কলকাতা: অঞ্জন মিত্র মোহনবাগানের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই ময়দানে প্রশ্ন ঠিক কোন অঙ্কে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ টুটু বসুকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সচিব হতে দিলেন অঞ্জন মিত্র। দুজনের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বন্ধুত্বের তত্ত্ব ছড়ানো হলেও অনেকেই তা মানতে রাজি হচ্ছেন না। এমনকি অঞ্জনকে প্রভাবশালী মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে, এমন খবরকেও সম্পূর্ণ সত্য বলে মানতে পারছেন না অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, দুই বন্ধুর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, নির্বাচনের পর অঞ্জন মিত্র মোহনবাগানের সভাপতি হবেন। অনেকে বলছেন, মোহনবাগানের কোম্পানিতে শেয়ারের নতুন করে ভাগ বাঁটোয়ারা হওয়ার সম্ভাবনার কথা। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে বলছেন, এসবের চেয়ে অনেক বেশি ‘দামে’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অঞ্জন মিত্র।

বৃহস্পতিবার অবশ্য পৃথক পৃথক প্রেস বিবৃতিতে সেই বন্ধুত্বের তত্ত্বকেই সামনে এনেছেন অঞ্জন মিত্র ও টুটু বসু। ‘সমঝোতা’র তত্ত্ব উড়িয়ে বন্ধু অঞ্জনকে ধন্যবাদে ভরিয়ে দিয়েছেন টুটুবাবু। দেখে নিন দু’জনের প্রেস বিবৃতি।

তবে এই বিবৃতির পরও প্রশ্ন যাচ্ছে না। বন্ধুত্বের জন্যই যদি নির্বাচন থেকে সরে আসতে হয়, তাহলে তো সেটা অনেক আগেই করা যেত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হল কেন?

অঞ্জন দেরি করেছেন দর কষাকষির জন্য। আর সেসব মিটে যাওয়ার পর প্রকাশ্যে জানাননি, কারণ সেক্ষেত্রে নিজের গোষ্ঠীর অন্যরা তাঁকে পালাতে দিতেন না। এতদিন ধরে ভোটে লড়ার কথা বলে তিনিই নিজের গোষ্ঠীকে প্রস্তুত রেখেছিলেন। তাই শেষ দিনের নাটকটা করতে হয়েছে অঞ্জন মিত্রকে। প্রভাবশালী মহল থেকে চাপের তত্ত্ব বাজারে ছাড়তে হয়েছে। যখন সব জেনেও সময়ের অভাবে কিছু করার থাকবে না তাঁর গোষ্ঠীর অন্যান্যদের। নেতাকে ছাড়াই নির্বাচনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

এদিন অবশ্য টুটু বসু, নির্বাচনের পর অঞ্জনকে কোনো পদে দেখা যাবে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে মজার ব্যাপার হল, অঞ্জন ছাড়া বাকি ২১টি পদে নির্বাচনের ব্যাপারে টুটু-গোষ্ঠী কিন্তু যথেষ্ট সিরিয়াস। কারণ, তাঁরা জানেন, টুটু জিতে যাওয়ায়, তাঁর শিবিরের ভোটারদের ভোট দেওয়ার উৎসাহে ভাঁটা পড়তে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন