জিমন্যাস্টিক্সে ভল্ট-এর ইভেন্টে আলাদা পদক হয়, সেখানে যেসব ভল্ট হয় সেগুলোর আলাদা আলাদা নাম হয়, তার মধ্যে এমনও ভল্ট আছে যাতে একটু এদিক ওদিক হলে মৃত্যু অবধি হতে পারে, সেই ভল্টের নাম প্রোদুনোভা ভল্ট- এই সব কথা বাঙালি তথা আপামর ভারতবাসী জেনে গেল ২০১৬-র রিও অলিম্পিক দেখতে দেখতে। যার জন্য জেনে গেল, তিনি উত্তর-পূর্বের একটা ছোট্ট রাজ্যের রাজধানী শহরে সাদামাটা পাড়ায় থাকেন। এর বেশি কৃতিত্ব কি আর কোনওভাবেই পাওয়া সম্ভব ছিল ত্রিপুরার দীপা কর্মকারের। মনে হয় না। তিনি ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সে যে স্থান পেয়ে গেলেন, তার সঙ্গে বুঝি একমাত্র মিলখা সিং-এরই তুলনা হতে পারে। আসলে, তাও হতে পারে না। কারণ, দীপা এমন একটা খেলার মানুষ, যার সঙ্গে ভারতের ক্রীড়া জগতের বহু বহু দূরের সম্পর্ক।

এসবই এমন কথা, যার সঙ্গে স্কোরবোর্ডের, বইতে লেখা ইতিহাসের তেমন সম্পর্ক নেই। সেগুলোর জন্য বলে রাখা যাক ১৫.০৬৬ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ স্থানে অলিম্পিক শেষ করলেন  দীপা কর্মকার। অনেক এগিয়ে প্রথমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সিমোনে বাইলস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিযোগীরা। তাদের দুজনেরই পয়েন্ট দীপার বেশ কাছাকাছি।

এখন পর্যন্ত পদকহীন ভারতের রিও অভিযানে দীপা ৭০তম স্বাধীনতা দিবসের আগে পদক পেয়ে গেলে হয়তো রূপকথা তৈরি হয়ে যেত। তবু তা যে হয়নি, সেটা বোধহয় মন্দ নয়। এমন এক একটা প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের ফুলকি দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো সম্পর্কে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করে না দিতে পারলেই তো ভাল। এমন একটা রূপকথা ঘটে গেলে, ফাইনালে যে সাত প্রতিযোগীর সঙ্গে দীপা লড়লেন, সেই দেশগুলোর খেলাধুলোর পরিকাঠামোর সঙ্গে তুলনা করার পরিবেশটাই হয়তো কোনওদিন তৈরি হবে না ভারতের ক্রীড়া মহলে।

সারা দেশ তাকিয়ে  ছিল দীপার দিকে। তাঁর ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর বলতে ইচ্ছে হয়,’ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here