সৌরভের মেয়াদ বৃদ্ধি: সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

BCCI agm
বোর্ডের বার্ষিক সভা। ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই টুইটার।

ওয়েবডেস্ক: চলতি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পদে থাকার মেয়াদে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই দরবার করা হবে। রবিবার ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার ৮৮তম বার্ষিক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মূলত ক্রিকেট সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি ও অন্য পদাধিকারীদের কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়িয়ে দিলেন বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো প্রশাসক যদি বোর্ড বা রাজ্য সংস্থায় তিন বছর করে দু’ বার অর্থাৎ মোট ছ’ বছর কোনো পদে থাকেন, তা হলে তাঁকে বাধ্যতামূলক ভাবে তিন বছর ‘কুলিং অফ’-এ যেতে হবে অর্থাৎ তিন বছর তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের কোনো পদে থাকতে পারবেন না।

২৩ অক্টোবর সৌরভ গাঙ্গুলি বিসিসিআইয়ের সভাপতি হন। এর আগে তিনি সিএবি-তে (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল) ছিলেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময়। ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সৌরভ ১০ মাস সভাপতি পদে থাকতে পারবেন। অর্থাৎ ২০২০-এর আগস্টে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে।

বোর্ডের বর্তমান কর্মকর্তারা চান, কোনো কর্মকর্তা বোর্ড বা রাজ্য সংস্থায় এক টানা ছ’ বছর কাজ করার পর ‘কুলিং অফ’ শুরু হোক। এ দিনের সভায় গঠনতন্ত্রে ক্রিকেট কর্মকর্তাদের কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধির ধারায় এই পরিবর্তন আনার সওয়াল করা হয় এবং তা পাশ হয়ে যায়।  

বিসিসিআইয়ের এ দিনের সিদ্ধান্তে যদি সুপ্রিম কোর্ট সিলমোহর দেয় তা হলে সৌরভ গাঙ্গুলি অন্ততপক্ষে ২০২৪ পর্যন্ত বোর্ড সভাপতি পদে থেকে যেতে পারেন।

বোর্ডের এ দিনের সভায় লোঢা সংস্কারের পরিমার্জন, বোর্ড কর্তাদের কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি, ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি গঠন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জয় শাহ আইসিসি-তে প্রতিনিধি

আইসিসি-র চিফ একজিকিউটিভদের বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এ দিন বোর্ডের সভায় জয় শাহের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। তবে আইসিসি বোর্ড মিটিং-এ কে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন সে ব্যাপারে বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।  

সৌরভ কী বললেন

বোর্ডের বার্ষিক সভার পর সৌরভ গাঙ্গুলি সাংবাদিকদের বলেন, “ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি (সিএসি) গঠন স্থগিত রাখা হয়েছে। স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত যে ধারাটি রয়েছে, তার ফলেই উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না। আমরা উপদেষ্টা কমিটি গড়ব। আমরা বোর্ডের ওমবুডস্‌ম্যান বিচারপতি ডি কে জৈনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আমি এবং ভিভিএস (লক্ষ্মণ) ছাড় পেয়েছি। কোনটা স্বার্থের সংঘাত আর কোনটা নয়, সেটা আমাদের ভালো করে বোঝা দরকার। স্বার্থের সংঘাত ধারাটি সব কিছুই আটকে দিচ্ছে। এর জন্যই সিএসি গড়তে পারিনি। সংঘাত ধারাটি শুধুমাত্র আমাদের (কর্মকর্তা) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।”

“দিনের শেষে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক আদালত”, বলেন সৌরভ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.