সানি চক্রবর্তী:

১৮০ ডিগ্রি। পুরোটা না হলেও কাছকাছি। আইএসএল-এ কলকাতার দুই প্রধানের অংশগ্রহণ ঘিরে নাটকীয় পট পরিবর্তন।

মূলত স্পনসরদের চাপে আইএসএল-এ খেলার পথে পা বাড়াল ইস্টবেঙ্গল। শিলিগুড়িকে হোম সিটি করে দরপত্রের খসড়া তোলার পথে তারা। ৫ কোটি টাকা দিয়ে লাল-হলুদ শিবির যে দরপত্রের খসড়া তুলছে, সেই খবর জানিয়ে দিয়েছেন ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি বলেছেন, “দীর্ঘ আলোচনার পরেই আমরা স্থির করেছি, দরপত্রের খসড়া তুলব আমরা।” উল্লেখযোগ্য ভাবে তাঁর সংযোজন, “মোহনবাগানের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দরপত্রের খসড়ার কপি তাদেরও পাঠানো হবে।”

মোহনবাগানের সহসচিব সৃঞ্জয় বসুও গোটা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে রেখেছেন, “ইস্টবেঙ্গল কর্তারা যা জানিয়েছেন, সেটা সত্য। তাঁরা দরপত্রের খসড়া আমাদের পাঠাবেন। দরপত্র দেখা মানেই আইএসএল-এ খেলতে রাজি হওয়া, এমনটা নয় যদিও।” যদিও একটি বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সোমবারই দরপত্রের খসড়া নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে দিয়েছে ইউনাইটেড ইস্টবেঙ্গল ফুটবল টিম প্রাইভেট লিমিটেড। কয়েক দিন আগে যেখানে টাকা দিয়ে খেলার ব্যাপারে এতটা অনীহা ছিল কলকাতার দুই প্রধানের, সেখানে এ রকম পট পরিবর্তন হল কী ভাবে? সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে উঠে আসছে বেশ কিছু তথ্য।

প্রথমত, আইএসএল-এ খেলার ব্যাপারে কয়েক পা ইতিমধ্যেই এগিয়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি। জিন্দাল স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে বেঙ্গালুরু দল হিসেবে আইএসএল-এ খেলতে চেয়ে ইতিমধ্যে দরপত্রের খসড়ার জন্য অর্থ জমা দিয়ে আবেদন সেরে ফেলেছে। আই লিগ থেকে সংযোজিত আইএসএল-এ খেলার জন্য যে তিনটি দল নিয়ে সব থেকে বেশি আলোচনা চলছিল, তাদের মধ্যে বেঙ্গালুরু বেশ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ায় আগেভাগেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল দুই প্রধান। তাই নিজেদের অবস্থান থেকে বেশ কিছুটা সরে আসতে বাধ্য হয়েছে তারা।

দ্বিতীয়ত, স্পনসর কিংফিশারের চাপ। বিজয় মাল্যর হাত থেকে ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজের মালিকানার বড়ো অংশ এখন স্থানান্তরিত হয়েছে হাইনিকিনের হাতে। কিংফিশারের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড ইস্টবেঙ্গল ফুটবল টিম প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত রয়েছেন ডিরেক্টর শেখর রামমূর্তি। দরপত্র কেনার ব্যাপারে তিনিই রাজি করিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে। দীর্ঘদিনের স্পনসর তথা সঙ্গী রামমূর্তির কথা তাই এক প্রকার শুনতে বাধ্য হয়েছে তারা। বৃহস্পতিবারই লাল-হলুদের সহসচিব ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত রামমূর্তির সঙ্গে বেঙ্গালুরু যাবেন হাইনিকিনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে। দীর্ঘদিন ধরে দলগঠনে টাকা দেওয়া কিংফিশার গ্রুপ প্রথম থেকেই নেতিবাচক ভঙ্গিতে আইএসএল সংযুক্তিকরণকে না দেখে ব্যবসায়িক স্বার্থেই দরপত্র খতিয়ে দেখতে চাইছিল।

তৃতীয়ত, আইলিগের বদলি হিসেবে আইএসএলকে দেশের এক নম্বর লিগ করার কাজটা বেশ ভালো ভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এএফসি-র যোগ্যতামানের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম পরিবর্তন করে দ্রুত ছাড়পত্র এনে দিতে মাঠে নেমে পড়েছে স্বয়ং এআইএফএফ। এমন পর্যায়ে এএফসি-র যোগ্যতামান পেয়ে গেলে, আই লিগের দ্বিতীয় শ্রেণির লিগ হয়ে যাওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। তাই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে ভারতের প্রথম শ্রেণির লিগে খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইবে না কোনো প্রধানই।

স্পনসররাও দ্বিতীয় ডিভিশনের দলের জন্য একই পরিমাণ অর্থ ঢালতে মোটেই রাজি হবেন না। তাই সব দিক বিচার করেই আইএসএল-এর পথে পা বাড়াল ইস্টবেঙ্গল। ঘটনাক্রম যে ভাবে এগোচ্ছে তাতে ফেড কাপের ফাইনালের (২১ মে) পরে মোহনবাগান দুর্গাপুর বা কটকের দল হিসেবে খেলতে চেয়ে দরপত্র তুললে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। কলকাতার দল হিসেবে দরপত্র তোলার সম্ভাবনাটা কম আইএসএলের শর্তেই। কলকাতার দল হিসেবে দরপত্রের খসড়া চাইলেও পরে দল পেলেও আগামী দু’বছর শহরের বাইরে খেলতে হবে অন্য কোথাও হোম সিটি করে। খুব সঙ্গতকারণে আতলেতিকো দে কলকাতার কথা মাথায় রেখেই যে সিদ্ধান্ত। গোটা ঘটনাক্রম এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটা জানতে সামনের ক’টা দিন অপেক্ষা করতেই হবে।

নিজেদের অবস্থান থেকে না সরে আইএসএল-এর উপর চাপ বাড়ানোর জন্য যেমন অগণিত সমর্থকরা দুই প্রধানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তেমনই এক পক্ষ কিন্তু দাবি করছে আইএসএল-এর জন্য দরপত্রের খসড়া না তুললে তা হবে ‘ঐতিহাসিক ভুল’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here