World Cup
অরুণাভ গুপ্ত

প্রথম মাথা গলিয়ে বিশ্বকে চমকে দিলে যে কোনো টিমের একটা দারুণ অনুভূতি হয়। টিম মনে করে বিশ্ব জয় করে ফেলেছে।

বিশ্বকাপের বারান্দায়/৯

১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়া ক্রিকেট মহারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও ক্রিকেট ভক্তদের নজরে আমল পায়নি। কেনিয়ানরা নিজেরা তা ভালো জানেন যে তাঁদের সম্পর্কে খুদকুড়ো আশা কেউ রাখেন না। দেশের লোক যেখানে রাখেন না, সেখানে অন্যদের তো কথাই নেই। গ্রুপের ম্যাচে আবার প্রতিপক্ষ যে-সে দেশ নয়, খোদ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যাদের টিমে থরে থরে সাজানো রয়েছে ব্রায়ান লারা, অ্যামব্রোস, ওয়ালশ, রিকি রিচার্ডসন প্রমুখ দিকপাল ক্রিকেটাররা। তুলনায় কেনিয়া নিতান্তই দুগ্ধপোষ্য শিশু।

কেনিয়া প্রথমে ব্যাট করছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘাগু বোলারদের দাপটে যা স্বাভাবিক তাই হল। ১৬৬ রানে কেনিয়া মুড়িয়ে গেল। এ বার ওয়েস্ট ইন্ডিজের পালা, সমর্থকেরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে বিরতিতে এটা-সেটা খাচ্ছেন আর আলোচনা চলছে ক্রিকেট ঘিরে। খেলা শুধু খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানান নস্টালজিক ঘটনা।

ক্রিকেটে শেষ বল না-হওয়া পর্যন্ত ফলাফল বলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনেক সময় বোদ্ধারা আগাম গেয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছেন। তুড়ি মেরে বাজি মারতে গিয়ে পা পিছলে আলুর দম। কেনিয়ার রজার আলি ও মরিস ওদুম্বে দু’জনে ও তিনটে, এ তিনটে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারোটা বাজিয়ে দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বসাকুল্যে ৯৩ রান তুলল।

কেনিয়া সে বারের বিশ্বকাপে দুনিয়া সেরা অঘটন ঘটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল। বোদ্ধারা-দর্শকরা চোখ কচলে বোঝার চেষ্টা করলেন- ঘটনাটা সত্য তো?

একদম! কেনিয়া যেন বিশ্বকাপ জয় করে ফেলেছে এমন উন্মাদনায়-আনন্দে ভেসেছেন কেনিয়াবাসী। যদিও এই হার তেমন কোনো আঁচড় কাটতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরের খেলাগুলিতে বা তাদের এগনোর পথে!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here