Chris Gayle

বেঙ্গালুরু: ১৭১-৬ (বিরাট ৪৮, মরিস ২৫ অপরাজিত, শামি ২-৪৫)

পঞ্জাব: ১৭৭-২ (রাহুল ৬১ অপরাজিত, গেল ৫৩, চাহল ১-২৮)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নজরটা তাঁর দিকেই বেশি করে ছিল। বছর ৪১-এর সেই ক্রিস গেলই ঝড় তুললেন শারজায়। তাঁর প্রত্যাবর্তনেই জয়ের সরণিতে ফিরল পঞ্জাবের। অন্য দিকে ভুলভাল কৌশলে আচমকা ব্রেক লেগে গেল বেঙ্গালুরুর জয়যাত্রায়।

বৃহস্পতিবার ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মহম্মদ শামির জন্য বেঙ্গালুরুর রানের গতিতে বড়ো রকমের ব্রেক লেগে গিয়েছিল। আবার সেই মহম্মদ শামির জন্যই বড়ো রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করল বেঙ্গালুরু। খোলসা করেই বলা যাক তা হলে।

বিরাট কোহলির ব্যাট এ দিন চলছিল। কিন্তু দু’টো ভুল সিদ্ধান্তের জন্য বেঙ্গালুরু ভয়াবহ ভাবে ভুগল প্রথম ইনিংসে। ব্যাপারটা হল, এ দিন এবি ডেভিলিয়ার্সের আগে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছিল ওয়াশিংটন সুন্দর এবং শিবম দুবেকে। ঠিক কী কারণে এ হেন সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট নিল, তা বোঝা দায়।

কেকেআর ম্যাচের থেকে কিছুটা আগ্রাসী ঢঙেই এ দিন শুরু করেছিল বেঙ্গালুরু। কিন্তু দুই ওপেনার দেবদত্ত পাড়িক্কাল এবং অ্যারন ফিঞ্চ বেশিক্ষণ টেকেননি। ফলে বেঙ্গালুরুর ইনিংসকে তৈরি করার দায়িত্ব আবার আগের মতোই বিরাটের ওপরে এসে পড়ে।

বিরাট কিন্তু শুরু থেকেই টাচে ছিলেন। কিন্তু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যাচ্ছিল অপর প্রান্তে। দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর নামানো হল সুন্দরকে। সুন্দর আউট হতে এলেন দুবে, ডেভিলিয়ার্স নয়। দুবে তাও কয়েকটা ছয় মারার চেষ্টা করলেও সুন্দর একের পর এক বল নষ্ট করে গিয়েছেন। ফলে বিরাটের ওপরে চাপ বাড়ছিল। চতুর্থ উইকেট পড়ার পর যখন ডেভিলিয়ার্স নামলেন, তখন তাঁর ওপরেও চাপ বাড়ছিল।

আর এই সুযোগ নিয়েই কেল্লাফতে করলেন শামি। ১৮তম ওভারে তিনি ফিরিয়ে দিলেন নতুন ক্রিজে আসা ডেভিলিয়ার্স এবং সেট হয়ে যাওয়া বিরাটকে। বেঙ্গালুরুর তখন দেড়শোর মধ্যেই আটকে যাওয়ার সম্ভবনা। কিন্তু সেই শামিই শেষ ওভারে ডুবিয়ে দিলেন।

শেষ ওভারে ২৪ রান তুললেন বেঙ্গালুরুর ক্রিস মরিস এবং ইসুরু উদানা। তিনটে ছয় এবং একটা চার খেলেন তিনি। বেঙ্গালুরু বড়ো স্কোরে পৌঁছে গেল।

এ দিন নজর ছিল একজনের দিকেই। ক্রিস গেল। দীর্ঘদিন ম্যাচের মধ্যে নেই সদ্য ৪১-এ পড়া গেল। তাই তাঁকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ ছিলই। কিন্তু প্রথমেই গেলভক্তরা হতাশ হয়ে যান, যখন তাঁকে ওপেনিংয়ে দেখাই যায়নি। কেএল রাহুল আর ময়াঙ্ক অগ্রবালের সেট হয়ে যাওয়া ওপেনিং জুটিটা ভাঙতে চায়নি পঞ্জাব।

গেল নামেন প্রথম উইকেট পড়ার পর। কিন্তু ততক্ষণ অনেকটাই চাপ কমে গিয়েছে পঞ্জাবের ওপরে। সৌজন্যে আরও একটা দুর্দান্ত ওপেনিং জুটি। তবে আগের বারের থেকে এ বার অনেকটাই আগ্রাসী ছিলেন দুই ওপেনার। ফলে গেল সেট হয়ে যাওয়ার সময়টা পেয়ে গিয়েছিলেন।

রাহুল গোটা টুর্নামেন্টটাই অসাধারণ খেলছেন। কিন্তু অভিযোগ ছিল, তিনি ধীর গতিতে শুরু করছেন নিজের ইনিংস। এ দিন সেই ভুল রাহুল শুধরে নেন এবং আরও একটা অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। অন্য দিকে গেলকে সচল করতে দরকার পড়ে ১৫টা বলের।

শুরুতে কিছুটা জড়তা ছিল গেলের। পায়ের নড়নচড়ন ঠিকঠাক হচ্ছিল না। কিন্তু ১৬তম বলে প্রথম বার বলকে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। পরের কয়েকটি বলের মধ্যে আরও দু’টো ছক্কা। এ দিকে রাহুল তখন রাহুল প্রথম গিয়ারে এসে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে ম্যাচটা ক্রমশ বেঙ্গালুরুর হাত থেকে বেরিয়ে যেতে লাগল।

সত্যি কথা বলতে কী প্রত্যাবর্তনেই গেল যে এ ভাবে ঝড় তুলবেন, তাঁর অতি বড়ো ভক্তও আন্দাজ করতে পারেননি। আইপিএলে নিজের যে মাপকাঠি গেল তৈরি করে দিয়েছেন এ দিন সে রকম ভাবেই খেলেই দুর্দান্ত একটা অর্ধশতরান করে ফেললেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এ বার সব ক’টা ম্যাচই খেলবেন।

তবে ম্যাচের শেষ ওভারে যে নাটকটা হল, সেটা ভাবনারও বাইরে। হাতে ন’ উইকেট, দরকার দুই রান, ক্রিজে রাহুল এবং গেল। এই পরিস্থিতিতে ওভারের প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ১ দিলেন চাহল। রান আউট হয়ে ফিরে গেলেন গেল। হিসেব নেমে এল শেষ বলে ১ রানে।

টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছিল পঞ্জাব। প্রতিপক্ষ ছিল এই বেঙ্গালুরুই। ফের অষ্টম ম্যাচে এসে জয়ের মুখ দেখল তারা, প্রতিপক্ষ সেই একই। বুড়ো গেলই যে পঞ্জাবের ভাগ্য ফিরিয়ে দিলেন তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.