কল্যাণী: প্লাজা গোল শোধ দেওয়ার পর যেভাবে মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন, তখনই বোঝা গেছিল কতটা চাপে ছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ খালিদ জামিল। কিন্তু কলকাতা ফুটবলের চাপ যে তিনি বহন করতে পারছেন না, তা বোঝা যায়নি। বোঝা গেল মহামেডান ম্যাচের শেষে। মহামেডানের কোচ-কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করে বসলেন, যার রেশ কলকাতা ফুটবলে চলবে অনেক দিন।

ডিপান্ডা ডিকা, রানা ঘরামি, শেখ ফৈয়াজ আই লিগে মোহনবাগানের হয়ে খেলবেন। মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচের পর থেকেই তাই লালহলুদ শিবিরে কানাঘুঁষো চলছিল, সেই জন্যই ওই ম্যাচে যথেষ্ট গা লাগিয়ে খেলেননি ডিকা-রানা। ফৈয়াজ গোল করায় তাঁকে নিয়ে কথা ওঠেনি। কিন্তু শনিবার ম্যাচের শেষে সেই বিতর্ককে কয়েকগুন বাড়িয়ে একেবারে খোলা ময়দানে নিয়ে ফেললেন লালহলুদের মুম্বইকর কোচ।

আরও পড়ুন: নাটকীয় মিনিডার্বিতে দলের হার বাঁচিয়ে আলোয় ফিরলেন প্লাজা

এদিন ম্যাচের শেষে মহামেডান কর্মকর্তা বিলাল আহমেদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, মহামেডান মোহনবাগান ম্যাচের তুলনায় ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে অনেক ভালো খেলেছে। আর সেটা নাকি ইচ্ছাকৃত। খালিদের কাছে এই অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ বিলাল অন্য কর্মকর্তাদের তা বলেন। শুনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অন্য কর্তাদের মধ্যেও। ক্লাবের সহ সভাপতি দীপেন্দু বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “খালিদ ওর নিজের ক্লাব নিয়ে ভাবুক, সামনে ডার্বি আছে, আমাদেরটা আমরা বুঝে নেব”।

যদিও পরে সাংবাদিক বৈঠকে এসে এই মন্তব্যের কথা স্বীকার করেননি খালিদ। যদিও অস্বীকারও করেননি। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “অনেক কথা বলেছি, সব মনে নেই”।

খালিদের এমন কীর্তিতে অবাক কলকাতা ময়দানের সঙ্গে যুক্ত লোকজন। বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ হলেও সরাসরি এই ধরনের অভিযোগ কেউ করেন না। রেফারি বা আইএফএ-কে দোষারোপের মধ্যেই বিষয়টা সীমিত থাকে। তাছাড়া কর্মকর্তারা বললেও এমন ধরনের কথা কোচদের মুখে তেমন শোনা যায় না। অনেকেই মনে করছেন, কলকাতা মাঠের প্রত্যাশার চাপ নিতে না পেরেই এমন বেফাঁস মন্তব্য করে বসেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। এখন অপেক্ষা, এ নিয়ে মোহনবাগান কী প্রতিক্রিয়া দেয়।

1 মন্তব্য

  1. কোনো বেফাঁস মন্তব্য নয় একদম ১৬ আনা সঠিক কথা যারা ২ খেলা দেখেছেন তারাই ইটা জানেন |

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন