cricketers above 35 years old

ওয়েবডেস্ক: ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেই কোনো ক্রিকেটারকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া এখন যেন একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে অনেক ক্রিকেটার এমনও আছেন, যাঁরা ৩৫-এর আগেই অবসর গ্রহণ করেছেন। এঁদের মধ্যে অন্যতম নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের অনেক ক্রিকেটারই রয়েছেন যাঁরা জ্বলে উঠেছেন ৩৫ পেরোনোর পরে। এর মধ্যে সচিন তেন্ডুলকর যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরথ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিববনারায়ণ চন্দ্রপল।

আসুন একবার দেখে নিই এই সব ক্রিকেটারের পরিসংখ্যান।

রঙ্গনা হেরথ

বয়স যত বাড়ছে নিজেকে আরও ক্ষুরধার করছেন ৩৯-এর হেরথ। গত সোমবারই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার টেস্ট জয়ে মূল কাণ্ডারী ছিলেন শ্রীলঙ্কার এই বাঁ-হাতি স্পিনার। ওই ম্যাচেই একটি রেকর্ড করে ফেলেন তিনি। বিশ্বের প্রথম বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে চারশো উইকেটের গণ্ডি পেরোন তিনি। কিন্তু সব থেকে অবাক করা ব্যাপার হল, এই চারশো উইকেটের অর্ধেক, অর্থাৎ ২০০ উইকেটই হেরথ পেয়েছেন ৩৫-এর পরে। গত চার বছরে মাত্র ৩৭ ম্যাচে ২০০ উইকেট পেয়েছেন হেরথ। এর মধ্যে সতেরো বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট এবং ছ’বার ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছেন হেরথ। এর আগের ২০০ উইকেট তুলতে ৪৭ টেস্ট নিয়েছিলেন তিনি।

সচিন তেন্ডুলকর

কিংবদন্তি সচিনও এই তালিকায় জায়গা পাবেন। এটা ঠিক যে ৩৫-এর আগে হোক বা পরে, রেকর্ড সচিন সব সময়েই ভেঙেছেন। কিন্তু এমন একটা পরিসংখ্যান রয়েছে যা প্রমাণ করে ৩৫ বছরের আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ৩৫ বছরের পরে টেস্ট ক্রিকেটে একবারও শূন্য রানে আউট হননি সচিন। ৩৫-এর আগে অবশ্য বারোবার শূন্যতে আউট হয়েছিলেন তিনি।

মিসবাহ-উল-হক

পাকিস্তানের প্রাক্তন টেস্ট অধিনায়কের কার্যত পুরো টেস্ট কেরিয়ারটাই তৈরি হয়েছে ৩৫ বছরের পরে। ৭৫টা টেস্টের মধ্যে ৬৩টা টেস্টই তিনি খেলেছেন তাঁর ৩৫তম জন্মদিনের পর। ৪৭.৪৬ গড়ে রান করেছেন ৪৫০৯ রান। এর মধ্যে ৫৬টা টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ ম্যাচে।

ইউনুস খান

পাকিস্তানের আরও এক কিংবদন্তি। ৩৫তম জন্মদিনের পরে ৩৯ টেস্টে ৫২.৭৪ গড়ে ৩৫৩৪ রান করেছেন তিনি। দু’টো দ্বিশতরান-সহ ১৪টি শতরান করেছেন তিনি। উল্লেখ্য মিসবাহ এবং ইউনুস কতটা অপরিহার্য ছিলেন তা পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স থেকে প্রমাণিত।

কুমার সঙ্গকারা

৩৫ পেরোনোর পরে ২৩টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন শ্রীলঙ্কার এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান। এই সময়কালে তাঁর গড় ছিল ৬০.২৩। এই সময়ে দু’টো দ্বিশতরান এবং একটি ত্রিশতরানের রেকর্ড রয়েছে সঙ্গকারার।

শিবনারায়ণ চন্দ্রপল

৩৫-এর পরে তাঁর খেলা ৪৩ টেস্টে ৫৭.৭৩ গড়ে রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর কেরিয়ারের সেরা ইনিংস, অপরাজিত ২০৩-ও রয়েছে। সব থেকে চমকপ্রদ ব্যাপার হল এই সময়কালে তাঁর করা ন’টি শতরানের মধ্যে ছ’টি ক্ষেত্রেই অপরাজিত ছিলেন চন্দ্রপল।

দেখুন এই ভিডিওটি

সৌজন্য: ইএসপিএন ক্রিকিনফো

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here