সানি চক্রবর্তী:

প্রথম দিনের অনুশীলন। আর সেখানেই বড়োসড়ো বিপত্তি। দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম দিনের অনুশীলনেই বড়োসড়ো চোট পেলেন মৃদুল বন্দোপাধ্যায়। অনুশীলনে কোচের চোট, এমনিতেই সচরাচর শোনা যায় না এ রকম ঘটনা। তার উপরে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই। দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না ইস্টবেঙ্গলের। আপাতত, এক মাসের বেশি সময়ে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে সদ্য বাংলাকে সন্তোষ এনে দেওয়া কোচকে। সরকারি ভাবে কোচের পদে তিনিই থাকলেও নতুন সহকারী কোচ হলেন রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়। ট্রেভর জেমস মরগ্যানের প্রাক্তন সহকারীর হাতেই আপাতত থাকছে ইস্টবেঙ্গলের কোচিং করানোর দায়িত্ব। সঙ্গে অবশ্যই থাকছেন পরামর্শদাতা কমিটির তিন সদস্য। এমনিতেই ডিফেন্ডারদের নিয়ে আলাদা করে বুধবার থেকেই নেমে পড়েছেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। আই লিগের বাকি দুই ম্যাচে দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও সামলাবেন হয়তো লাল-হলুদের এই ঘরের ছেলে। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েডসন-প্লাজাদের কোচিং করানোর দায়িত্ব বর্তাবে চলতি মরশুমে টালিগঞ্জ, মহমেডান স্পোর্টিংকে কোচিং করানো রঞ্জনের উপরে।

বুধবার সকালে ফুটবলারদের সামনে স্প্রিন্ট টেনে দেখানোর সময়ে মাঠে অসমান ঘাসে বুটের স্টাড আটকে পড়ে যান মৃদুল। বিশ্রী ভাবে পড়ে যাওয়ার পরেই বাঁ পায়ের গোড়ালিতে বেশ ব্যথা অনুভব করতে থাকেন মৃদুল। মাঠেই তাঁর সাময়িক চিকিৎসার পরে চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়। নতুন করে তৈরি করা ইস্টবেঙ্গল মাঠ প্রস্তুতির জন্য কতটা তৈরি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। পরে বাঁ হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বেঁধেই কাঁধে ভর দিয়ে এ দিন ক্লাব ছাড়েন মৃদুল। পরে এমআরআইয়ে জানা যায়, অ্যাকিলিস টেন্ডনে গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি। মাস খানেকের বেশি তাঁকে বিশ্রামের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার পরেই ফের নতুন করে কোচ বাছার কাজে নামতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে।

সন্ধ্যার দিকে রঞ্জন চৌধুরীকে সহকারী কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। বি লাইসেন্স থাকলেই এ ক্ষেত্রে চলে। তাই প্রাক্তন সহকারী কোচের হাতেই নতুন কোচ নিয়োগের পরের দিনেই দায়িত্ব হস্তান্তরিত করে দিতে বাধ্য হন লাল-হলুদ কর্তারা। বড়ো ক্লাবে মাত্র এক দিন কোচিং করানোর দুর্ভাগ্যটা আপাতত বয়ে বেড়াতে হবে মৃদুলকে। যদিও ক্লাব তাঁর পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছে।

এ দিকে, বুধবারই দুপুরে শেষ বারের জন্য ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে আসেন ট্রেভর জেমস মরগ্যান। সহকারী ওয়ারেন হ্যাকেটটে নিয়ে নিঃশব্দে এসে কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যান। সূত্রের খবর, নিজের চুক্তির প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পাওয়ার কথা জানাতেই এসেছিলেন তিনি। আগের বার সমর্থকদের আবেগঘন স্লোগানের মধ্যে চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন, এ বারে পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। ফাঁকা তাঁবুতে এসে নিজের পাওনা গন্ডা বুঝে যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরতে চাইছেন তিনি। তাঁবুতে এসে একটা শব্দও প্রচারমাধ্যমের সামনে খরচ না করলেও, এ ভাবে ছাঁটাই হওয়া যে তিনি মেনে নিতে পারেননি, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন ঘনিষ্ঠ মহলে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here