sourav ganguly

কলকাতা: ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলেন না, তাই ছেলেকে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়। কিছু দিন পরেই প্রকাশিত হতে চলা নিজের আত্মজীবনীতে এই কথাই লিখেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

গ্রেগ চ্যাপেল জমানার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে সৌরভ লিখেছেন, “চ্যাপেল যখন আমাকে টিম থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছিল, তখন আমি খুব পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু নিজের ছেলের এই কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না বাবা। তাই আমাকে অবসর নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বাবা।”

কিন্তু সৌরভ সেটা মানেননি। তাঁর কথায়, “আমি বাবাকে থামাই। বলি, আমি ফিরবই। এখনও আমার মধ্যে অনেক ক্রিকেট পড়ে রয়েছে।” আত্মজীবনীতে সৌরভ লিখেছেন, “আমি কখনোই চাইনি যে বয়স হয়ে গেলে, কেউ আমাকে বলুক আমি চাপের মধ্যে নতি স্বীকার করে খেলা ছেড়ে দিয়েছি। চাপ সহ্য করতে পারিনি, এটা কেউ বলুক আমি চাইনি।”

উল্লেখ্য, চ্যাপেলের সঙ্গে সৌরভের ঝামেলা শুরু ২০০৫-এর জিম্বাবোয়ে সফরের সময়ে। সেখানে মহম্মদ কাইফকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য সৌরভকে দল থেকে সরে যাওয়ার ‘পরামর্শ’ দিয়েছিলেন গ্রেগ। সৌরভ সেই সফরের প্রথম টেস্টেই পালটা শতরান করে দেন। কিন্তু সেই শতরানেও ঘাতকদের মন গলেনি। এই সফরের পরেই ভারতীয় দল থেকে ছিটকে যান সৌরভ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত রান এবং কঠিন পরিশ্রমের ফলে ২০০৬-এর শেষ দিকে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তন হয় সৌরভের। তার পর তো পুরোটাই ইতিহাস।

তবে ২০০৮-এ অবসর নেওয়ার পেছনে ‘হতাশা’ অন্যতম কারণ ছিল সে কথাও নিজের বইয়ে লিখেছেন সৌরভ। অনেকের হয়তো মনে থাকবে ২০০৮-এ অস্ট্রেলিয়া সফরের ঠিক আগে ইরানি ট্রফিতে অবশিষ্ট ভারত একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন সৌরভ। তিনি লিখেছেন, “খুব পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছিল আমাকে। একশো টেস্টের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ক্রিকেটারকে আবার পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। আবার ‘প্রমাণ’ করতে হচ্ছে। এটা আর পেরে উঠিনি।”

তবে শেষ সিরিজে চমকপ্রদ পারফর্মেন্স ছিল সৌরভের। দ্বিতীয় টেস্টে শতরান এবং শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। নিজের শেষ ইনিংসও কী কম গৌরবের। সেখানে ব্র্যাডম্যানসুলভ শূন্য রানেই ফিরে গিয়েছিলেন বঙ্গসন্তান। শেষ টেস্টের শেষ মুহূর্তে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি যে তাঁকে অধিনায়কত্ব করতে বলেছিলেন সে কথাও নিজের জীবনীতে জানাতে ভোলেননি সৌরভ।

এই মাসের শেষেই প্রকাশিত হতে চলেছে সৌরভের আত্মজীবনী, ‘আ সেঞ্চুরি ইজ নট ইনাফ’। ইতিমধ্যে এই বই ঘিরে সৌরভপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here