সানি চক্রবর্তী:

টানা তিন ম্যাচে হার। যার মধ্যে রয়েছে ডার্বিতে পর্যুদস্ত হওয়া। আই লিগের শুরু থেকে খেতাব জয়ের দৌড়ে প্রবল ভাবে থাকার পরে শেষ ল্যাপে এসে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। হাতে থাকা আর তিনটে ম্যাচের প্রথমটায় তাই যেন তেন প্রকারে জিততে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল। শিবাজিয়ান্সের বিরুদ্ধে জিততে পারলে তবে খড়কুটো পাওয়ার মতো লাইফলাইনের সন্ধান পাবে লাল-হলুদ শিবির। আর কোনো রকম পদস্খলন হলে অবস্থাটা যে ঠিক কী হবে, ভাবতেই শঙ্কা লাগছে। বিশেষ করে শুক্রবার ক্লাব তাঁবুতে কোচ-ফুটবলার-কর্তাদের বিরুদ্ধে যে রকম বিক্ষোভ, প্রতিবাদ হয়েছে। আপাতত বিবাদ যাতে আর না বাড়ে তাই গোলরক্ষক টিপি রেহানেশকে দিন চারেকের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করার জেরে তাকে ঠিক শাস্তি দেবে ক্লাব, তা এখনও ঠিক হয়নি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বিতর্কের রেশ বয়ে দলের ফোকাস যাতে কোনো ভাবেই না নড়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন লাল-হলুদের শীর্ষকর্তারা।

শনিবার লিগের দৌড়ে সবার আগে থাকা মোহনবাগান ও আইজল নিজেদের ম্যাচে জিতেছে। ১৬ ম্যাচের শেষে তারা দাঁড়িয়ে ৩৩ পয়েন্টে। ১ ম্যাচ কম খেলা ইস্টবেঙ্গল রয়েছে ৬ পয়েন্টের পার্থক্যে। তাই শিবাজিয়ান্সকে হারালে তবেই পাটিগণিতের হিসেবে সূক্ষ্ম সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে তাদের। আর তাকিয়ে থাকবে হবে ২২ এপ্রিল আইজলের ঘরের মাঠে মোহনবাগানের সঙ্গে তাদের খেলার দিকে। ধুঁকতে থাকা শিবাজিয়ান্সকে হারাতে না পারলে, কিন্তু যাবতীয় আশা শেষ।

বাংলা নববর্ষে ঠিক এই পাহাড়প্রমাণ চাপ মাথায় নিয়েই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। সমর্থকদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ তাই মাথা পেতে নিয়ে তাদের মাঠ ভরানোর ডাক দিয়েছেন ট্রেভর জেমস মরগ্যান। আর সূক্ষ্ম সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “এখনও তিনটে ম্যাচ বাকি। ফুটবলে কিছুই অসম্ভব নয়।” হাইতিয়ান তারকা ওয়েডসন আনসেলমে আবার রীতিমতো ফুটছেন। বলে দিচ্ছেন, “ফুটবল কেরিয়ারে এমন ঘটনা আগেও প্রত্যক্ষ করেছি। সমর্থকদের আবেগ আমাদের তাতিয়ে দিয়েছে ভালো খেলতে। অপ্রীতিকর ঘটনাটা নিয়ে না ভেবে, সামনে দিকে তাকাতে হবে সবাইকেই।” এ দিকে ডার্বিতে লাল কার্ড দেখা উইলিস প্লাজা নির্বাসিত হওয়ায় তাকে শিবাজিয়ান্স ম্যাচে পাবে না ইস্টবেঙ্গল শিবির।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here