পঞ্জাবকে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে চলতি আইপিএলের প্লে-অফে চলে গেল বেঙ্গালুরু

0

আরসিবি: ১৬৪-৭ (ম্যাক্সওয়েল ৫৭, পাড়িক্কাল ৪০, এনরিকেস ৩-১৩)

পঞ্জাব: ১৫৮-৬ (অগ্রবাল ৫৭, রাহুল ৩৯, চাহল ৩-২৯)

শারজা: গত দু’বছর ধরে খুব ভালো সময় চলছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। গত বছরের মতো এ বারও প্লে-অফে নিজেদের প্রবেশ নিশ্চিত করল তারা। পঞ্জাবকে ৬ রানে হারিয়ে রবিবার তৃতীয় দল হিসেবে আইপিএলের ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করল বিরাটবাহিনী।

এই মরশুমে শারজার পিচ যে ধরনের আচরণ করছে, সেই দেখে মনে করা হচ্ছিল যে এ দিন বেঙ্গালুরুও বেশি রান তুলতে পারবে না। কিন্তু শুরু থেকেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন বিরাট কোহলি এবং দেবদত্ত পাড়িক্কাল। প্রথম দুই ওভারে ১১ রান করে আরসিবি। তৃতীয় ওভার থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু তাদের।

অর্শদীপ সিংহের এই ওভারে পাড়িক্কাল একটি ছয় এবং একটি চার মেরেছেন। এই ওভারে ১৩ রান দেয় আরসিবি। ১২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন পাড়িক্কাল। পরের ওভারের প্রথম বলেই কোহলিকে স্টাম্প্‌ড আউট করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন উইকেট কিপার তথা অধিনায়ক রাহুল।

অনেক আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন আরসিবি এবং পঞ্জাব। যার জেরে পাওয়ার প্লে-তেই ৫০ পার করে ফেলে আরসিবি। প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৫ তুলে ফেলে আরসিবি। তবে এর পরেই আসে একটি বিতর্কিত মুহূর্ত।

৭.৩ ওভারে পাড্ডিকালের আউট নিয়ে তৈরি হয় সেই তীব্র বিতর্ক। রবি বিষ্ণৈয়ের বলে ব্যাটের কানায় লেগে রাহুলের হাতে ক্যাচ গিয়েছিল। আম্পায়ার দেয়নি আউট। ডিআরএস নিলেও তৃতীয় আম্পায়ারও আউট দেয়নি। অথচ দেখা গিয়েছে, সামান্য হলেও ব্যাটে টাচ করেছে বল। তবু আউট দেননি তৃতীয় আম্পায়ার। কেএল রাহুল রীতিমতো বিরক্ত হন। আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

দশম ওভারে প্রথম উইকেট পতন আরসিবির। মোজেশ এনরিকেসের বলে ২৪ বলে ২৫ করে আউট হন কোহলি। সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি উইকেট পড়ে যায় বেঙ্গালুরুর। এ বার ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন ড্যান ক্রিশ্চিয়ান।

কিছুক্ষণ পর তিন নম্বর উইকেটটিও নিয়ে নেন এনরিকেস। এ বার পাড়িক্কালকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৩৮ বলে ৪০ করে রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাড়িক্কাল। পরিবর্তে নামেন এবি ডি’ভিলিয়ার্স। ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৩ রান বেঙ্গালুরু।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ডেভিলিয়ার্স মিলে এ বার বেঙ্গালুরুর ইনিংসকে নতুন করে অক্সিজেন দিতে শুরু করেন। ৩ উইকেট হারালেও ১৫ ওভারে তারা ১০৯ রান করে ফেলেছে। এই ওভারে বিষ্ণৈকে পর পর দু’টি ছয় মারেন ম্যাক্সওয়েল।

পরের ওভারে মহম্মদ শামিকে পিটিয়ে ১৭ রান নিল বেঙ্গালুরু।  ক্রমশ গতি বাড়ে আরসিবির ইনিংসে। পরের ওভারে অর্ধশতরান করে ফেলেন ম্যাক্সওয়েল। ২৯ বলে ৫০ রান করেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে ডেভিলিয়ার্সের উইকেট হারিয়ে ফেলে বেঙ্গালুরু। সব মিলিয়ে তাদের ইনিংস শেষ হয় ১৬৪ রানে।

পঞ্জাবের জবাব

পঞ্জাব যে এমন দুর্দান্ত শুরু করবে, কার্যত কেউই আন্দাজ করতে পারেনি। যদিও প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান তলে তারা। দ্বিতীয় ওভারে ওঠে মাত্র ৭ রান। তৃতীয় ওভার থেকে রানের গতি বাড়ায় পঞ্জাব।

এই ওভারে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন রাহুল। এই ওভারে ১২ রান হওয়ার পর পঞ্চম বলে একটি এলবিডব্লিউ আউটের আবেদন হয় রাহুলের বিরুদ্ধে। তবে তাতে সাড়া দেননি আম্পায়াররা। চতুর্থ ওভারে মোট ১৪ রান করে পঞ্জাব।

৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান পঞ্জাবের। পঞ্জাবের ইনিংসে গতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। চাপ বাড়ে বেঙ্গালুরুর ওপরে। অষ্টম ওভারেই রান রেট ৮-এর ওপরে উঠে যায় পঞ্জাবের। দশম ওভারে বিনে উইকেটে ৮১-এ পৌঁছে যায় পঞ্জাব। এর পরেই প্রথম উইকেটের পতন হয় পঞ্জাবের।

দলের ৯১ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ল পঞ্জাবের। শাহবাজ আহমেদ ফেরালেন রাহুলকে। ৩৫ বলে ৩৯ করে হর্ষল পটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রাহুল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি উইকেটের পতন হয় পঞ্জাবের। এ বার যুজবেন্দ্র চাহালকে বড়ো শট মারতে গিয়ে পাড়িক্কালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান নিকোলাস পুরান।

ধীরে ধীরে মন্থর হতে থাকে পঞ্জাবের ইনিংস। অর্ধশতরান পেরিয়ে যাওয়ার পরেই আউট হয়ে যান ময়াঙ্ক অগ্রবাল। তাঁর আউট হয়ে যাওয়া আরও বড়ো ধাক্কা হিসেবে হাজির হয় পঞ্জাবের কাছে। ক্রমশ চড়তে থাকে আস্কিং রেট। তার পরেই ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন সরফরাজ খান। পরক্ষণেই আউট মার্করাম। পুরো ধসে যেতে শুরু করে পঞ্জাবের ইনিংস।

কঠিন পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের ভরসা বলতে ছিলেন শুধুমাত্র শাহরুখ খান। কিন্তু তিনিও বা কতটা কী করতেন! অগত্যা জয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৬ রান দূরেই থেমে যেতে হয় পঞ্জাবকে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন