সত্যিটা মানতে হবে, চব্বিশের পন্থের বিকল্প কখনোই হতে পারেন না সাঁইত্রিশের ঋদ্ধিমান

0

শ্রয়ণ সেন

কষ্ট হয়। ব্যাপারটা মেনে নিতে সত্যি কষ্ট হয়। কিন্তু তা-ও মেনে নিতে হয়। কারণ এর পেছনে যুক্তিও অকাট্য।

ঋদ্ধিমান সাহারই এটা দুর্ভাগ্য। তাঁর কেরিয়ারের শুরুটা এবং শেষটা দুই বিস্ময়কর ব্যক্তির আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছে। তাঁর কেরিয়ারের প্রথম অর্ধে রাজ করে গিয়েছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধোনির অকাল অবসরের সুযোগ নিয়ে অনেক বেশি বয়সে নিজের কেরিয়ার গড়তে শুরু করা ঋদ্ধি, শেষ দিকে এসে চাপা পড়লেন এমন একজনের আড়ালে, যিনি একমাত্র ভারতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় শতরান করে বসে রয়েছেন। অর্থাৎ ঋষভ পন্থ।

এর মধ্যেই অনবরত চোটআঘাতে জর্জরিত হতে হয়েছে তাঁকে। যার ফল, পন্থের আগমনের আগেও দীনেশ কার্তিক, পার্থিব পটেলদের জায়গা ছেড়ে হয়েছিল ঋদ্ধিকে। এই পোড়া কপালের কারণেই ভারতের শ্রেষ্ঠ উইকেটরক্ষকের কেরিয়ার চল্লিশের কাছাকাছি টেস্টেই শেষ হয়ে যাবে।

এই ৩৭ বছর বয়সেও ঋদ্ধি অন্য যে কোনো টেস্ট দলে অবলীলায় জায়গা করে নেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা হবে না। কোনো মতেই হবে না। কারণ দেশের প্রথম বাছাই উইকেটরক্ষক অর্থাৎ ২৪ বছরের ঋষভ পন্থের বিকল্প, তথা ব্যাকআপ হিসেবে ৩৭ বছরের একজনকে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বরং তার বদলে আরও তরুণ কাউকে তৈরি করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। বছর আঠাশের কেএস ভরত, যে শর্তটা পূরণ করছেন।

শুধু ভরতই নয়, বিকল্প হিসেবে আরও তরুণ রয়েছেন। টি২০ এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ঈশান কিষান নিজে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ঋদ্ধিকে ‘বয়ে বেড়ানো’টা ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের কাছেও অস্বস্তির।

আসলে সব হিসেবই ওলটপালট করে দিয়ে গিয়েছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। উইকেটরক্ষকের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন তিনি। আগে উইকেটরক্ষকের কাজ ছিল শুধুমাত্র উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে সেই কাজটা ভালো করে করা, ব্যাটিংয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত না। কিন্তু গিলক্রিস্ট দেখিয়ে দিলেন উইকেটরক্ষককে দুর্দান্ত ব্যাটারও হতে হবে। লোয়ার অর্ডারে নেমে গুরুত্বপূর্ণ রান করতে হবে দলের জন্য।

Adam gilchrist

গিলক্রিস্ট-উত্তর যুগে আর কোনো উইকেটরক্ষককে পাওয়া যাবে না, যাঁর ব্যাটে কোনো অবদান নেই। সে শ্রীলঙ্কার কুমার সঙ্গকারা হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার বা কুইন্টন ডে কক হোক, নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বা বিজে ওয়াটলিং হোক কিংবা সর্বোপরি ভারতের মহেন্দ্র সিংহ ধোনি হোক। এমনকি বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমও টেস্ট কেরিয়ারে দু’টো দ্বিশতরান করে ফেলেছেন।

ঋদ্ধির দুর্ভাগ্যটা সেখানেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যতই ঝুড়ি ঝুড়ি রান করুন না কেন, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ব্যাট হাতে অবদান খুব বেশি নেই। ২০১৬-এর আগস্ট থেকে ২০১৭-এর মার্চের মধ্যে দশটা টেস্টের ব্যবধানে তিনটে টেস্ট শতরান করেন তিনি। এর মধ্যে একটা ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ছিল। কিন্তু তার পরের ১৬টা টেস্টে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান বলতে মাত্র দু’টো অর্ধশতরান। এর মধ্যে একটি অর্ধশতরান তিনি করেছিলেন গত নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কানপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে।

অন্য দিকে, এখনও পর্যন্ত ২৮টা টেস্ট খেলা পন্থ ইতিমধ্যেই মোট রানে ঋদ্ধিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। চারটে টেস্ট শতরান করেছেন, যার মধ্যে তিনটেই ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়। ভুলভাল শট খেলে সাততাড়াতাড়ি আউট হয়ে যাওয়ার রোগটা তিনি যে ঘোচাচ্ছেন, সেটা তাঁর সাম্প্রতিক কেরিয়ার গ্রাফ দেখলেই বোঝা যায়। উইকেটরক্ষক হিসেবে শুরুর দিকে দুর্বলতা থাকলেও, সেটাও কাটিয়ে উঠছেন পন্থ। এখন ঘূর্ণি পিচেও উইকেটের পেছনে যথেষ্ট সাবলীল তিনি।

২০২১-এর পয়লা জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে দু’টো শতরান এবং পাঁচটা অর্ধশতরান করে ফেলেছেন তিনি। এই পাঁচটির মধ্যে একটা ৯৭, একটা ৯১ এবং একটা ৮৯ রয়েছে। ওই ৮৯টা এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ব্রিসবেন টেস্টে, যেখানে অসম্ভব ভালো দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় দিয়ে ভারতকে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জিতিয়েছিলেন পন্থ।

এই পরিস্থিতিতে ঋদ্ধিমান কী করে ভারতীয় দলে আর জায়গা পেতেন? একমাত্র উপায় ছিল পন্থের ব্যাকআপ হিসেবে থেকে যাওয়া। অপেক্ষা করা কবে পন্থ চোট পাবেন, তা হলে ফের সুযোগ পাবেন ঋদ্ধি। কিন্তু অনেক তরুণ উইকেটরক্ষক যখন লাইন দিয়ে রয়েছেন, তখন ৩৭ বছরের একজনকে কি দলে রেখে দেওয়া সত্যিই যুক্তিযুক্ত? সেটা কি ওই তরুণদের কাছে অবিচার হবে না? বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা, একটু ভেবে দেখুন।

আরও পড়তে পারেন

রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের আসল কারণ কী? মাঝখানে কেন আমেরিকা

ধুলিস্যাৎ বিজেপি, গো হারা এআইএডিএমকে, তামিলনাড়ুর পুরভোটেও দাপট দেখাচ্ছে ডিএমকে

আনিস খান হত্যাকাণ্ডে তিন পুলিশকর্মী সাসপেন্ড

হাতে ইভিএমের বাক্স, হলুদ শাড়ি পরে ভাইরাল সেই মহিলা ভোটকর্মী এ বার স্লিভলেস টপ আর ট্রাউজারে

এসএসসি গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব ডিভিশন বেঞ্চের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন