে গিয়েছিলেন রাহুল। মূল দোষটা হার্দিকের থাকা সত্ত্বেও রাহুল যে হেতু ওই শো-তে উপস্থিত ছিলেন, তাই তার ওপরেও কোপ পড়ে। সেই স্মৃতিই কি রাহুলের এ দিন ফিরেছিল? পাণ্ড্যর ওভারে যে ভাবে তিনি একাই ২৩ রান তুললেন, তা দেখে মনে তো তেমনই হল।

শতরানের পর রাহুল।

আরও পড়ুন “আইপিএলে কোচেদের মাঠে নামতে দেখে আমার গা জ্বলে যায়”

অথচ এ দিন রাহুলের নয়, স্টেজ তৈরি ছিল ‘দ্য ইউনিভার্স বস’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ক্রিস গেলের। শুরুও করেছিলেন বসের মতোই। গেল-রাহুলের ব্যাটিং চলার সময়ে মনে হচ্ছিল, খুব সহজেই দুশোর গণ্ডি পেরিয়ে যাবে পঞ্জাব। দুশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট রাখা গেলের ইনিংসের আকস্মিক সমাপ্তি ঘটে যায় ১৩তম ওভারে। তার পরের কয়েকটি ওভার পঞ্জাবের ছন্দপতন এবং মুম্বইয়ের প্রত্যাবর্তনের গল্প।

একে একে ফিরে গেলেন মিলার, করুন নায়ার এবং স্যাম কারান। রান রেটও কমছিল ক্রমশ। দায়িত্বটা রাহুলের কাঁধেই এসে পড়ে আর তিনি জ্বলে ওঠেন। তাঁর সৌজন্যেই দুশোর কাছাকাছি পৌঁছোতে পারে পঞ্জাব।

লক্ষ্যমাত্রাটি পাহাড়প্রমাণ! আর তার পর যদি দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে তা হলে রান তাড়া করা দলের কাছে আরও চাপের হয়ে যায়। প্রথম ১২ ওভারের মধ্যে চার উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল মুম্বই। কিন্তু সেই চাপ থেকে দলকে টেনে তুলে পালটা পঞ্জাব শিবিরকে চাপে ফেলে দেন কায়রন পোলার্ড।

রোহিতের অনুপস্থিতিতে এ দিন তিনি মুম্বইয়ের অধিনায়কত্ব করছেন এবং শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজ। সহ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অ্যান্ড্রে রাসেলের কাছে এত দিন বেশ কিছুটা ফিকেই লাগছিল পোলার্ডকে। এ দিন তিনি জ্বলে উঠলেন। এমন ভাবেই জ্বলে উঠলে যে পোলার্ড ঝড় আছড়ে পড়ল মুম্বইয়ে। একার হাতেই পঞ্জাবের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন তিনি।

এরই মধ্যে আরও একবার অসাধারণ বল করে গেলেন মহম্মদ শামি। এই শামির কাছেই কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিলেন পোলার্ড। পোলার্ডের উইকেট শামি তুলতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু হার্দিক পাণ্ড্য-সহ অন্য তিন জনের উইকেট বুঝিয়ে দিয়েছে এখন শামি নতুন রূপে এসেছেন।

সেই সঙ্গে আরও একটা প্রশ্নেরও সম্ভবত সমাধান হয়ে গেল! বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের চার নম্বর জায়গাটার ব্যাপারে। রাহুল যে ফর্ম দেখাচ্ছেন, এর পর কি তাঁকে দলের বাইরে আর রাখা যাবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.