india vs afghanistan

ভারত ৩৪৭-৬ (ধাওয়ান ১০৭, বিজয় ১০৫, আহমেদজাই ২-৩২)

বেঙ্গালুরু: একটা মুহূর্তই বুঝিয়ে দিল ঐক্যবদ্ধ হয়ে টেস্ট খেলতে নামতে কতটা বদ্ধপরিকর আফগানিস্তান ক্রিকেট দল যখন টসের সময়ে সব এগারো খেলোয়াড়ের নাম গড়গড় করে বলে গেলেন অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাই।

বৃহস্পতিবার পুরো মাঠে ঐতিহাসিক গন্ধ। এক মাস আগে টেস্ট খেলা শুরু করে আয়ারল্যান্ডও। কিন্তু সেই ম্যাচেও এতটা ঐতিহাসিক গন্ধ ছিল না, যেটা এ দিন বেঙ্গালুরুতে দেখা গেল। ম্যাচের শুরুতে চলে এসেছেন দুই দেশের রথী-মহারথীরা। একদিকে আফগানিস্তানের তরফ থেকে বার্তা পাঠাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি তো অন্যদিকে ভারতের তরফ থেকেও বার্তা পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভারত এবং আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা সবার মুখে। এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে জীবনের প্রথম টেস্ট খেলার জন্য তারা খুব গর্বিত এই কথা বারবার বেরিয়ে আসছে আফগানদের মুখ থেকে। তা বলে আফগানদের কোনো ভাবেই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি ছিল না ভারত। খেলা হবে খেলার মতোই। এই মন্ত্র নিয়ে প্রথম দিনের একটা বড়ো সময় ধরে রাজ করে গেলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। তবে শেষ সেশনে পরপর কয়েকটা উইকেট তুলে কিছুটা স্বস্তি আফগান শিবিরে।

ইংল্যান্ড সফরের কথা মাথায় রেখে গ্রিনটপ বানিয়েছিল। সবুজ পিচে পড়লে কোন ব্যাটসম্যানরা কী করবেন সেটা বোঝার জন্যই সম্ভবত টস জিতে বোলিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। কোহলির অনুপস্থিতিতে একটা চাপের কাজ থেকেও মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কী সেই চাপের কাজ?

এই মুহূর্তে ভারতের তিন ওপেনার শিখর ধওয়ান, মুরলী বিজয় এবং কে এল রাহুল ফর্মের শিখরে রয়েছেন। কাকে বাদ দিয়ে কাকে খেলানো হবে সেটা সবসময় একটা মাথাব্যাথার ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। কোহলি না থাকায় রাহুলকে তিন নম্বর ব্যাটসম্যান বানিয়ে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। অর্থাৎ একই ম্যাচে তিন জন ওপেনার খেলালো ভারত। তিনজনই আবার রান পেলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন আবার শতরান।

ধওয়ান তো তাঁর চিরাচরিত ঢঙে ব্যাট করে মধ্যাহ্নভোজনের আগেই শতরান করে গেলেন। অন্য দিকে বিজয়ও তাঁর নিজস্ব স্টাইলে খেলে চার বিরতির কিছু পরে শতরান করলেন। অন্যদিকে আরও একটা অর্ধশতরান করলেন রাহুল।

ঠিক যেই সময়ে মনে হচ্ছিল ভারত খুব সহজেই ছ’শোর স্কোরে চলে যাবে, তখনই জ্বলে উঠল আফগান শিবির। শুরুটা করেছিলেন দুই পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই এবং ওয়াফাদার। তারপর মাঠে নামলেন রশিদ খান এবং মুজিব-উর-রহমন। আসলে এই দুই আফগান স্পিনারের ওপরেই সব থেকে বেশি নজর ছিল। কিন্তু ধাওয়ান-বিজয়দের দাপটের সময়ে বিশেষ কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি তাঁরা।

অবশেষে সুযোগ যখন এল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের রীতিমত চাপে ফেলে দিলেন দু’জনে। ইকোনমি রেটের দিকে তাকালে দেখা যাবেই দু’জনেই সব থেকে বেশি রান দিয়েছেন, কিন্তু শেষ বেলায় নিজেদের জাত চিনিয়েছেন দু’জনেই। কার্তিক, হার্দিন পাণ্ড্য তো বটেই এমনই পুজারা, রাহানেরও সমস্যা হয়েছে দু’জনকে সামলানো। অন্যদিকে ঋদ্ধিমানকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে কিছু করতে পারলেন না দীনেশ কার্তিক।

সব মিলিয়ে কিছুটা ব্যর্থতা আর কিছুটা সফলতার মধ্যে দিয়েই শেষ হল টেস্টে আফগানদের প্রথম দিন। দ্বিতীয় দিন ভারতকে যত তাড়াতাড়ি অলআউট করে দিতে পারবে, ততই তাদের মঙ্গল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here