ক্ষোভপ্রকাশ বিরাটের, আম্পায়ারদের চরমতম ভুলে জয় হাতছাড়া বেঙ্গালুরুর

0
দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেও জয় এনে দিতে পারলেন না এবিডি

মুম্বই: ১৮৭-৮ (রোহিত ৪৮, সূর্যকুমার ৩৮, চাহল ৪-৩৮)

বেঙ্গালুরু: ১৮১-৫ (ডে ভিলিয়ার্স ৭০ অপরাজিত, বিরাট ৪৬, বুমরাহ ৩-২০) 

বেঙ্গালুরু: শেষ বলে দরকার ছিল সাত। ছয় মারলে অন্তত টাই করা যায়। কিন্তু একের বেশি নিতে পারলেন না বেঙ্গালুরুর শিবম দুবে। ম্যাচ জিতে গেল মুম্বই। কিন্তু এর পরেই দেখা গেল সেই জিনিসটা। শেষ বলটা নো-বল করেছিলেন মালিঙ্গা। অথচ আম্পায়ারদের নজরেই পড়েনি সেটা। লাইনের কার্যত এক ইঞ্চি বাইরে পা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এটা আম্পায়ারদের নজর এড়াল সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বেঙ্গালুরুর মাঠ ছোটো। টসে জিতে যে কোনো অধিনায়কই এখানে প্রথমে ফিল্ডিং-এরই সিদ্ধান্ত নেন। ব্যতিক্রম ছিলেন না বিরাটও। টস জেতার পর মুম্বইকে ব্যাট করতে পাঠান তিনি। রোহিত শর্মা এবং কুন্টন ডে ককের দৌলতে বেশ ভালো শুরু করে মুম্বই। তবে বেঙ্গালুরুর বোলার, বিশেষত যজুবেন্দ্র চহলের দাপটে কিছুটা লাইনচ্যুত হয়ে যায় মুম্বই।

তবে এরই মধ্যে ২০০৭-এর ডারবানের সেই ছয় ছক্কা স্মৃতি উসকে দিয়েছিলেন যুবরাজ সিংহ। দিল্লির বিরুদ্ধে বুঝিয়েছিলেন তিনি ভালো ফর্মে রয়েছেন। এ দিন সেখান থেকে শুরু করে ফের এক বার রেকর্ড বইয়ে নাম লেখাতে চলেছিলেন তিনি। চহলের একটি ওভারের প্রথম তিন বলে তিনটে ছক্কা হাঁকানোর পর চতুর্থ বলেও ছয় মারতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাউন্ডারি লাইনের সামনেই ধরা পড়ে যান।

একটা সময়ে মনে হচ্ছিল ১৬০-এর আশেপাশে শেষ করবে মুম্বই। কিন্তু সেটা যে এত দূরে পৌঁছোল, তার একমাত্র কৃতিত্ব প্রাপ্য হার্দিক পাণ্ড্যর। শেষ দিকে ১৪ বলে ৩২ রানের টর্নাডোসুলভ ইনিংস খেলে যান তিনি।

বেঙ্গালুরুর দুই মূল ব্যাটিং স্তম্ভ এ দিন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তাদের হাত ধরেই ক্রমে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে আরসিবি। মঈন আলিকে প্রথমে হারালেও প্রথমে পার্থিব পটেল এবং পরে এবি ডেভিলিয়ার্সের সঙ্গে বড়ো জুটি তৈরি করেন বিরাট।

তবে মাত্র চার রানের জন্য ৫০ ফসকান বিরাট। যদিও নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন ডেভিলিয়ার্স। কিন্তু সমস্যা হল বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং বড়ো বিরাট-ডেভিলিয়ার্স নির্ভর। তাই তো শেষ তিন ওভারে ৪০ রান দরকার ছিল আরসিবির। ১৮তম ওভারে স্বমহিমায় ধরা দিয়েছিলেন ডে ভিলিয়ার্স। কিন্তু বুমরাহর ১৯তম ওভার আবার আরসিবিকে পিছিয়ে দেয়।

শেষ ওভারে ১৭ রান দরকার ছিল আরসিবির। বল হাতে মালিঙ্গা। কিন্তু শেষ ওভারটা অসাধারণ বল করে বেঙ্গালুরুকে জয় থেকে দূরেই রেখে দিলেন তিনি। বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের আরও একবার হতাশায় ডুবতে হল। তবে শেষের ওই নো-বল বিতর্ক ম্যাচে মুম্বইয়ের কৃতিত্ব কিছুটা যেন কমিয়ে দিল। এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিরাট। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, “আন্তর্জাতিক মানের এ রকম টুর্নামেন্টে আম্পায়ারদের এই ভুল কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here