বিরাটবাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিয়ে টেস্ট-বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হল নিউজিল্যান্ড

    আরও পড়ুন

    ভারত: ২১৭ & ১৭০ (পন্থ ৪১, রোহিত ৩০, বোল্ট ৩-৩৯)

    নিউজিল্যান্ড: ২৪৯ & ১৪০-২ (উইলিয়ামসন ৫২ অপরাজিত, টেলর ৪৭ অপরাজিত অশ্বিন ২-১৭)

    Loading videos...

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: ম্যাচের শেষ দিন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এমন একটা আশঙ্কা কিন্তু ছিলই। সেই আশঙ্কাই এ দিন সত্যি হয়ে গেল। বহু যুগ পরে কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলা হল ষষ্ঠ দিনেও। দু’টো দিন বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও এই একটা দিনের খেলার ভাগ্য পুরোপুরি ভাবে ঘুরে গেল। ২৪ ঘণ্টা আগেও যে ম্যাচ ড্র-এর দিকে গড়াবে মনে হচ্ছিল, সেটাই জিতে নিল নিউজিল্যান্ড। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম জয়ী নির্বাচিত হল কিউয়িরা।

    ভেঙে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং

    - Advertisement -

    বুধবার সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সাউদাম্পটনে। এই আবহাওয়ায় বিরাট কোহলি আর চেতেশ্বর পুজারা ভালো ব্যাট করবেন, সেটাই ভেবেছিলেন ভারতীয় সমর্থকরা। কিন্তু হল ঠিক উলটো। দিনের ষষ্ঠ ওভার থেকেই ভেলকি দেখানো শুরু কিউয়ি বোলারদের। প্রথমেই বিরাটের উইকেট তুলে নেন কাইল জেমিসন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেতেশ্বর পুজারাকেও ফিরিয়ে দেন জেমিসন।

    ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অজিঙ্ক রাহানে। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি রাহানে। ট্রেন্ট বোল্টের আউটসুয়িং সামলাতে না পেরে উইকেটকিপার বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রাহানে। মাত্র ১০৯ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারায় ভারত।

    এর পর রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে পন্থের একটি জুটি তৈরি হয়। দু’ জনে মিলে ভারতের বৈতরণী পার করিয়ে দেওয়ার একটা আশা দেখাচ্ছিলেন। ৩৭ রানের জুটিও তৈরি হয়ে যায় দু’ জনের মধ্যে। কিন্তু যে পিচে বিরাট, পুজারারা কিছু করতে পারছেন না, সেখানে জাদেজাই বা কী করতেন। নিল ওয়াগনারের বোলিংয়ের শিকার হন তিনি।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ওভারে তিন বলের মাথায় পন্থ এবং অশ্বিনের উইকেট তুলে নেন বোল্ট। এর পর নবম উইকেটে ইশান্ত শর্মা এবং মহম্মদ শামির মধ্যে সামান্য একটু জুটি তৈরি হয়। শামি কয়েকটা চারও মেরে দেন। কিন্তু সাউদির বলে ব্যাট চালাতে গিয়েই আউট হন তিনি। দু’ বল পর আউট হয়ে যান জসপ্রীত বুমরাহ। মাত্র ১৭০ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত।

    নিউজিল্যান্ডের রান তাড়া

    টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মোক্ষম সময় চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দেখার ছিল বোলাররা কিছু করে দেখান কি না। কিন্তু মাত্র ১৩৯ রানের পুঁজি নিয়ে তাঁরা কীই বার করতে পারতেন!

    টেস্টের প্রথম বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলতে নিউজিল্যান্ডকে ১৩৯ রান করতে হত পঞ্চাশেরও বেশি ওভারে। অর্থাৎ অঢেল সময়। তাড়াহুড়োর কোনো ব্যাপারই কার্যত নেই। অদ্ভুত ভাবে, যে পিচে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের সামলাতে হিমসিম খেল ভারত, সেই একই পিচেই ব্যর্থ হলেন ভারতের পেসাররা। উলটে নিউজিল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা দিয়ে ভারতের জন্য ক্ষীণ একটা আশার আলো দেখাতে শুরু করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

    ১৪তম ওভারে টম ল্যাথামকে তুলে কিউয়ি শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন অশ্বিন। এর চার ওভার পর ডেভন কনওয়েকে ফিরিয়ে দেন অশ্বিন। বুঝিয়ে দেন, এই পিচে স্পিনারদের খেলিয়ে বিরাট কোহলি কোনো ভুলই করেননি।

    তবে এর পরেই উইলিয়ামসন আর টেলর নিউজিল্যান্ডকে পুরোপুরি ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ধীরে ধীরে জয়ের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোতে থাকে তারা।

    চেষ্টার খামতি ছিল না বিরাটের। এক দিক থেকে অশ্বিনকে রেখে উলটো দিকে শামিকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেটা কাজে না দেওয়ায় বুমরাহ-ইশান্তদেরও আক্রমণে নিয়ে আসেন। এমনকি পিচে বল ঘুরছে বলে জাদেজাকে দিয়েও লম্বা স্পেল করান। তবুও টেলর আর উইলিয়ামসনকে টলানো যায়নি।

    ম্যাচের অন্তিম ঘণ্টায় জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। অবশেষে ট্রফি খরা কাটিয়ে ক্রিকেটের জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করল নিউজিল্যান্ড।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর