কার্তিকের মহাকাব্যিক ইনিংসের পরেও নাইটশিবিরকে হতাশায় ডুবিয়ে দিলেন ১৭ বছরের অসমীয়া

0
মহাকাব্যিক ইনিংসের পথে ডিকে।

কেকেআর: ১৭৫-৬ (কার্তিক ৯৭ অপরাজিত, রানা ২১, অ্যারন ২-২০)

রাজস্থান: ১৭৭-৭ (পরাগ ৪৭, রাহানে ৩২, পীযূষ ৩-২০)

কলকাতা: ১৭ বছরের অসমজাত এক ক্রিকেটারের কাছে শেষ হয়ে গেল দীনেশ কার্তিকের যাবতীয় কীর্তিকলাপ। যে কার্তিকের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে জয়ের কার্যত দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল কেকেআর, সেই অবস্থা থেকে নাইটশিবিরের ম্যাচটি ছিনিয়ে নিলেন গুয়াহাটির রিয়ান পরাগ। আরও গহ্বরে ঢুকে পড়ল নাইটরা।

চারিদিক থেকে বিধ্বস্ত তিনি। না পাচ্ছিলেন রান, না পারছিলেন দলকে জেতাতে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিশ্বকাপে তাঁর নির্বাচন নিয়েও। এই পরিস্থিতিতে নিজের ওপরে চাপ কমাতে প্রয়োজন ছিল বড়ো রানের একটা ইনিংসের। আর সেটা করার জন্য বৃহস্পতিবারের ইডেনকেই বেছে নিলেন তিনি।

আইপিএলের এগারোতম বর্ষে নিজের টুর্নামেন্টের সেরা ইনিংসটা খেলে গেলেন কার্তিক। ছ’ বছর আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৮৬ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এ দিন সেটাকেও টপকে গেলেন। নেহাত জয়দেব উনাড়কাটের শেষ বলটায় ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি, নইলে শতরানটাও পাকা ছিল।

অথচ চাপ এ দিনও কি কম ছিল? টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়েছে কেকেআর। একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট। দশ ওভারে দলের স্কোর তিন উইকেটে ৪৮। শুরুতে তাঁরও টাইমিং ঠিকঠাক হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ইডেনের জনতার প্রার্থনা দ্রুত একটা উইকেট পড়ুক, যাতে রাসেল নামেন। কিন্তু না, এ দিন যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন কার্তিক।

আরও পড়ুন ইস্টবেঙ্গল সাসপেন্ড হোক, চাইছেন লালহলুদ কর্তারাই!

আজ সেই সব বিরলতম দিনের একটা, যে দিন রাসেল রান পান না। এই টুর্নামেন্টে বিশেষ ব্যর্থ হতে দেখা যায়নি আন্দ্রে রাসেলকে। যে দিন কম রানে ফিরেছিলেন, সে দিনও দুএকটা ছক্কা মেরেই গিয়েছেন, বল নষ্ট করেননি। কিন্তু এ দিন কোনো কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না রাসেলের। টাইমিং পাচ্ছিলেন না। পর পর দু’টো ক্যাচ পড়ল। আর সব থেকে বড়ো কথা, বার বার মনে হয়েছে চোট লুকিয়ে তিনি খেলছেন, বা এমনই হতে পারে, তাঁকে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রাসেলের ব্যর্থতা এ দিন ঢেকে দিয়ে গেলেন কার্তিক। কারণ তাঁর ব্যাট না চললে নতুন করে অজস্র প্রশ্নের মুখে পড়তেন তিনি। কিন্তু আজ অন্য রকম দিন ছিল। আর যে দলের অধিনায়ক সামনে থেকে পারফর্ম করে যান, সেই দলের বাকি প্লেয়াররা যে বাড়তি উদ্বুদ্ধ হবেন, তা তো বলাই ভালো। সেটাই দেখা গেল কেকেআরের দুই মুখ্য স্পিনারের থেকে।

রান তাড়া করতে নেমে ঝোড়ো শুরু করেছিল রাজস্থান। আগের ম্যাচে শতরানে শেষ করা ইনিংসটাই যেন নতুন ভাবে শুরু করেন রাহানে। স্যামসনকে নিয়ে তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে পাঁচ ওভারের আগেই ৫০ ঢুকে যায় রাজস্থান। কিন্তু তার পরেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে কেকেআর। দুই স্পিনার নারিন এবং চাওলার ঘূর্ণির কাছে জেরবার হয়ে যান রাজস্থানের ব্যাটসম্যানরা।

রিয়ান পরাগ।

কিন্তু তার পরেই আসরে নামেন রিয়ান পরাগ। প্রথমে স্টুয়ার্ট বিনি, তার পর শ্রেয়স গোপাল এবং সব শেষে জোফ্রা আর্চারকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের মোড় পুরোপুরিই ঘুরিয়ে দেন। এক সময়ে ম্যাচে শক্ত করে ফেলা কেকেআরের রাশ ক্রমশ আলগা হতে শুরু করে। শেষ ওভারে রাজস্থানের দরকার ছিল ৯, স্বস্তির মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন পরাগ।

কিন্তু পরাগ ফিরে গেলে কী হবে, আর্চার তো ছিলেন! কিছু দিন আগেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপগামী দলে আর্চারের নাম না থাকায় অনেকেই হতাশ হয়েছিলেন। শেষ ওভারের প্রথম দু’ বলে চার এবং ছয় মেরে রাজস্থানকে জিতিয়ে দেন সেই আর্চার।

তা হলে কী দাঁড়াল? আরও অটল গহ্বরে পড়ল কেকেআর। হারের ডবল হ্যাটট্রিক! খাতায় কলমে এখনও হয়তো প্লে-অফে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের কাছে। কিন্তু সামনের তিনটে ম্যাচের মধ্যে দু’টোই যে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.