মুম্বই ১৭৬-৬ (ডে কক ৫৩, পোলার্ড ৩৪ অপ., শামি ২-৩০), (১ম সুপার ওভারে) ৫-০ ও (২য় সুপার ওভারে) ১১-১

পঞ্জাব ১৭৬-৬ (রাহুল ৭৭, পুরান ২৪, বুমরাহ ৩-২৪), (১ম সুপার ওভারে) ৫-২ ও (২য় সুপার ওভারে) ১২-০

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আইপিএলে ইতিহাস! এক দিনে দুটো ম্যাচেই সুপার ওভার। তার মধ্যে একটা ম্যাচে আবার দুটো সুপার ওভা, ক্রিকেটের ইতিহাসে যা প্রথম। মহানাটকীয় দুটো সুপার ওভারের ম্যাচ শেষে মুম্বইকে হারিয়ে দিল পঞ্জাব।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতে প্রবল ভাবে দাপট দেখাতে শুরু করে পঞ্জাবের বোলাররা। রোহিত শর্মা ঠিকঠাক ব্যাটিং ফর্মে নেই। তৃতীয় ওভারেই অর্শদ্বীপ সিংহের শিকার হন তিনি। এর ঠিক পরেই ধাক্কা দেন মহম্মস শামি। ফর্মে থাকা সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন ঈশান কিষাণও। ৪০ রানের মধ্যে তিনটে উইকেট হারিয়ে কার্যত ধুঁকতে থাকে মুম্বই।

এই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন ক্রুণাল পাণ্ড্য এবং কুইন্টন ডে কক। এই দু’জনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইনিংসটাকে থিতু করা। আর সেই কারণেই রানের গতি বাড়ানোর দিকে কেউ খুব একটা নজর দেননি। ডে কক, এই মরশুমে তুখোড় ফর্মে রয়েছেন। সেই ফর্ম ধরে রেখেই দুরন্ত অর্ধশতরান করে ফেলেন।

এ দিকে ক্রুণালের ব্যাটিং ফর্ম ঠিকঠাক ছিল না। সেটা এ দিন উন্নত করেন তিনি। রানে ফেরেন। তবে ১৪তম ওভারে তিনি যখন আউট হলেন, তখন একশো রানও পেরোয়নি মুম্বই। অর্থাৎ, তখন মনে হচ্ছিল, দেড়শোর বেশি হয়তো যেতে পারবে না তারা।

এর পরেই নামলেন কায়রন পোলার্ড। তাঁর সঙ্গী হলেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ন্যাথান কুল্টার-নাইল। এই দু’জনের দাপটে শেষ পাঁচ ওভারে ৬২ রান করে ফেলে মুম্বই। ১২ বলের ইনিংসে চারটে ছয় মারেন পোলার্ড।

ক্রিস গেলের আগমনেই হোক বা যে কারণেই হোক, কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের ব্যাটিংয়ের মনোভাব যে অনেকটাই বদলে গিয়েছে সেটা কিন্তু এ দিন রান তাড়া করা শুরু থেকেই দেখা গেল। সব থেকে বড়ো পরিবর্তন দেখা গেল কেএল রাহুলের মধ্যে। চলতি আইপিএলে কমলা টুপির মালিক রাহুল। ব্যাটে করছেন দুর্দান্ত। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ হল, তিনি ধীরে শুরু করছেন। এ দিন কিন্তু সেই পথেই হাঁটেননি রাহুল। শুরু থেকেই আগ্রাসী।

ময়াঙ্ক অগ্রবালের উইকেট পতনে, ক্রিস গেলের ক্রিজে যখন আগমন হল, তখন পঞ্জাব ওভার প্রতি দশের কাছাকাছি গড় রেখে রান করছে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে শুরু করতে বেশ কিছুটা বল খরচ করেছিলেন গেল। এ দিন অবশ্য পাঁচটা বল দেখে নিয়েই মারতে শুরু করেন। আরও বেশি ছন্দে তিনি ছিলেন এ দিন। ২১ বলে ২৪ রানের সংক্ষিপ্ত ইনিংসেও দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি।

গেল ফিরতে আরও এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের পদার্পণ, নিকোলাস পুরান। এ বার সাংঘাতিক ভাবে টেকঅফ করল পঞ্জাবের ইনিংস। ১১টা বল ক্রিজে ছিলেন পুরান। কিন্তু তিনি ফিরতেই চাপ বাড়ল পঞ্জাবের। তখন আস্কিং রেট প্রায় দশের কাছাকাছি উঠে গিয়েছে। এর পর ফের ব্যর্থ হলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্রিজে থাকলেন মাত্র দু’বলের জন্য। খাতা খুলতে পারেননি।

এ দিকে ততক্ষণে ফের স্ট্রাইকরেট কমতে শুরু করেছে রাহুলের। মাঝের ওভারগুলোয় ফের একবার মন্থর হতে চলেছে তাঁর ইনিংস। তবে ১৬ ওভারের পর থেকে ফের ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করল। আর ঘুরল রাহুলের সৌজন্যেই। অর্ধশতরান পেরিয়ে আরও এগিয়ে যেতে থাকলেন তিনি।

কিন্তু দুর্ধর্ষ ইনিংস থামনোর জন্য দুর্দান্ত কিছু করতেই হত। সেটাই করে দেখালেন জসপ্রীত বুমরাহ। মোক্ষম সময়ে তুখোড় একটা ইয়োর্কারে রাহুলের স্টাম্প ছিটকে দিলেন তিনি। এর পর পঞ্জাব জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ন্যাথান কুল্টার নাইলের দুর্দান্ত শেষ ওভারটা ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে চলে গেল।

মূল ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে যে ব্যাট করে সুপার ওভারে প্রথম ওভারে তাদেরই ব্যাট করতে হয়। সে কারণে পঞ্জাব ব্যাট করতে আসে প্রথমে। সামনে জসপ্রীত বুমরাহ। দুর্দান্ত একটা ওভার করলেন তিনি। তাঁর একের পর এক ইয়র্কার ভেদ করে ৫ রানের বেশি করতেই পারেনি পঞ্জাব।

কিন্তু এ জানত অসাধারণ দক্ষতায় একের পর এক ইয়র্কার দিয়ে এই ৫টা রান বাঁচিয়ে দেবেন মহম্মদ শামি। অর্থাৎ সুপার ওভারও টাই হয়ে গেল। ম্যাচ চলে গেল দ্বিতীয় সুপার ওভারে। ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবার একটা ম্যাচ দু’বার সুপার ওভার হল। নিয়ম হল, প্রথম সুপার যাঁরা ব্যাট আর বল করেছেন, দ্বিতীয়টায় তারা কিছু করতে পারবেন না।

ফলে ক্রিস জোর্ডান দ্বিতীয় সুপার শুরু করেন। এই ওভারে মুম্বই তোলে এক উইকেটে ১১। পঞ্জাবের হয়ে এ বার ব্যাট করতে আসেন ক্রিস গেল। প্রথম বলেই ছক্কা মেরে চাপটা অনেকটাই কমিয়ে দেন তিনি। বাকিটা ছিল শুধু সময়েরই অপেক্ষা। সেটা করে স্বস্তির জয় পঞ্জাবকে এনে দেন রাহুল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.