ভারত ৩৭১-৪ (বিরাট ১৫৬ অপরাজিত, বিজয় ১৫৫, সান্দাকান ২-১১০)

নয়াদিল্লি: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত কেমন খেলল, সে ব্যাপারে চর্চা করার থেকে বরং চর্চাটা করা যাক আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে ভারতের প্রস্তুতির বিষয়ে। কারণ, ভারতীয় দলও যে এই সিরিজটাকে সেভাবেই দেখছে। শ্রীলঙ্কা যে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ তৈরি করতে পারবে না, সেটা কোহলি-শাস্ত্রীরাও জানতেন। তাই এই সিরিজটাকে আরও বৃহৎ সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে টিম। সেই সফরের আগে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে ফর্মের তুঙ্গে সেটা বলাই বাহুল্য।

এই বছরে ১৪টি ইনিংসে ন’টা অর্ধশতরান করে যদি কোনো ব্যাটসম্যানকে বাইরে বসে থাকতে হয়, তাহলেই বোঝা যায় এই দলের ব্যাটিং গভীরতা এবং ফর্ম ঠিক কেমন। ফিট এবং তুখোড় ফর্মে থাকা কেএল রাহুলকে বাইরে রেখেই শনিবার তৃতীয় টেস্টে নামে ভারত। সিরিজে প্রথমবার টসের সঙ্গ পেয়েছে ভারত।

শুরুতে যে শিখর ধাওয়ান আউট হয়ে গেলেন, সেটাও কিন্তু ছিনিমিনি খেলতে গিয়ে। আদৌ কোনো ভালো বলে পরাস্থ হননি তিনি। দ্বিতীয় টেস্টে শতরান করা পুজারার কাছেও ভালো সুযোগ ছিল, তাঁর শতরানের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার। শুরুও করেছিলেন ভালো, কিন্তু গামাগের বলা আটকে যান তিনি। এরপরেই শুরু হয় বিরাট-বিজয় শো।

যেমন দুর্ধর্ষ জুটি, তেমনই চমকপ্রদ রানরেট। শ্রীলঙ্কার বোলারদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন বিরাট। শতরান তো কতই করেছেন তিনি, কিন্তু শনিবার এমন ভঙ্গিমায় শতরান করলেন যেন ‘কুছ পরোয়া নেহি’। অন্যদিকে দ্বিতীয় টেস্টের পরে আরও একটা শতরান করে ফেললেন বিজয়। রাহুল এবং ধাওয়ানের ফর্মের জন্য ইডেন টেস্টে বসতে হয়েছিল বিজয়কে। দ্বিতীয় টেস্টে প্রত্যাবর্তন করেই ফর্মের শৃঙ্গে। গাভাস্কার এবং শহবাগের পরেই ওপেনার হিসেবে সব থেকে বেশি শতরানের শিরোপা এখন তাঁর মাথায়। শুধু একটাই আফসোস তাঁর, এগারোটা শতরান হলেও, এখনও দ্বিশতরানে যেতে পারেননি তিনি। এই টেস্টে সুযোগ ছিল ভালো, কিন্তু ৪৫ রান দূরেই থেমে যান।

অন্যদিকে ১১০ বলে শতরান করলেন বিরাট। তাঁর কেরিয়ারের দ্রুততম টেস্ট শতরান। তিনি কিন্তু এখনও অপরাজিত। শতরান শুধু নয়, দ্বিশতরানও এখন অভ্যেসে পরিণত করে ফেলেছেন বিরাট। দিল্লিতে তাঁর ঘরের মাঠের ভক্তদের এখন তাই প্রার্থনা, এবার আর দ্বিশতরান নয়, বিরাট থামুন একেবারে ত্রিশতরানে।

ব্যাটসম্যানদের এই তুখোড় ফর্মের মধ্যেও কাঁটা হয়ে রয়ে গেলেন অজিঙ্ক রাহানে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত টেস্টে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে যে ভাবে ফর্ম হারিয়েছেন, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ভারতের মিডিল অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাহানেকে বসিয়ে রাহুলকেও দেখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তবে আপাতত ভারতের লক্ষ্য একটাই, কতো কম সময়ের মধ্যে লঙ্কাবধ সেরে ফেলতে পারে টিম বিরাট।