সানি চক্রবর্তী :

ডিএসকে শিবাজিয়ান্স ১ (গৌরমাঙ্গি)      ইস্টবেঙ্গল ২ (ওয়েডসন-পে, প্লাজা)

একজন প্রথম ম্যাচেই নজর কেড়েছিলেন, ক্লান্ত শরীরেই ভরসা হয়ে ওঠার ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেই যদিও দলের জয়সূচক গোলটা করে নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন তিনি। আর এক জন নিজের পছন্দের পজিশনে খেলতে না পেরে সে ভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। নিজের পছন্দের রাইট উইংয়ে ফিরেই ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে গেলেন বিপক্ষ ডিফেন্সে। পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম গোলটাও তাঁরই। প্রথম জন উইলিস প্লাজা, আর দ্বিতীয় জন ওয়েডসন আনসেলমে। আক্রমণভাগে দুই তারকা যখন জ্বলে উঠলেন, রক্ষণে তেমনই ভরসা দিলেন ইভান বুকেনা। সব মিলিয়ে লাল-হলুদের বিদেশিদের ছন্দে ফেরার দিনে আই লিগের প্রথম তিন পয়েন্ট এল তাদের দখলে। ডিএসকে শিবাজিয়ান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে জয়ের রাজপথে চলে এল ইস্টবেঙ্গল। মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে তিন পয়েন্ট ঝুলিতে এলেও প্রশিক্ষক ট্রেভর জেমস মরগ্যানের কপালে চিন্তার ভাঁজ কিন্তু রয়েই গেল। একাধিক ক্ষেত্রে ছন্নছাড়া ছিল তাদের ফুটবল। আর সব থেকে বেশি দৃষ্টিকটূ ছিল গোল মিসের বহর। ম্যাচের সেরা প্লাজা ও ওয়েডসন এ দিন একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছেন। ভাগ্য সহায় থাকলে হয়তো হ্যাটট্রিকও করে ফেলতে পারতেন হাইতিয়ান তারকা। তবে দু’বারই বাজে শটে তা হয়নি। অরক্ষিত অবস্থায় তাঁর একটি শট ক্রসপিসের উপর দিয়ে উড়ে যায়, আর একটি সোজা গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সোরাম পোইরেইয়ের হাতে। প্লাজাও একটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল শট সোজা তুলে দেন প্রাক্তন আইজল গোলরক্ষকের হাতে।

কর্পোরেট কোটার দল শিবাজিয়ান্স পুনে শহরকে বাণিজ্যিক ঢংয়ে সাজালেও সেই অর্থে দল গড়তে পারেনি। মূলত তরুণ ও বেশি অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমাহার তাদের দলে। ইস্টবেঙ্গলকে সে ভাবে তারা বেগ দিতে পারেনি মাঠের লড়াইয়ে। বরং ম্যাচের বেশির ভাগটা জুড়েই ছিল ওয়ান ওয়ে ট্র্যাফিক। খেলার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় লাল-হলুদ শিবির। বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে ওয়েডসন বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার আগেই ফাউল করে বসেন পোইরেই। সঙ্গত কারণেই পেনাল্টি পায় মরগ্যানের দল, যা থেকে ব্যবধান বাড়াতে কোনো ভুল করেননি ওয়েডসন। এ দিন খেলার প্রথম থেকেই প্লাজা, হাওকিপ দুই স্ট্রাইকারকে নামিয়ে আক্রমণে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন ব্রিটিশ কোচ। তবে মাঝমাঠে সে ভাবে দানা বাঁধছিল না তাদের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি পরিবর্তন করে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ডেভ রজার্সের প্রশিক্ষণাধীন ছেলেরা। নিখিলকে তুলে রবিনকে নামিয়ে মরগ্যান রক্ষ্মণাত্মক স্ট্র্যাটেজিতে ঝোঁকার আগেই গোল খেয়ে যায় তারা। ফ্রি-কিকের একটি বল রেহানেশ ক্লিয়ার করলে তা এসে পড়ে অরক্ষিত গৌরমাঙ্গি সিংয়ের পায়ে। অভিজ্ঞ এই ফুটবলার জালে বল জড়িয়ে সমতা ফেরান ম্যাচের ৬৪ মিনিটের মাথায়। সাত বছর পর আই লিগে গোল পেলেন গৌরমাঙ্গি, যার জেরে ফের আক্রমণাত্মক পরিবর্তনে বাধ্য হন মরগ্যান। ওয়েডসনকে তুলে জ্যাকিচাঁদকে ও হাওকিপকে তুলে রবিনকে নামান তিনি। তার পরেই ফের ইস্টবেঙ্গল ম্যাজিক। সুন্দর বিল্ড-আপ প্লেতে প্লাজা বল পেয়ে পোইরেইয়ের বাঁ হাতের নীচে দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।

খেলার লাইভ স্ট্রিমিং হওয়ার কথা থাকলেও মাঝে গোটা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায়, তা আর হয়নি। কিন্তু চোখে না দেখলেও দলের জয়ের খবরে ও প্রিয় ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের কোলাজের খবর ভালোমতো নিয়েই স্বস্তি পেয়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। আপাতত ফাঁক-ফোকরগুলো মেরামত করে পরের চার্চিল ম্যাচেও তিন পয়েন্ট নিয়েই ছয় পয়েন্টে আপাতত অ্যাওয়ে অভিযান শেষ করতে চান বলে জানিয়ে দিয়েছেন মরগ্যানও।

ইস্টবেঙ্গল- রেহনেশ, রাহুল, আনোয়ার, বুকেনা, নারায়ণ, মেহতাব, ডিকা, নিখিল (রবিন), ওয়েডসন (জ্যাকিচাঁদ), হাওকিপ (রবিন), প্লাজা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here