বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: টুটু বসু-অঞ্জন মিত্রর দ্বন্দ্ব নিয়ে যোখন ময়দান সরগরম, তখন সকলের অগোচরে বৈঠক হয়ে গেছে দুই বন্ধুর। সেটা হয়েছে গত রবিবার, টুটুবাবুর হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের অফিসেই। কিন্তু কী হয়েছে, সেই বৈঠকে? তা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে, সেটা বেশ জটিল।

এমনিতেই ময়াদানের রাজনীতির সঙ্গে আমাদের চেনা রাজনীতির কোনো মিল নেই। ভোটের রাজনীতিতে দুই চূড়ান্ত বিরোধীও ময়দানে এক গোষ্ঠীতে থাকতে পারেন কিংবা উলটোটা। মোহনবাগানের বর্তমান রাজনীতিতে শাসক দলের হস্তক্ষেপের খবর আমরা করেছিলাম আগেই। পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ওপর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করানোর দায়িত্ব পড়লেও তিনি নতুন করে সামনে আসতে চান না। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন মুখোপাধ্যায় বর্তমানে ক্লাবে খুবই সক্রিয়। সব মিলিয়ে দুই বিবদমান গোষ্ঠীর সমঝোতা কোন পথে হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন সব মহলে। শাসক দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে। সেটা না পারলে তখনই হস্তক্ষেপের প্রশ্ন।

সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে টুটু বসুর সঙ্গে বৈঠকে অঞ্জন মিত্র জানিয়েছেন, তিনি ক্লাব থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি। সেক্ষেত্রে সৃঞ্জয় বসু ক্লাবের সচিব হলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তেমনটা হলে সহ সচিব হবেন অঞ্জন-কন্যা সোহিনী। ফুটবল সচিব হবেন বাবুন মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে যেটা জানিয়েছেন, তা হল, ক্লাবের কোনো পদে তিনি কোনো ভাবেই দেবাশিস দত্তকে মেনে নেবেন না।

প্রাক্তন অর্থসচিব দেবাশিস দত্তর বিরুদ্ধে অঞ্জনবাবুর তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। অঞ্জনের ধারণা, বিদেশি ফুটবলার আনার ব্যাপারে দেবাশিসের ভূমিকা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। যাই হোক, সৃঞ্জয়-দেবাশিসের বর্তমান সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই ফর্মুলা টুটুবাবু মেনে নিতে পারেন কিনা, তা সময়ই বলবে।

প্রশ্ন হল, প্রেসিডেন্ট কে হবেন? ঠিক হয়েছে, দুই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা কোনো সম্মাননীয় ক্লাব সদস্যকে প্রেসিডেন্ট করা হবে। তিনি প্রাক্তন রাজনীতিক হতে পারেন, বিচারপতি হতে পারেন কিংবা প্রাক্তন ফুটবলার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here