সানি চক্রবর্তী:

ভুবনেশ্বর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে উঠে হাওড়া ফিরলেন অর্ণব-মেহতাব-নারায়ণরা। তাও নাকি স্বেচ্ছায়!

ডার্বি হারের পরে ইস্টবেঙ্গল দলের ফুটবলারদের নিজেদের ব্যবস্থায় ফিরে আসার কথা বলেছিলেন কর্তারা। একটি সূত্রের দাবি এমনটাই। তাই ডিকা-গুরবিন্দররা নিজেদের ব্যবস্থায় গাড়ি করে ফিরছেন। বিদেশি প্লাজা-ওয়েডসনরাও একই রাস্তায় হেঁটেছেন। নিজেদের ফেরার ব্যবস্থা ট্রেনেই নাকি করতে চেয়েছিলেন লাল-হলুদের বাঙালি ব্রিগেড। অর্ণব মণ্ডল, মেহতাব হোসেন, নারায়ণ দাস, শুভাশিস রায়চৌধুরী, সামাদ আলি মল্লিক ও গোলরক্ষক কোচ অভিজিত মণ্ডল নাকি বেছে নিয়েছিলেন ট্রেনসফর। বাকিদের নাকি বিমানের টিকিট কাটা মঙ্গলবার। তাদের কিছু না জানিয়েই রওনা হয়ে যান ফুটবলাররা।

ডার্বি জয়ের আনন্দে গা ভাসাতে ভাসাতে ফেরা মোহনবাগান সমর্থকরা হঠাৎই লাল-হলুদের বঙ্গব্রিগেডকে ট্রেনে দেখে অবাক। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই ভুলে তখন বাঙালি ফুটবলারদের বরণ করে নিয়েছে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। নিজেদের সিট তাদের এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আড্ডাও দিয়েছেন ফুটবলারদের সঙ্গে। অবাক এই ট্রেনসফর যেন বাঙালির ফুটবলপ্রেমের একতার প্রমাণ রেখে গেল।

সঙ্গে অবশ্যই তুলে দিল হাজারো প্রশ্ন। সত্যিই কি ডার্বি হারের জেরে, ফুটবলারদের নিজেদের ফেরার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্তারা? স্বেচ্ছায়, নাকি বাধ্য হয়ে ট্রেনে শহরে ফিরতে হল ফুটবলারদের? উত্তর এখনও পর্যন্ত না মিললেও, গোটা ঘটনা কিন্তু একটা বাজে বিজ্ঞাপন হয়ে রইল বাংলার ফুটবলের জন্য। সর্বোপরি ইস্টবেঙ্গলের জন্য। বড়ো ম্যাচে হারের পরে তা হলে কি ক্লাব এ ভাবে ফুটবলারদের দায়ভার থেকে সরে দাঁড়াতে পারে? কোথায় তা হলে পেশাদারিত্ব? আর সর্বোপরি, ঘটনার কি কুপ্রভাবটাই না পড়বে ফুটবলারদের মনে? সব প্রশ্নগুলো আপাতত ধাঁধা। জট ছাড়াতে অপেক্ষা কিছু সময়ের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here