বিরাট-রাহানে লড়লেও সাদাম্পটনে ফের ভিলেন আবহাওয়া

    আরও পড়ুন

    ভারত ১৪৬-৩ (বিরাট ৪৪ অপরাজিত, রাহানে ২৯ অপরাজিত, জেমিসন ১-১৪)

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: মাত্র এক সপ্তাহ আগেকার কথা। ইংল্যান্ডকে ইংল্যান্ডের মাটিতেই টেস্ট সিরিজ হারিয়ে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। ফলে তাদের পেসারদের সামনে পেসসুলভ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় ব্যাটিং ভেঙে পড়বে, আশঙ্কাটা এমনই করা হচ্ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকলেও যথেষ্ট লড়াই দিল ভারতীয় ব্যাটিং। কিন্তু দিনের শেষে ফের ভিলেন হয়ে দাঁড়াল সেই আবহাওয়া। যার ফলে ৬৫ ওভারের বেশি গড়ালই না খেলা।

    Loading videos...

    টস জেতার ক্ষেত্রে বিরাট কোহলির রেকর্ড খুবই খারাপ। কিন্তু শনিবারের টসটি ছিল তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ টস। বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন টসটি জেতা অত্যন্ত জরুরি, কারণ টস হেরে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের সামনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা পড়ে গেলে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। কিন্তু বিরাট টস হারলেন আর সেই আশঙ্কাটাই সত্যি হওয়ার একটা আশঙ্কা যেন তৈরি হয়ে গেল।

    - Advertisement -

    কিন্তু যেমনটা ভাবা হয়েছিল, ম্যাচের শুরুর পর থেকে হল উল্টোটা। শুরুতেই রোহিত শর্মাকে ‘লুজ’ বল দিলেন টিম সাউদি। ফাইনালের প্রথম বলেই তিন রান নিয়ে নিলেন রোহিত। ব্যাস, এর পর নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারই চাপে ফেলতে পারেননি রোহিত এবং শুভমন গিলকে।

    সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়াগনার এবং কাইল জেমিসন – এই চার পেসারকে নিয়ে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। সঙ্গে রয়েছে কলিন ডে গ্র্যান্ডহোমের মিডিয়াম পেস। এই পাঁচ বোলার মিলেও রোহিত আর শুভমনকে প্রথম দেড় ঘণ্টায় কোনো চাপেই ফেলতে পারেননি। বরং দুই ওপেনারই খুব সন্তর্পণে নিজেদের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মারার বল পেলে দু’ জনই চোখ ধাঁধানো সব শট মেরেছেন।

    কিন্তু কুড়ি ওভারে পেরোতেই ম্যাচে ফিরে আসে নিউজিল্যান্ড। ২১তম ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় ভারত। ওভারের প্রথম বলে জেমিসনের বলে স্লিপে খোঁচা দিয়ে ড্রেসিং রুমের পথ দেখেন রোহিত। এর চার ওভার পরেই নিল ওয়াগনারের বলকে উইকেট কিপার বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে খোঁচা দিয়ে ফিরে যান শুভমন।

    দুর্দান্ত শুরু করেও পর পর দু’টো উইকেট হারিয়ে ভারত আচমকা চাপে পড়ে যায়। তবে নিল ওয়াগনারকে দুর্ধর্ষ একটা কভার ড্রাইভ মেরে কিছুটা চাপ হালকা করেন বিরাট কোহলি।

    আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ভারত মধ্যাহ্নভোজনের বিরতিতে গেলেও বিরতির পরেই ফের চাপে পড়ে যায় বিরাটবাহিনী। এ দিন শুরু থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না চেতেশ্বর পুজারা। প্রথম রানটা করতে তিনি ৩৫টা বল লাগিয়ে দেন। তবে দুরন্ত দু’টো অফ-ড্রাইভে যখন মনে হচ্ছিল যে রানের মুখ দেখতে পারেন পুজারা, তখনই তাঁর পা উইকেটের সামনে পেয়ে যান ট্রেন বোল্ট। তাঁর নিখুঁত ইনসুইং এড়িয়ে যেতে পারেননি পুজারা।

    ৮৮ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে বেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। কিউয়ি বোলাররা ততক্ষণে বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে হুংকার দিতে শুরু করেছেন। এখান থেকেই পালটা লড়াই দিতে শুরু করেন বিরাট। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন অজিঙ্ক রাহানে। অনেকের খেয়ালই নেই যে ভারতের হয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সব থেকে বেশি রান করেছেন রাহানেই।

    রাহানেকে সঙ্গে নিয়ে দলে রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন বিরাট। চার কিউয়ি পেসারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাবলীল ছিলেন দু’জনই। খুব একটা বেশি পরাস্তও হতে দেখা যায়নি দুই ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু এই জুটির প্রকৃতির কাছে পরতে পরতে বাধার সম্মুখীন হতে থাকে। বার বার ড্রেসিং রুমে ফেরা এবং ফের খেলতে নামতে হচ্ছিল এই জুটিকে, যা তাদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাতেই পারত। কিন্তু তা হয়নি।

    দিনের শেষে যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছেন বিরাট এবং রাহানে। রবিবার তৃতীয় দিন খেলা যদি ঠিকঠাক হয় তবে এই জুটি আরও এগোবে, এমন আশা ভারতীয় সমর্থকরা করতেই পারেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর