রাজস্থান: ১৫৪-৬ (স্যামসন ৩৬, স্টোক্স ৩০, হোল্ডার ৩-৩৩)

হায়দরাবাদ: ১৫৬-২ (মনীশ ৮৩ অপরাজিত, বিজয় ৫২ অপরাজিত, আর্চার ২-২১)

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একজন ভারতীয় দলে বারবার কড়া নেড়েও সাড়া পান না তেমন। অন্য ভারতীয় দলে যা সুযোগ পেয়েছেন সদ্বব্যবহার করতেই পারেননি। এমন দুই ব্যাটসম্যানের রেকর্ড জুটির মধ্যে দিয়ে রাজস্থান রয়্যাল্‌সকে হারিয়ে দিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

বেশির ভাগ দলই চলতি আইপিএলে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার উলটো পথে চলছেন। রবিবার কেকেআরের বিরুদ্ধে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েও সুপার ওভারে ম্যাচ হারে হায়দরাবাদ। এ বার রাজস্থানের বিরুদ্ধেও টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন ওয়ার্নার।

তা বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত যে খুব একটা ভুল ছিল না, সেটা হায়দরাবাদের বোলিং পারফর‍্যমান্স দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কেন উইলিয়ামসনের বদলে এ দিন দলে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। রাজস্থানকে ১৬০-এর কমে আটকে রাখার নেপথ্যে তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। একটা রান আউট তো করেইছেন। এ ছাড়া, রাজস্থানের সেট হয়ে যাওয়া তিনটে ব্যাটসম্যানকে ফেরান তিনি।

রাজস্থানের ব্যাটিং লাইনআপ বাছাইয়ে বড্ড গড়বড় হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে বার বার। ইংল্যান্ডের জস বাটলারকে ওপেন থেকে সরিয়ে পাঁচে নামানো হয়েছে। ওপেনিংয়ে পাঠানো হচ্ছে বেন স্টোক্সকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দু’ জনেই নিজদের নতুন জায়গায় সফল হচ্ছেন না।

স্টোক্স এ দিন ৩০ রান করলেও তাঁর পরিচিত ব্যাটিং দেখা যায়নি। চলতি আইপিএলে এখনও একটাও ছয় মারতে পারেননি তিনি। অন্য দিকে মিডিল অর্ডারে নেমে বাটলারের ব্যাট থেকে রান আসেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান এ দিন করেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু স্যামসনের মধ্যেই টুর্নামেন্টের প্রথম দিককার জৌলুস দেখা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে রাজস্থানের ব্যাটিং বেশ হতাশাজনকই হল বলা যায়। তবে রাজস্থানের যে এক্কেবারে আশা ছিল না, তাও নয়। কারণ এই টুর্নামেন্টে কতকটা রাজস্থানের মতোই পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে হায়দরাবাদও। মূলত ব্যাটিংই এই আইপিএলে হায়দরাবাদের ভরাডুবির প্রধান কারণ। এ দিনও সে রকম ভাবেই শুরু হয়েছিল তাদের ইনিংস।

জনি বেয়ারস্টো আর ডেভিড ওয়ার্নার, হায়দরাবাদের দুই প্রধান ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে মোক্ষম ধাক্কা দিয়েছিল জোফ্রা আর্চার। মনে হচ্ছিল এই ম্যাচেও ডুববে তাদের ব্যাটিং। কিন্তু সেটা হতে দেননি মনীশ পাণ্ডে।

ভারতীয় দলে কড়া নেড়েও বার বার ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন মনীশ। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে বার বার বুঝিয়ে যান, কেন তাঁর ওপরে এখনও বাজি ধরতে পারে টিম ইন্ডিয়া। এই টুর্নামেন্টটা খুব একটা খারাপও যাচ্ছে না তাঁর। তবে সব থেকে সেরা ইনিংসটা এ দিনই খেললেন মনীশ।

দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর মনীশের সঙ্গে যখন বিজয় শঙ্কর যুক্ত হলেন তখন হায়দরাবাদের ১৩৯ করতে হত জেতার জন্য। এত দিন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংসই খেলেননি বিজয়। গত বছর বিশ্বকাপ থেকেই তিনি ঝুলিয়ে যাচ্ছেন। আইপিএলেও তাঁর ব্যাট চলছে না। তাই মনে করা হচ্ছিল যে রাজস্থানই ম্যাচ বের করে নেবে।

কিন্তু সব হিসেব উলটে দিল এই জুটিটায়। অন্য বারের মতো এ দিনও শুরু থেকেই ব্যাট চলেনি বিজয়ের। বরং একের পর এক বল নষ্ট করে গিয়েছেন তিনি। তবে সেই অভাবটা মনীশ পূরণ করে দেন। শুরু থেকেই আগ্রাসী। তাঁর ব্যাটিং দাপটে পুরোপুরি নড়ে যায় রাজস্থান।

দলের স্কোর যখন ৭৭, তখন অর্ধশতরান পূরণ করে ফেলেন মনীশ। ম্যাচ ততক্ষণ হায়দরাবাদের কবজায় এসে গিয়েছে। মনে হচ্ছিল, হয়তো শতরানই করে ফেলবেন তিনি। কিন্তু সেটা করতে দেননি বিজয়ই। কারণ, ঠিক এই মুহূর্ত থেকেই বিজয়ের ব্যাটও চলতে শুরু করে। একের পর এক লফ্‌টেড কভার ড্রাইভের মধ্যে দিয়ে নিজের রানও বাড়িয়ে যান তিনি।

এর পর এই জুটিকে আর থামানো যায়নি। অর্ধশতরান করে ফেলেন বিজয়। তাঁর উচ্ছ্বাস দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এই ইনিংসটা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই জয়ের পর আপাতত পাঁচ নম্বরে উঠে এল হায়দরাবাদ। লিগ টেবিলের যা অবস্থা তাতে, কেকেআর ছাড়াও পঞ্জাব, রাজস্থান আর হায়দরাবাদও চতুর্থ স্থানটি দখল করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.