সেই সম্ভাবনা কি সত্যি হতে চলেছে?

0
rcb vs kxip
ঝোড়ো ইনিংসের পথে এবি ডেভিলিয়ার্স।

বেঙ্গালুরু: ২০২-৪ (ডেভিলিয়ার্স ৮২ অপরাজিত, স্টয়নিস ৪৬ অপরাজিত, অশ্বিন ১-১৫)

পঞ্জাব: ১৮৫-৭ (পুরান ৪৬, রাহুল ৪২, যাদব ৩-৩৬)

বেঙ্গালুরু: সেই সম্ভাবনাই কি সত্যিই হতে চলেছে? মানে চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে কি প্লে-ওফে উঠে যাবে বেঙ্গালুরু? যে ভাবে গত পাঁচটা ম্যাচের মধ্যে চারটে জিতল বিরাটবাহিনী, তাতে মনে হচ্ছ এই দলটাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আর এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করলেন ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’।

তাঁর নাম ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’ কেন? কারণ তিনি এক জায়গায় রাখা বলকে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন দিকে উড়িয়ে দিতে পারেন। সেই এবি ডেভিলিয়ার্স এই টুর্নামেন্টে কিছুটা যেন ম্লান ছিলেন। বড়ো ইনিংস খেলেছেন খুব কম। চোটের জন্য বাইরেও বসতে হয়েছে। কিন্তু বুধবারের বেঙ্গালুরুতে আবার সেই পুরোনো এবিডিকে দেখা গেল। তিনিই নিজেই শুধু পেটালেন না, অপর দিকের ব্যাটসম্যানকেও পেটাতে উদ্বুদ্ধ করলেন।

অথচ আজ মনে হচ্ছিল ঠিক ব্যাটে-বলে করতে পারছেন না এবিডি। একটা সময় এমন হয়েছিল, যখন তাঁর নামের পাশে স্কোর ছিল ২৫ বলে ২৫। সেখান থেকে হঠাৎ করেই যেন টপ গিয়ারে নিয়ে গেলেন নিজেকে। পরবর্তী ১৯ বলে তাঁর ব্যাট থেকে বেরোল ৫৭ রান। না, শুধু এইটুকু পরিসংখ্যানে বোঝা যাবে না এবিডির প্রভাবের। সেটা বোঝানোর জন্য আরও একটা তথ্য দেওয়া যাক।

শেষ তিন ওভারে আরসিবি তুলেছে ৬৮। মানে একটা সময়ে যে স্কোর ১৬০-ও পেরোবে কি না সন্দেহ হচ্ছিল, সেটাই পেরিয়ে গেল দু’শোর ওপরে। শুধু এবিডি নিজে নয়, তাঁকে যোগ্য সাহায্য করে গেলেন মার্কাস স্টয়নিসও। প্রথম দিকে স্টয়নিসের রোল ছিল শুধু ডেভিলিয়ার্সকে সাহায্য করে যাওয়া। কিন্তু শেষ ওভারে তিনিই রুদ্ররূপ ধারণ করলেন। ইনিংসের শেষ ওভারে আরসিবি তুলল ২৭ একা স্টয়নিস করলেন চার বলে ২০।

আরও পড়ুন বিস্ফারিত দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রশিদ খান ও শেন ওয়াটসন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল

স্টয়নিস আর ডেভিলিয়ার্সের মধ্যে ১১ ওভারে ১২১ রানের জুটি তৈরি হল। এই জুটিটা তৈরি না হলে বেঙ্গালুরুর যে জেতার কোনো আসাই থাকত না, সেটা পঞ্জাবের রান তাড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

সমস্যাটা হল পঞ্জাব বা বেশির ভাগ দলেরই আন্দ্রে রাসেল টাইপের কোনো প্লেয়ার নেই, যাঁরা শেষ দিকে এসে মহাদানবীয় ইনিংস খেলে যাবেন। পঞ্জাবের সমস্যাটা একই রকম। এই ম্যাচে জিততে হলে ক্রিস গেলকে অসাধারণ কিছু করতেই হত। কিন্তু তিনি সেটা আজ করেননি। তবুও সবাইকে চমকে দিয়ে একজন রাসেলসুলভ কাণ্ডকারখানা প্রায় করে ফেলছিলেন।

ঝড়ের গতিতে শুরু করলেও অল্পক্ষণের মধ্যেই আউট হয়ে যান তিনি। তবে ময়াঙ্ক আগরওয়াল এবং কেএল রাহুল দশের ওপরে রানরেট রেখে ব্যাট করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পর পর দু’জনের আউট পঞ্জাবকে অনেকটাই পিছিয়ে দেয়। এই অবস্থায় উদয় হন নিকোলাস পুরান। পঞ্জাবের আন্দ্রে রাসেল।

কারও হিসেবেই পুরান ছিল না বলে দেওয়া যায়। এই অনামি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের হাত ধরেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে পঞ্জাব। একার হাতে ম্যাচ বের করে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছিলেন তিনি। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় উমেশ যাদবের একটি ওভার। ১৮তম ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে পঞ্জাবের ওপরে চাপ ফিরিয়ে দেন যাদব। সেই চাপ থেকে আর বেরোতে পারেনি তারা।

না এখনও প্লে-ওফ অনেক দূরে। কিন্তু এই জয়ের পর বেঙ্গালুরুর যা হল, সেটা হচ্ছে লিগ টেবিলের শেষের স্থান থেকে সপ্তম স্থানে ওঠা। ক্রিকেট খুবই অনিশ্চয়তার খেলা। কিন্তু আরসিবি যে ভাবে জেতা শুরু করেছে, কী হবে কিছুই বলা যায় না।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন