tutu-srinjoy-anajan

কলকাতা: ষাট বছরের বন্ধুত্ব কফিনবন্দি হয়ে গেছিল আগেই। এবার তাতে শেষ পেরেক পোঁতার অপেক্ষা। মোহনবাগান ক্লাব থেকে বসু পরিবারের পাততাড়ি গুটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ছে অঞ্জন-বাবুনরা।

প্রেসিডেন্ট পদ থেকে টুটু বসু পদত্যাগ করেছিলেন আগেই। তারপর গোষ্ঠী রাজনীতির জেরে ক্লাবের কর্মসমিতি থেকে পদত্যাগ করেন সৃঞ্জয় বসু-দেবাশিস দত্তরা। দেবাশিসের পদত্যাগ গ্রহণ করলেও সৃঞ্জয়ের পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করেনি শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের বর্তমান কর্মসমিতি। বলা হয়েছে সৃঞ্জয় বসু ক্লাবের স্পনসর। আর মোহনবাগান ক্লাব স্পনসরদের ‘ভগবান’-এর মতো দেখে। কিন্তু মুখে এ কথা বললেও তলে তলে অন্য ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলেছে অঞ্জন-গোষ্ঠী। শুধু ক্লাবের কর্মসমিতি নয়, টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিসরা ‘মোহনবাগান ইন্ডিয়া ফুটবল লিমিটেড’ সংস্থার বোর্ড থেকেও পদত্যাগ করেছেন। বোঝাপড়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে সেই পদত্যাগপত্রগুলি এখনও গ্রহণ করেননি বোর্ডের চতুর্থ শেয়ার হোল্ডার অঞ্জন মিত্র। কিন্তু তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। ৭ জুন টুটু বসুর হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের অফিসে বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। ওইদিন অঞ্জন মিত্র ওই সংস্থাকে প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাবলিক লিমিটেড করার প্রস্তাব দেবেন। যাতে সাধারণ সদস্যরা ক্লাবের শেয়ার কিনতে পারেন। শেয়ার শুধুমাত্র দুই পরিবার আর দেবাশিসের কাছে কুক্ষিগত না থাকে। টুটুবাবুরা যদি ওই প্রস্তাব না মানেন, তাহলে তিনজনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন অঞ্জনবাবু। সেক্ষেত্রে মোহনবাগানে টুটু-যুগ শেষ হয়ে যাবে। কারণ তখন ওই কোম্পানির অস্তিত্ব ধীরে ধীরে শেষ করে দিয়ে ‘মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব লিমিটেড’ নামে নতুন কোম্পানি দিয়েই কাজ চালাবেন অঞ্জন গোষ্ঠী। আর যদি অঞ্জনের প্রস্তাব টুটুরা মেনে নেন, তাহলেও ক্লাবের মালিকানায় তাঁদের একাধিপত্য থাকবে না।

এরকম পরিস্থিতিতে কী করার থাকছে বসু পরিবারের? তাঁরা যাদি কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড করার প্রস্তাব না মেনেও ক্লাবে থেকে যেতে চান, তাহলে তাঁদের আদালতে গিয়ে গোটা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করাতে হবে। অঞ্জন গোষ্ঠীর কর্তারা মনে করছেন সেটা সম্ভব নয়। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে টুটু-সৃঞ্জয়ের সামনে একটা পথই খোলা থাকছে, তা হল ভোটে জিতে ক্লাবের ক্ষমতা দখল করা। কিন্তু সেই ভোটের লড়াইতেও ‘পাবলিক লিমিটেড’ সংস্থার প্রস্তাব প্রধান অস্ত্র হবে অঞ্জন মিত্রদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here