হারল পঞ্জাব, অবশেষে আমিরশাহিতে জয়ের মুখ দেখল মুম্বই

0

পঞ্জাব ১৩৫-৬ (মার্করাম ৪২, হুডা ২৮, বুমরাহ ২-২৮)

মুম্বই ১৩৭-৪ (সৌরভ ৪৫, হার্দিক ৪০ অপরাজিত, বিষ্ণৈ ২-২৫)

আবু ধাবি: সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে টানা তিন ম্যাচ হারার পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। শনিবার তারা হারিয়ে দিল পঞ্জাব কিংসকে। ফলে লিগ টেবিলে ফের স্বস্তিদায়ক জায়গায় ফিরল তারা।

মঙ্গলবারের ম্যাচে কেএল রাহুলের ওপেনিংসঙ্গী হন মনদীপ সিংহ। শুরুটা ভালোই করেছিলেন দু’জন। তবে কিছুটা ঢিমেতালে চলছিল ইনিংসটা। তবে পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে মনদীপকে ফিরিয়ে পঞ্জাব কিংসের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ক্রুণাল পান্ডিয়া।

পঞ্জাব দলগত ৩৬ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন ক্রিস গেইল। তবে তিনিও বেশিদূর এগোতে পারেননি। বল হাতে নিয়েই গেইলের উইকেট তুলে নেন কায়রন পোলার্ড। বেশি দূর এগোতে পারেনি গেইলের ইনিংস।

গেইলকে ফেরানোর পর একই ওভারের চতুর্থ রাহুলের উইকেট তুলে নেন পোলার্ড। টি-২০ ক্রিকেটে পোলার্ডের ৩০০তম শিকার হন পঞ্জাবের অধিনায়ক। ২টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২২ বলে ২১ রান করে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন লোকেশ।

আরও উইকেট পড়তে থাকে পঞ্জাবের। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে বুমরাহ ফিরিয়ে দেন পুরানকে। ৩ বলে ২ রান করে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ৫০ পেরোনোর আগেই চার উইকেট হারিয়ে কার্যত ধুঁকতে থাকে পঞ্জাব। এর পর পঞ্জাবের ইনিংসকে কিছুটা অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেন দীপক হুডা এবং এইডেন মার্করাম।

রানরেট বাড়তে থাকে পঞ্জাবের। ১৫ ওভারে ১০৫-এ পৌঁছে যায় তারা। মনে করা হচ্ছিল যে দেড়শো রান অনায়াসেই পেরিয়ে যেতে পারে পঞ্জাব। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় মুম্বইয়ের বোলাররা। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩০ রান তুলতেই সক্ষম হয় পঞ্জাব। তাদের ১৩৫ রানে আটকে দেয় মুম্বই।

মুম্বইয়ের জবাব

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে যথারীতি ওপেন করতে নামেন রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি’কক। পঞ্জাবের হয়ে বোলিং শুরু করেন এডেন মার্করাম। প্রথম ওভারে ৬ রান ওঠে।

তৃতীয় ওভার পর্যন্ত মুম্বইয়ের ওপেনাররা অপরাজিত ছিলেন। তবে চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে রোহিতের উইকেট তুলে নেন রবি বিষ্ণৈ। ১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০ বলে ৮ রান করে মনদীপের হাতে ধরা পড়েন হিটম্যান। মুম্বই ১৬ রানে ১ উইকেট হারায়। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন সূর্যকুমার যাদব।

মুম্বই অবশ্য আরও একটি ধাক্কা খায়। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান সূর্য যাদব। পরপর ২ বলে মুম্বইয়ের দুই তারকাকে ফেরত পাঠান বিষৈ। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সৌরভ তিওয়ারি। তিনি হ্যাটট্রিক করতে দেননি রবিকে।

কিছুটা থিতু হওয়ার চেষ্টা করে মুম্বই। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩০ রান তোলে মুম্বই। দশম ওভারের পঞ্চম বলে ডি’কককে বোল্ড করেন শামি। দশম ওভার পর্যন্ত তিন উইকেট হারিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ৬২ রানে পৌঁছোয় মুম্বই। হার্দিক পাণ্ড্য ক্রিজে চলে এলেও রানের গতি বাড়াতে সমস্যা হচ্ছিল মুম্বইয়ের।

অর্ধশতরান করার আগেই ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন সৌরভ তিওয়ারি। ঠিক তার পরেই জ্বলে ওঠে হার্দিকের ব্যাট। যদিও আস্কিং রেটকে কিছুতেই বাগে অ্যানা যাচ্ছিল না সে ভাবে। শেষ দু’ওভারে, মুম্বইয়ের যখন ১৬ রান দরকার, তখনই বল হাটে পান শামি। আর শামিকেই টার্গেট করেন হার্দিক। ওই ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ বলে ১৬ রান তুলে দলকে জিতিয়ে দেন তিনি।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন