৫০-এ সৌরভ, তাঁর পাঁচটি সিদ্ধান্ত যা বদলে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটকে

0
সৌরভ গাঙ্গুলি।
ছবি সৌরভের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ ৮ জুলাই। ৫০-এ পা দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের কর্ণধার সৌরভ। পালন করতে হচ্ছে দেশে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বিসিসিআই-এর সভাপতির দায়িত্ব। তাঁর লড়াকু ক্রিকেটজীবন সাধারণ মানুষকে সব সময় অনুপ্রেরণা জোগায় জীবনের লড়াইয়ে।

এক দিনের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হলেও টেস্ট ক্রিকেটেও তাঁর ব্যাটিং গড় অনেকেরই ঈর্ষা জাগায়। ওপেনিংকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন সৌরভ। তাঁর বোলিংও ছিল মনে রাখার মতো।

কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসাবে তাঁর অবদান কখনও ভোলার নয়। গড়াপেটের অভিযোগে যখন ভারতীয় ক্রিকেট জর্জরিত, ঠিক সেই সময়ে হাল ধরেন সৌরভ। দলকে বের করে আনেন সেই দুঃসময়ের অধ্যায় থেকে। ভবিষ্যতে ক্রিকেটের মাঠে ভারতকে রীতিমতো শক্তিশালী দল হিসাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন সৌরভই। সৌরভের সেই অবদানের কথা স্মরণ করেই পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার কামরান আকমল তাঁকে তাঁর দেখা শ্রেষ্ঠ অধিনায়কের পদে বসিয়েছেন।    

জন্মদিনে ফিরে যাওয়া যাক অতীতে। দেখা নেওয়া যাক, অধিনায়ক সৌরভের  পাঁচটি কালজয়ী সিদ্ধান্ত।

২০০১-এ কলকাতা টেস্টে লক্ষ্মণকে ৩ নম্বরে পাঠানো

কলকাতা টেস্টে লক্ষ্মণ-দ্রাবিড় জুটির সাফল্যের পরে। ছবি cricketer.com থেকে নেওয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই বিখ্যাত ইডেন টেস্টে ফলোঅন করতে হয় ভারতকে। প্রথম ইনিংসে ভারত মাত্র ১৭১ অল আউট হয়ে গেলেও শুধুমাত্র ভিভিএস লক্ষ্মণই অস্ট্রেলীয় বোলারদের সামনে সাবলীল ছিলেন।

সে কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রাবিড়ের বদলে লক্ষ্মণকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। এই সিদ্ধান্তটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছয় নম্বরে নামা দ্রাবিড়কে সঙ্গে নিয়ে টেস্টে চতুর্থ দিন পুরো ব্যাট করে যান লক্ষ্মণ। ২৮১ রানের ঐতিহাসিক একটি ইনিংস খেলে ফেলেন তিনি।

এর ফলে নাটকীয় জয় পায় ভারত। বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে ফলোঅন করার পর টেস্ট ম্যাচ জেতে ভারত। এর পর চেন্নাইয়ে তৃতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ২-১-এ জিতে নেয় সৌরভের ভারত। সিরিজটা ভারতীয় ক্রিকেটের পুরো ভাবমূর্তিই বদলে দেয়।

ইডেনে ফলোঅন করে ভারতের অত্যাশ্চর্য জয় ক্রিকেটবিশ্বে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছিল। তার রেশ এখনও আছে। এখনও প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ভাবে এগিয়ে থাকা দল প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করাতে দু’ বার চিন্তা করে।

সহবাগকে দিয়ে ওপেন করানো

২০০৩-এ মেলবোর্ন টেস্টে শতরানের পরে। ছবি scroll.in থেকে নেওয়া।

শুরু থেকেই মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন বীরেন্দ্র সহবাগ। ২০০১-এ সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেও ছয় নম্বরে নেমে দুর্ধর্ষ শতরান করেছিলেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটেও পাঁচ বা ছয় নম্বরে নামতেন সহবাগ। এ হেন সহবাগের মধ্যেই অন্য কিছু ব্যাপার খুঁজে পেলেন সৌরভ। বুঝতে পারলেন সহবাগকে দিয়ে ওপেন করালে আরও ভালো ফল পেতে পারে ভারত।

সহবাগকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সেই সিদ্ধান্তটা যে কালজয়ী ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। টেস্ট ওপেনিংয়ের নতুন সংজ্ঞা দিলেন তিনি। ৫০-এর ওপরে গড় আর দু’টি ত্রিশতরান করে ভারতের অন্যতম সফল ওপেনারদের মধ্যে একজন হয়ে যান সহবাগ।

দ্রাবিড়কে উইকেটকিপার করা

রাহুল দ্রাবিড় যখন উইকেটকিপার, যুবরাজের সঙ্গে। ছবি scroll.in থেকে নেওয়া।

কোচ জন রাইটের সমর্থনে সৌরভের আরও একটি মাস্টারস্ট্রোকীয় চাল। রাহুল দ্রাবিড়কে এক দিনের দলে উইকেটকিপার করে আনা। দ্রাবিড়ের ব্যাটিং ফর্ম কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলে ২০০২-এর গোড়ায় এক দিনের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন।

কিন্তু সৌরভ বুঝতে পারেন, দ্রাবিড়ের মতো ব্যাটসম্যানকে এক দিনের দলের বাইরে রাখা উচিত নয়। এর ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মরল। ভারতীয় দলে বাড়তি ব্যাটসম্যানও এল, আর উইকেটের পেছনে মোটামুটি নির্ভরযোগ্য একজনকে পাওয়াও গেল।

উইকেটকিপার হিসেবে দ্রাবিড় কতটা দক্ষ ছিলেন, সেটা তো ২০০৩ বিশ্বকাপেই দেখেছি আমরা। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়েও ব্যাট হাতেও বিশাল ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

ধোনিকে তিন নম্বরে পাঠানো

২০০৫-এ বিশাখাপত্তনমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পরে ধোনি। ছবি dnaindia.com থেকে নেওয়া।

২০০৪-এর শেষ দিকে বাংলাদেশে অভিষেক হয় মহেন্দ্র সিংহ ধোনির। তিনটে ম্যাচে খুব একটা ভালো রান পাননি ধোনি। ধোনিকে সাত নম্বরে পাঠিয়ে তাঁর ব্যাটিং প্রতিভাকে পুরোপুরি নষ্ট করা হচ্ছে, সেটা বুঝেছিলেন সৌরভ। সে কারণেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে তিন নম্বরে পাঠান ধোনিকে।

ওই ম্যাচেই ধোনি জানান দিয়ে যান তিনি কী! ১৪৮ রানের একটা ইনিংস খেলেন ধোনি। তার পর আর ধোনিকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তরুণদের তুলে আনা

সহবাগ, যুবরাজ, হরভজন, জাহির খান আর ধোনি – সৌরভের অধিনায়কত্বে উঠে এসেছেন সবাই। ২০০০ সালে গড়াপেটার জাল থেকে ভারতীয় দলকে বের করে আনার পেছনে সৌরভের অন্যতম কারিগর ছিলেন এই তরুণরা।

বিদেশের মাঠে অন্যতম সফল টেস্ট অধিনায়ক সৌরভ। ২৮ টেস্টে ১১টা জয় পেয়ে রয়েছেন বিরাট কোহলির পরেই। সৌরভের এই সাফল্যের পেছনে তরুণদের অবদান যে অনস্বীকার্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন