ধোনির অভাব বুঝল চেন্নাই, আরও বিপাকে পড়ল কলকাতা

0

চেন্নাই: ১৩২-৫ (দু’প্লেসি ৪৫, ওয়াটসন ৩১, রশিদ ২-১৭)

হায়দরাবাদ: ১৩৭-৪ (বেয়ারস্টো ৬১ অপরাজিত, ওয়ার্নার ৫০, তাহির ২-২০)

হায়দরাবাদ: ধোনির অভাব কি চেন্নাইয়ের থেকে কলকাতা বেশি অনুভব করল? কারণ হায়দরাবাদের কাছে আকস্মিক ভাবে হেরে গেলেও চেন্নাইয়ের অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়ল না। কিন্তু কেকেআর পঞ্চম থেকে নেমে গেল ষষ্ঠ স্থানে। অনেক ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখে আবার স্বস্তি ফিরল হায়দরাবাদ শিবিরে।

চেন্নাইয়ের যেন দু’টো দল ব্যাট করে গেল হায়দরাবাদে। একটা দলে ছিলেন ওয়াটসন এবং ফাফ দু’প্লেসি। আর অন্য দলে ছিলেন বাকি ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দল চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে খেলে গেল প্রথম দশ ওভার। আর শেষ দশ ওভারে অন্য দলটির ওপরে চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে গেল হায়দরাবাদের বোলাররা।

যা কোনো অধিনায়ক আইপিএলে বিশেষ করেননি, সেটাই করলেন সুরেশ রায়না। ধোনিহীন চেন্নাইয়ের এ দিন দায়িত্ব সামলেছেন রায়না। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত কয়েকটি ম্যাচে, হায়দরাবাদের পিচের চরিত্রই যে তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

এর পর কার্যত ঝড়ের বেগে শুরু করেন ওয়াটসন এবং দু’প্লেসি। শ্লথ গতির পিচে দাপটের সঙ্গে ব্যাট করে যান দু’ জন। দশ ওভার পর্যন্ত আটের কাছাকাছি রানরেট রাখা চেন্নাইয়ের পরবর্তী দশ ওভারে যেন অন্য ছবি। তিন বলের ব্যবধানে আউট হয়ে গেলেন ওয়াটসন এবং দু’প্লেসি। তার পর কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল তাদের ব্যাটিং। এই পরিস্থিতিতে ধোনিকে খুব মিস করেছে চেন্নাই।

চেন্নাইয়ের ভেঙে পড়ার মূল কারণ হল আফগানি রশিদ খান। চার ওভারে মাত্র ৪.১৭-এর গড়ে রান দিয়ে দুই উইকেট নেন তিনি। বাকি বোলাররাও তাঁকে যোগ্য সংগত দেন।

১৩৩ রান তাড়া করতে নেমে দলের চাপ প্রায় পুরোটাই হালকা করে দেন ডেভিড ওয়ার্নার। আইপিএলে হায়দরাবাদের ভাগ্য বার বার ওপর-নীচ করেছে, কিন্তু দলের ওপেনিং জুটি কার্যত কোনো ম্যাচেই সে ভাবে ব্যর্থ হয়নি। দুই ওপেনার ওয়ার্নার এবং বেয়ারস্টো নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনা করেই খেলছেন। কোনো দিন বেয়ারস্টো ঝড় তোলেন তো ওয়ার্নার নিস্তেজ থাকেন, আবার কোনো দিন হয়তো উলটোটা।

আরও পড়ুন ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করে চমক শ্রীলঙ্কার

এ দিন ওয়ার্নারের তাণ্ডব ছিল। কিন্তু ৫০ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনি। তিনি যখন আউট হলেন, হায়দরাবাদ তখন বেশ স্বস্তিতে। কিন্তু ওয়ার্নার ফিরে যাওয়ার পর রানের গতি বেশ কিছুটা কমে যায় সানরাইজার্সদের। দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন উইলিয়ামসন। ব্যর্থ হয়েছে বিজয় শঙ্করও। মনে করা হচ্ছিল, বিশ্বকাপ দলে তাঁর নির্বাচন বড়ো রানের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করবেন শঙ্কর, কিন্তু কিছুই করতে পারেননি তিনি।

এই অবস্থায় ভরসা ছিল বেয়ারস্টো। কোনো তাড়াহুড়ো করেননি তিনি। সন্তর্পণে নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। নিজের অর্ধশতরানের পাশাপাশি দলকে জয়ে পৌঁছে দেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here